দোয়া, দান, মানবিকতা ও মানুষের পাশে নিরলস পথচলা এরশাদ নগরে জনসেবার এক পরিচিত মুখ
মানুষের আস্থার প্রতীক মোঃ কামরুল ইসলাম কামু
- আপডেট সময় : ০৯:৫৩:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৬৩৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীর এরশাদ নগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের অলিগলি, মসজিদ, বাজার, বস্তি কিংবা সাধারণ মানুষের আড্ডায় যে নামটি দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত তিনি মোঃ কামরুল ইসলাম কামু। কারও কাছে তিনি রাজনৈতিক নেতা, কারও কাছে সমাজসেবক, আবার অনেকের কাছে তিনি বিপদে-আপদে পাশে থাকা একজন আপনজন। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার ধারাবাহিকতা, দান-সদকা, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং অসহায় মানুষের প্রতি সহমর্মিতাই তাকে এলাকাবাসীর কাছে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক ১ নম্বর সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপি নেতা হিসেবে রাজনৈতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিনের পথচলা মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর। বর্তমানে তিনি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে কাজ করছেন। রাজনীতি নয়, মানুষের সেবাই যার কাছে বড়, কামরুল ইসলাম কামুর কাছে রাজনীতি কেবল পদ-পদবি কিংবা ক্ষমতার বিষয় নয়। তার বিশ্বাস রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং সমাজের কল্যাণে কাজ করা। তিনি প্রায়ই বলেন, “আমার চলার শক্তি আমার এরশাদ নগরবাসী। তাদের ভালোবাসায় আমি সিক্ত। সত্যের জয় সবসময়ই হয়।” এই বিশ্বাস থেকেই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখে নিজেকে সম্পৃক্ত রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
মৃত্যুসংবাদ পেলেই ছুটে যান, কামরুল ইসলাম কামুর মানবিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম দিক হলো, এরশাদ নগরে কোনো মানুষের মৃত্যু সংবাদ পেলে তিনি দ্রুত সেখানে উপস্থিত হওয়ার চেষ্টা করেন। মৃত ব্যক্তির পরিবার আর্থিক সংকটে থাকলে তাদের পাশে দাঁড়ান। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মৃত ব্যক্তির আত্মীয়-স্বজন দাফন-কাফনের প্রয়োজনীয় খরচ বহন করতে না পারলে তিনি নিজ পকেটের অর্থ দিয়ে কাফন, দাফন ও প্রয়োজনীয় আনুষঙ্গিক ব্যবস্থার সহযোগিতা করেন। তার কাছে এটি প্রচারের বিষয় নয়; বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ব বলে মনে করেন। এলাকার মানুষের ভাষায়, “মৃত্যুর সময় যখন আপনজনরাও অসহায় হয়ে পড়েন, তখন কামু ভাইকে পাশে পাওয়া যায়।” কেউ অসুস্থ হলে খোঁজ নেওয়া, কেউ মারা গেলে জানাজায় অংশ নেওয়া, শোকাহত পরিবারের পাশে দাঁড়ানো, এসব কর্মকাণ্ডও তার নিয়মিত সামাজিক সম্পৃক্ততার অংশ।
হাজার মানুষের জন্য খাবারের আয়োজন, যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে প্রথম আসেন সে দিনে বড় রাজনৈতিক সমাবেশে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষের আগমন হলে তাদের খাবারের বিষয়টি বিবেচনা করে তিনি কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বড় পরিসরে খিচুড়ি রান্নার ব্যবস্থা করেছেন। হাজার হাজার মানুষের জন্য খাবার প্যাকেট তৈরি ও বিতরণে নিজেও তদারকি করেছেন। তার এই উদ্যোগকে অনেকেই নিছক রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখেন।
এতিমদের নিয়ে কোরআন খতম ও দোয়া, এরশাদ নগরের আঞ্জুমানে হেদায়েতুল উম্মত মাদ্রাসা মাঠে প্রায় দেড় শতাধিক এতিম শিক্ষার্থীকে নিয়ে পবিত্র কোরআন খতম ও বিশেষ মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি মীর মাসউদুর রহমান কাসেমী। এ আয়োজনেও সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন কামরুল ইসলাম কামু। তার বক্তব্য ছিল, “দেশ, জাতি এবং মানুষের কল্যাণের জন্য দোয়া করা আমাদের সবার দায়িত্ব।” ধর্মীয় মূল্যবোধকে জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন তিনি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের চেষ্টা, তাহাজ্জুদ নামাজ এবং বিভিন্ন মসজিদে মুসল্লিদের সঙ্গে সময় কাটানোর কথাও তার পরিচিতজনেরা উল্লেখ করেন।
রমজানে ১০ থেকে ১৫টি মসজিদে ইফতার, রমজান মাসে এরশাদ নগরের ১ থেকে ৮ নম্বর ব্লকের বিভিন্ন মসজিদ, মোল্লাবাড়ির দুটি মসজিদ, আচারপট্টি ও টেকবাড়ীসহ প্রায় ১০ থেকে ১৫টি মসজিদে নিজ উদ্যোগে ইফতার আয়োজন করেন তিনি। প্রতিটি আয়োজনে বিপুলসংখ্যক মুসল্লির অংশগ্রহণ ঘটে। ইফতার শেষে দেশ, জাতি ও এলাকার শান্তি-সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়। পাশাপাশি রমজানে অসহায় পরিবারের মাঝে ছোলা, তেল, চিনি, ডাল, মুড়িসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। শীতকালে কম্বল ও শীতবস্ত্র এবং ঈদে সেমাই, চিনি, নারিকেল, পোলাওয়ের চাল, দুধসহ খাদ্যসামগ্রী ও নতুন কাপড় বিতরণের উদ্যোগও নেন।
কোরবানির ঈদেও অসহায়দের পাশে, ঈদুল আজহায় নিজ উদ্যোগে কোরবানি দিয়ে এতিম, দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে মাংস বিতরণ করেন তিনি। তার উদ্দেশ্য, অর্থের অভাবে যেন কোনো পরিবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। এভাবেই ধর্মীয় দায়িত্ব, দান এবং সামাজিক সহায়তাকে তিনি মানুষের কল্যাণের সঙ্গে যুক্ত করেছেন।
নিজেই মাঠে নেমে সামাজিক কাজ, কামরুল ইসলাম কামুর কর্মকাণ্ডের আরেকটি দিক হলো, তিনি শুধু অন্যকে দিয়ে কাজ করান না, প্রয়োজনে নিজেই মাঠে নেমে পড়েন। এলাকার ড্রেন পরিষ্কার, মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো, পরিচ্ছন্নতা অভিযানসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে তাকে সরাসরি অংশ নিতে দেখা গেছে। তার মতে, এলাকার উন্নয়ন শুধু জনপ্রতিনিধি বা প্রশাসনের একার দায়িত্ব নয়; নাগরিকদেরও দায়িত্ব রয়েছে।
খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক আদর্শের স্মৃতিচারণ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে কামরুল ইসলাম কামু তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন, গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম, রাজনৈতিক আদর্শ ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার ভূমিকা নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন। তার বক্তব্যে উঠে আসে দেশ, গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার রক্ষার রাজনীতির প্রতি তার নিজের বিশ্বাসের কথাও।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারের অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ঘটনার সঙ্গে তাকে জড়িয়ে কিছু পোস্ট ও বক্তব্য প্রচারের অভিযোগ উঠেছে। কোথাও কেউ তাকে আত্মীয়, ভাইপো বা ভাগ্নে পরিচয় দিয়ে কোনো ঘটনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও তিনি অভিযোগ করেছেন। সম্প্রতি কলেজ গেট এলাকায় গাড়িচালকদের সঙ্গে মারামারির একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে কামরুল ইসলাম কামু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রকাশ্যে এনে পরিচয় ও সম্পর্কের সত্যতা যাচাইয়ের আহ্বান জানান বলে তিনি জানিয়েছেন। তার বক্তব্য, “আমি আপনাকে চিনি না, আপনি আমাকে চেনেন কি না ? সত্যটা জনগণের সামনে বলুন। আমার নাম ব্যবহার করে কেউ কোনো অপরাধ করলে তার দায়ভার আমি নেব না।” তার দাবি, বিভিন্ন সময়ে অন্য ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের দায় তার ওপর চাপিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে। এমনকি এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে মারধরের ঘটনাতেও তার নাম জড়িয়ে পোস্ট দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, তার কোনো আত্মীয়-স্বজন যদি সত্যিই কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে আইন ও জনগণের ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। তবে মিথ্যা পরিচয় দিয়ে তার নাম ব্যবহার করে কাউকে হয়রানি বা বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
প্রতিহিংসার বদলে ক্ষমার রাজনীতি, অপপ্রচারের অভিযোগ থাকলেও প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ বা প্রতিহিংসামূলক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে তিনি আগ্রহী নন। তার ঘনিষ্ঠদের ভাষ্য, তিনি অনেক ক্ষেত্রেই বিষয়গুলোকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখেন এবং বলেন, মানুষ ভুল করতে পারে, তাই সত্যকে সামনে রেখে এগিয়ে যেতে হবে। তার বিশ্বাস, মানুষকে বিভক্ত করে নয়, মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সমাজ ও এলাকার উন্নয়ন সম্ভব।
মানুষের ভালোবাসাই তার শক্তি, এরশাদ নগরের অলিগলি দিয়ে হাঁটলে অনেকের মুখেই শোনা যায়, “কামু ভাই।” এই সম্বোধনের পেছনে শুধু রাজনৈতিক সম্পর্ক নয়; রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত যোগাযোগ ও সামাজিক সম্পৃক্ততা। কেউ তাকে নেতা বলেন, কেউ সমাজসেবক, কেউ বড় ভাই। কিন্তু তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার জায়গাটি তৈরি হয়েছে মূলত বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। মানবিকতা, ধর্মীয় মূল্যবোধ, দানশীলতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা, এই বৈশিষ্ট্যগুলোই মোঃ কামরুল ইসলাম কামুকে এরশাদ নগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের কাছে আলোচিত একটি নাম করে তুলেছে। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে সামনে তার রাজনৈতিক পথচলা কতটা সফল হবে, তা সময়ই বলে দেবে। তবে ইতোমধ্যে মানুষের পাশে থাকার যে ভাবমূর্তি তিনি তৈরি করেছেন, সেটিই তার সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পদ বলে মনে করেন তার সমর্থকরা। তার নিজের ভাষায়, “আমার শক্তি কোনো পদ নয়, আমার শক্তি আমার এরশাদ নগরবাসীর ভালোবাসা। সত্যের জয় সবসময়ই হয়।”
মানুষের পাশে থাকার এই ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে এরশাদ নগরের মানুষ হয়তো একদিন তাকে শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা হিসেবে নয়, দুঃসময়ের একজন মানবিক সহযাত্রী হিসেবেই স্মরণ করবে।
















