ঢাকা ০১:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পতাকা হাতে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন বেগম জিয়া, স্মরণসভায় ফখরুল

md younus
  • আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৬৮ বার পড়া হয়েছে




বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাকস্বাধীনতার আদর্শকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার রাজনৈতিক জীবন শুধু একটি দলের নয়, গোটা জাতির সংগ্রামের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ আয়োজিত শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (৫ জানুয়ারি)।
মির্জা ফখরুল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বাকস্বাধীনতাকে কার্যকরভাবে মুক্ত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই আদর্শ ও পতাকা ধারণ করেই বেগম খালেদা জিয়া দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। নানা সমালোচনা সত্ত্বেও বিএনপি দৃঢ়তার সঙ্গে এই ইতিহাসের কথা বলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব স্মরণ করেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, “৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। শুধু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেই দেওয়া হয় ৪৭টি মামলা। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেটি আদৌ কোনো মামলাই ছিল না।”
কারাবন্দি অবস্থায় বেগম জিয়ার দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল সেখানে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ত, ইঁদুর দৌড়াত। পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে উচ্চ আদালতে তা দশ বছরে নেওয়া হয়। বিচার বিভাগের সেই সময়কার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মিথ্যা মামলায় কারাগারে যাওয়ার সময় বেগম জিয়া হেঁটে গিয়েছিলেন, কিন্তু জামিনে মুক্তির সময় তাকে হুইলচেয়ারে করে ফিরতে হয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন ফখরুল।
বেগম জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জানাজা পুরোপুরি সুসংগঠিত না হলেও লাখ লাখ মানুষ কষ্ট করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার সেই দৃশ্য বিশ্ব দেখেছে। “তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো দেশের নেত্রী। সংকীর্ণতা তার রাজনীতিতে কখনো স্থান পায়নি,” বলেন ফখরুল।
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও বেগম জিয়া জাতির উদ্দেশে বার্তা দেন। সেই বার্তায় তিনি প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, সেই বক্তব্য পুরো বাংলাদেশকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেগম জিয়া আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার স্বপ্ন ও কাজগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপরই পড়েছে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার নানা ষড়যন্ত্র চলছে, সেগুলো মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে।
শোকসভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পতাকা হাতে দেশকে এগিয়ে নিয়েছিলেন বেগম জিয়া, স্মরণসভায় ফখরুল

আপডেট সময় : ০৮:৪২:৪১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ জানুয়ারী ২০২৬

বহুদলীয় গণতন্ত্র, মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাকস্বাধীনতার আদর্শকে সামনে রেখে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়ার নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। তার রাজনৈতিক জীবন শুধু একটি দলের নয়, গোটা জাতির সংগ্রামের প্রতীক বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আন্তর্জাতিক চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ আয়োজিত শোকসভায় এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় সোমবার (৫ জানুয়ারি)।
মির্জা ফখরুল বলেন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, মুক্তবাজার অর্থনীতি এবং বাকস্বাধীনতাকে কার্যকরভাবে মুক্ত করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। সেই আদর্শ ও পতাকা ধারণ করেই বেগম খালেদা জিয়া দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়েছেন। নানা সমালোচনা সত্ত্বেও বিএনপি দৃঢ়তার সঙ্গে এই ইতিহাসের কথা বলতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব স্মরণ করেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াইয়ে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী প্রাণ দিয়েছেন, গুমের শিকার হয়েছেন। তার ভাষায়, “৬০ লক্ষাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা দেওয়া হয়েছিল। শুধু বেগম জিয়ার বিরুদ্ধেই দেওয়া হয় ৪৭টি মামলা। যে মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, সেটি আদৌ কোনো মামলাই ছিল না।”
কারাবন্দি অবস্থায় বেগম জিয়ার দুর্দশার চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, যে কক্ষে তাকে রাখা হয়েছিল সেখানে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ত, ইঁদুর দৌড়াত। পাঁচ বছরের সাজা বাড়িয়ে উচ্চ আদালতে তা দশ বছরে নেওয়া হয়। বিচার বিভাগের সেই সময়কার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। মিথ্যা মামলায় কারাগারে যাওয়ার সময় বেগম জিয়া হেঁটে গিয়েছিলেন, কিন্তু জামিনে মুক্তির সময় তাকে হুইলচেয়ারে করে ফিরতে হয় বলে স্মরণ করিয়ে দেন ফখরুল।
বেগম জিয়ার জানাজার প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, জানাজা পুরোপুরি সুসংগঠিত না হলেও লাখ লাখ মানুষ কষ্ট করে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন। তার প্রতি মানুষের ভালোবাসার সেই দৃশ্য বিশ্ব দেখেছে। “তিনি শুধু বিএনপির নেত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন পুরো দেশের নেত্রী। সংকীর্ণতা তার রাজনীতিতে কখনো স্থান পায়নি,” বলেন ফখরুল।
তিনি আরও জানান, ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায়ও বেগম জিয়া জাতির উদ্দেশে বার্তা দেন। সেই বার্তায় তিনি প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধ নয়, ঐক্যের মাধ্যমে দেশ গড়ার আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুলের ভাষায়, সেই বক্তব্য পুরো বাংলাদেশকে নতুনভাবে অনুপ্রাণিত করেছিল।
বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেগম জিয়া আর ফিরে আসবেন না, কিন্তু তার স্বপ্ন ও কাজগুলো বাস্তবায়নের দায়িত্ব বর্তমান প্রজন্মের ওপরই পড়েছে। শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, বাংলাদেশকে পেছনে টেনে নেওয়ার নানা ষড়যন্ত্র চলছে, সেগুলো মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে।
শোকসভায় উপস্থিত ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, একটি সুন্দর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে সবার সম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি।