ফায়ার সার্ভিসের ২১ ইউনিটের সঙ্গে সেনাবাহিনী ও বিজিবির সহযোগিতা, ভবনের ভেতরে কেউ আটকে নেই বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ
প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬০৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের টঙ্গীর চেরাগ আলী এলাকায় অবস্থিত ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় চার ঘণ্টার প্রাণান্তকর চেষ্টায় বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে ফায়ার সার্ভিস। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ২১টি ইউনিটের পাশাপাশি সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা সহযোগিতা করেন। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা। আগুনের ব্যাপকতা বিবেচনায় বিভিন্ন স্টেশন থেকে পর্যায়ক্রমে একাধিক ইউনিট পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
ফায়ার সার্ভিস জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি, উত্তরা থেকে তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি, কুর্মিটোলা থেকে চারটি, রাজেন্দ্রপুর থেকে দুটি এবং পূর্বাচল থেকে তিনটি ইউনিট কাজ করে। এ ছাড়া মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডার আগুন নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে যুক্ত হয়। এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে ফায়ার সার্ভিসকে সহযোগিতা করতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে যোগ দেন। পাশাপাশি বিজিবিও সহায়তা করে। বুধবার দুপুরে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।
দুর্ঘটনাকবলিত এলাকা পরিদর্শন শেষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ সাংবাদিকদের জানান, কারখানার ভেতরে প্রতিষ্ঠানের কেউ আটকা পড়েছেন বলে তাঁদের কাছে কোনো তথ্য নেই। অগ্নিকাণ্ডে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী শ্বাসকষ্টজনিত কারণে অসুস্থ হয়েছেন বলেও তিনি জানান। মহাপরিচালক আরও বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে ২১টি ইউনিট কাজ করেছে। এ কাজে সেনাবাহিনী ও বিজিবি সহযোগিতা করেছে। আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও কারখানার ভেতরে জ্বলতে থাকা অংশগুলো পুরোপুরি নির্বাপণ করতে আরও সময় লাগতে পারে। তিনি জানান, আগুন সম্পূর্ণভাবে নেভাতে পরদিন সকাল পর্যন্ত সময় লাগার আশঙ্কা রয়েছে। টঙ্গীর অন্যতম শিল্পাঞ্চলে অবস্থিত ওষুধ কারখানায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আগুনের সূত্রপাত, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পরবর্তী তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের মাধ্যমে জানা যাবে।




















