নিজের অর্থে পোস্টার–ব্যানার, হ্যান্ড মাইক হাতে অলিগলি থেকে হাটবাজার, বিশ্বাস, ত্যাগ আর প্রতিজ্ঞার এক জীবন্ত উপাখ্যান
ধানের শীষ হাতে এক নারী: পিয়ারা আক্তার প্রিয়ার অদম্য পথচলা
- আপডেট সময় : ০৮:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২২২৪ বার পড়া হয়েছে

ভোরের আলো যখন ধীরে ধীরে এরশাদনগরের ঘিঞ্জি অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে, তখন অনেক ঘরেই দিন শুরু হয় জীবিকার দুশ্চিন্তায়। কিন্তু এই ভোরের নীরবতাকে ভেঙে দেয় এক নারীর কণ্ঠ, হ্যান্ড মাইকে ভেসে আসে ধানের শীষের ডাক। তিনি পিয়ারা আক্তার প্রিয়া।



ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনিকে বিজয়ী করার লক্ষ্যে দিন–রাত নিরলসভাবে মাঠে নেমেছেন তিনি। নিজের পকেটের টাকা খরচ করে পোস্টার, ব্যানার ছাপানো, লিফলেট বিতরণ, হ্যান্ড মাইক নিয়ে গণসংযোগ, সবকিছুই করছেন নিঃস্বার্থভাবে। কোরআনের বাণীর মতোই যেন তাঁর পথচলা “নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন।” নারী নেতৃত্বের সম্মিলিত শক্তি এই গণসংযোগ, মিছিল ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচিতে অতিথি ও সহযোগী নেতৃত্ব হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক মহিলা কাউন্সিলর নাসরিন আক্তার শিরিন, সাবেক বিএনপি সভাপতি মোঃ মুজিবুর মাস্টার। এছাড়াও দলের ত্যাগী ও সক্রিয় নারী নেত্রীদের মধ্যে ছিলেন, খুরশেদা, আঞ্জুমান, হাসিনা, অনামিকা, মাকসুদা ও শানু আরো অনেক মহিলা কর্মীরা।
পুরুষ নেতৃত্বের মধ্য থেকে অংশ নেন, মোঃ কামাল হোসেন, আজাদ, সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল), মোঃ নাজিম উদ্দিন, সাবেক সভাপতি (৪৯ নম্বর ওয়ার্ড কৃষক দল)। ও অন্যান্য পুরুষ দল। তাঁদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে পুরো এলাকা জুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর রাজনৈতিক আবহ।
শুরুর দিনগুলোতে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ছিলেন একা। কেউ অর্থ দেয়নি, কেউ নির্দেশ দেয়নি। কিন্তু বিশ্বাস যখন শক্ত হয়, তখন আল্লাহ নিজেই পথ খুলে দেন। ধীরে ধীরে সেই একা পথচলাই রূপ নেয় কাফেলায়, নারী–পুরুষ মিলিয়ে গড়ে ওঠে এক সংগঠিত আন্দোলন।
ইসলামি সাহিত্যিক বাণীর ভাষায়, “যে আল্লাহর ওপর ভরসা করে, তার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট।” বাজার থেকে অলিগলি, কোনো জায়গা বাদ নয় এরশাদনগর ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সম্পূর্ণ বাজার, হাটবাজার, বড় দোকান, ছোট দোকান, চায়ের স্টল, অলিগলি, একটিও বাদ রাখেননি তিনি। দোকানের ক্রেতা, পথচারী, শ্রমজীবী মানুষ, ব্যবসায়ী, সবার কাছেই ছিল তাঁর একটাই আহ্বান, “দেশের ভালো ভবিষ্যতের জন্য ধানের শীষে ভোট দিন।” তিনি জানান, ধানের শীষ বিজয়ী হলে শিক্ষিত তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারদের চাকরির ব্যবস্থা এবং কর্মীবান্ধব রাজনীতি প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হবে। ঘরে ঘরে কাজ পৌঁছে দেওয়াই হবে অগ্রাধিকার।
একটি উচ্চারণ, যা ইতিহাস হয়ে থাকে, মিছিল শেষে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া আবেগঘন কণ্ঠে বলেন, “আমার জীবন থাকতে, এমনকি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ধানের শীষের সাথেই থাকব। ইনশাল্লাহ বিএনপিকে বিজয়ী করে আনব। এতে যদি আমার জীবনও চলে যায়, যা করার, আমি তাই করব।” এই উচ্চারণে রাজনীতি কম, ইমান বেশি। ইসলামি দর্শনের ভাষায়, “সত্যের পথে যারা অবিচল থাকে, ইতিহাস তাদের নাম স্বর্ণাক্ষরে লেখে।” এক নারীর গল্প, এক প্রতীকের ইতিহাস রাজনীতি অনেক সময় সংখ্যার হিসাব। কিন্তু ইতিহাস গড়ে ওঠে ত্যাগে। পিয়ারা আক্তার প্রিয়ার গল্প তাই কেবল ভোটের অঙ্ক নয়, এটি বিশ্বাস, আত্মত্যাগ ও আদর্শের গল্প। হয়তো আগামী দিনে এরশাদনগরের চেহারা বদলাবে। কিন্তু মানুষ মনে রাখবে, এক সময় ধানের শীষ হাতে এক নারী এসেছিলেন, যিনি বলেছিলেন, “আমি আছি, যতক্ষণ শ্বাস আছে।”
রাজনীতিতে অনেক নেতা আসে যায়। কিন্তু কিছু মানুষ থাকেন, যারা প্রতীকের চেয়েও বড় হয়ে ওঠেন। পিয়ারা আক্তার প্রিয়া তেমনই একজন। যাঁর নাম লেখা থাকবে ধানের শীষের ইতিহাসে, ত্যাগের অক্ষরে।




















