ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

একজন কর্মীর চোখে দেখা রাজনীতি ও মানুষের গল্প

গাজীপুরের অলিগলিতে জিয়া সংসদের নীরব যাত্রা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৫১ বার পড়া হয়েছে




রোববারের সকালগুলো অন্য রকম। এগুলোতে সপ্তাহের ক্লান্তি থাকে না, থাকে নতুন করে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা। ভোরের আলো ওঠার আগেই আমি বেরিয়ে পড়ি। আমার হাতে লিফলেট, পিঠে ছোট একটি ব্যাগ, আর বুকে অদ্ভুত এক ভার। যার নাম দায়িত্ব। আমি কোনো নেতা নই। আমি সেই কর্মী, যার নাম সভার মাইকে উচ্চারিত হয় না। তবু আমি জানি, এই পথচলার ভেতরেই আমার পরিচয়।


গাজীপুর তখনো পুরোপুরি জাগেনি। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তায় কুয়াশা লেগে আছে। ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের গলিগুলো ধীরে ধীরে মানুষের শব্দে ভরে উঠছে। আমাদের সঙ্গে আছেন জিয়া সংসদ গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো: মাসুদ রানা যিনি সামনে হাঁটেন, কিন্তু প্রতিটি পায়ের শব্দ শোনেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম। যার কণ্ঠে সংগঠনের শৃঙ্খলা। সহ-সভাপতি কাজী মোঃ আবু সাঈদ নীরব কিন্তু অবিচল। সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন যার হাতে লিফলেট মানে শুধু প্রচার নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানো আশা। সহ-সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, সদস্য আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ শাহজাহান, যাদের কাজই তাদের পরিচয়। আরও আছেন অনেকে। সব নাম মনে থাকে না। কিন্তু সবাই একসাথে হাঁটলে নামের দরকারও পড়ে না।


গাজীপুরা, ২৭ এলাকা, শালিক চূড়া, এই নামগুলো এখন আমার গল্পের পৃষ্ঠা। আমরা দোকানের সামনে দাঁড়াই। রিকশাচালকের পাশে বসি। হাটবাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে শান্ত স্বরে বলি, “ভাই, ধানের শীষে ভোট দেবেন।” কেউ হাসে।
কেউ প্রশ্ন করে। কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “অনেক দেখেছি।” আমরা তর্ক করি না। আমরা শুধু শুনি। কারণ এই রাজনীতিতে শোনা সবচেয়ে জরুরি।
দুপুরের রোদ মাথার ওপর এসে পড়ে। ঘাম পিঠ বেয়ে নামে। পা ভারী হয়ে আসে। কিন্তু কেউ বলে না, থামি। কারণ আমরা জানি এই কষ্টটাই আমাদের ভাষা। কখনো ছোট মিছিল হয়। কখনো পাঁচজন মিলে চায়ের দোকানে বসে আলোচনা। কখনো হঠাৎ করেই কেউ বলে ওঠে “ইনশাল্লাহ ধানের শীষ জিতবে।” আমরা তখন চুপ করে মাথা নাড়ি। এই নীরবতাতেই থাকে সবচেয়ে বড় বিশ্বাস।
ধানের শীষ আমাদের কাছে কোনো পোস্টার নয়। এটি বাবার মাঠের স্মৃতি। মায়ের রান্নাঘরের নিশ্চয়তা। সন্তানের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। এই প্রতীকের জন্য আমরা হাঁটি। এই প্রতীকের জন্য আমরা কথা বলি। এই প্রতীকের জন্য আমরা প্রতিদিন নিজেদের একটু করে ছাড় দিই।
সন্ধ্যা নামে। রাস্তায় বাতি জ্বলে ওঠে। কিন্তু আমাদের পথ শেষ হয় না। আজ রোববার। কাল সোমবার। পরশু আবার নতুন দিন। কারণ আমরা জিয়া সংসদ। আমরা বড় কথা বলি না। আমরা চুপচাপ কাজ করি। ইতিহাস একদিন হিসাব নেবে, কে কত জোরে বলেছিল নয়, কে কতটা হেঁটেছিল। ধানের শীষের পথ দীর্ঘ। কিন্তু এই পথেই আমাদের বিশ্বাস।
ইনশাল্লাহ, এই পথের শেষেই থাকবে জনতার রায়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

একজন কর্মীর চোখে দেখা রাজনীতি ও মানুষের গল্প

গাজীপুরের অলিগলিতে জিয়া সংসদের নীরব যাত্রা

আপডেট সময় : ০৯:০৬:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রোববারের সকালগুলো অন্য রকম। এগুলোতে সপ্তাহের ক্লান্তি থাকে না, থাকে নতুন করে দাঁড়ানোর দৃঢ়তা। ভোরের আলো ওঠার আগেই আমি বেরিয়ে পড়ি। আমার হাতে লিফলেট, পিঠে ছোট একটি ব্যাগ, আর বুকে অদ্ভুত এক ভার। যার নাম দায়িত্ব। আমি কোনো নেতা নই। আমি সেই কর্মী, যার নাম সভার মাইকে উচ্চারিত হয় না। তবু আমি জানি, এই পথচলার ভেতরেই আমার পরিচয়।


গাজীপুর তখনো পুরোপুরি জাগেনি। ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের রাস্তায় কুয়াশা লেগে আছে। ৫১ নম্বর ওয়ার্ডের গলিগুলো ধীরে ধীরে মানুষের শব্দে ভরে উঠছে। আমাদের সঙ্গে আছেন জিয়া সংসদ গাজীপুর মহানগরের সভাপতি মো: মাসুদ রানা যিনি সামনে হাঁটেন, কিন্তু প্রতিটি পায়ের শব্দ শোনেন। সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম। যার কণ্ঠে সংগঠনের শৃঙ্খলা। সহ-সভাপতি কাজী মোঃ আবু সাঈদ নীরব কিন্তু অবিচল। সহ-প্রচার সম্পাদক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন যার হাতে লিফলেট মানে শুধু প্রচার নয়, মানুষের কাছে পৌঁছানো আশা। সহ-সাধারণ সম্পাদক নুর আলম, সদস্য আব্দুস সাত্তার ও মোহাম্মদ শাহজাহান, যাদের কাজই তাদের পরিচয়। আরও আছেন অনেকে। সব নাম মনে থাকে না। কিন্তু সবাই একসাথে হাঁটলে নামের দরকারও পড়ে না।


গাজীপুরা, ২৭ এলাকা, শালিক চূড়া, এই নামগুলো এখন আমার গল্পের পৃষ্ঠা। আমরা দোকানের সামনে দাঁড়াই। রিকশাচালকের পাশে বসি। হাটবাজারের ভিড়ে দাঁড়িয়ে শান্ত স্বরে বলি, “ভাই, ধানের শীষে ভোট দেবেন।” কেউ হাসে।
কেউ প্রশ্ন করে। কেউ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলে, “অনেক দেখেছি।” আমরা তর্ক করি না। আমরা শুধু শুনি। কারণ এই রাজনীতিতে শোনা সবচেয়ে জরুরি।
দুপুরের রোদ মাথার ওপর এসে পড়ে। ঘাম পিঠ বেয়ে নামে। পা ভারী হয়ে আসে। কিন্তু কেউ বলে না, থামি। কারণ আমরা জানি এই কষ্টটাই আমাদের ভাষা। কখনো ছোট মিছিল হয়। কখনো পাঁচজন মিলে চায়ের দোকানে বসে আলোচনা। কখনো হঠাৎ করেই কেউ বলে ওঠে “ইনশাল্লাহ ধানের শীষ জিতবে।” আমরা তখন চুপ করে মাথা নাড়ি। এই নীরবতাতেই থাকে সবচেয়ে বড় বিশ্বাস।
ধানের শীষ আমাদের কাছে কোনো পোস্টার নয়। এটি বাবার মাঠের স্মৃতি। মায়ের রান্নাঘরের নিশ্চয়তা। সন্তানের ভবিষ্যতের প্রশ্ন। এই প্রতীকের জন্য আমরা হাঁটি। এই প্রতীকের জন্য আমরা কথা বলি। এই প্রতীকের জন্য আমরা প্রতিদিন নিজেদের একটু করে ছাড় দিই।
সন্ধ্যা নামে। রাস্তায় বাতি জ্বলে ওঠে। কিন্তু আমাদের পথ শেষ হয় না। আজ রোববার। কাল সোমবার। পরশু আবার নতুন দিন। কারণ আমরা জিয়া সংসদ। আমরা বড় কথা বলি না। আমরা চুপচাপ কাজ করি। ইতিহাস একদিন হিসাব নেবে, কে কত জোরে বলেছিল নয়, কে কতটা হেঁটেছিল। ধানের শীষের পথ দীর্ঘ। কিন্তু এই পথেই আমাদের বিশ্বাস।
ইনশাল্লাহ, এই পথের শেষেই থাকবে জনতার রায়।