টঙ্গীতে দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ও সকল প্রয়াত আত্মার স্মরণে আবেগঘন মাহফিল
দোয়ার মোনাজাতে ইতিহাসের প্রতিধ্বনি
- আপডেট সময় : ০৭:০৫:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১৭২ বার পড়া হয়েছে

“কুল্লু নাফসিন জায়িকাতুল মাউত” প্রতিটি প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। এই চিরসত্যকে সামনে রেখে টঙ্গীর বুকে এক আবেগঘন, ধর্মীয় ও ইতিহাসঘেঁষা পরিবেশে স্মরণ করা হলো বাংলাদেশের অবিসংবাদিত নেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন দেশনেত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকে। একই সঙ্গে টঙ্গী থানা এলাকায় ইহকাল ত্যাগ করে পরলোকে গমনকারী সকল মুসলিম নর–নারীর রুহের মাগফেরাত কামনায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ দোয়া ও মাহফিল।

আমজাদ আলী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ, টঙ্গী প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই মাহফিলটি যেন শুধুই একটি রাজনৈতিক কর্মসূচি ছিল না এটি ছিল ইতিহাস, বিশ্বাস ও মানবিকতার এক সম্মিলিত প্রকাশ।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে। এরপর খতমে কোরআন সম্পন্ন করা হয়। মাদ্রাসার নিষ্পাপ শিশু শিক্ষার্থী, কিশোর হাফেজ ও আলেম সমাজের সুশ্রাব্য কণ্ঠে কোরআনের আয়াত ভেসে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণে। সেই তেলাওয়াত যেন মুহূর্তেই সবাইকে নিয়ে যায় স্মৃতি ও আত্মসমালোচনার এক গভীর জগতে।
ওলামায়ে কেরাম ও এলাকার মসজিদের ইমামগণ মোনাজাতে মহান আল্লাহর দরবারে আরজি জানান, হে আল্লাহ, আমাদের প্রিয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ক্ষমা করে দিন, তাঁর কবরকে জান্নাতের বাগানে পরিণত করুন। একই সঙ্গে টঙ্গী থানার প্রতিটি পরিবারে যাঁরা প্রয়াত হয়েছেন চেনা–অচেনা সকল মুসলিম আত্মাকে রহমতের চাদরে ঢেকে দিন।
মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। আবেগভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “খালেদা জিয়া কোনো একক সময়ের নেত্রী নন। তিনি ইতিহাসের একজন সাহসী সাক্ষী। স্বৈরাচারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে যিনি গণতন্ত্রের পতাকা হাতে রেখেছিলেন। তাঁর নাম এই দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। তিনি বলেন, “আজকের এই দোয়া মাহফিল প্রমাণ করে, মৃত্যু আমাদের আলাদা করে না, বরং একত্র করে। এই মাহফিল রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে ধর্ম, মানবতা ও ইতিহাসের এক মিলনমঞ্চ।”
সঞ্চালনায় ছিলেন টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক গাজী সালাউদ্দিন।
অনুষ্ঠানে টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানা বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, মহিলা দলের নেত্রীবৃন্দ, মাদ্রাসার শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ওলামায়ে কেরাম ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ হাজারো মানুষের উপস্থিতি এক অনন্য দৃশ্যের জন্ম দেয়। চোখে ছিল অশ্রু, হৃদয়ে ছিল দোয়া, আর কণ্ঠে ছিল ইতিহাসের স্মরণ।
মাহফিলের শেষ পর্বে দেশ ও জাতির শান্তি, সামাজিক সম্প্রীতি, গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর সাফল্য কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
এই দোয়া মাহফিল শুধু একটি দিনের আয়োজন নয়। এটি টঙ্গীর মানুষের স্মৃতিতে রয়ে যাবে একটি ইমানি ঐক্য, মানবিক দায়বদ্ধতা ও ইতিহাসের সাক্ষ্য হয়ে।




















