ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

চট্টগ্রামের সঙ্গে আত্মার ও আবেগের বন্ধন, পরিবর্তনের ডাক তারেক রহমানের

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৩৬ বার পড়া হয়েছে




আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে পরিবর্তনের বার্তা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক। এই শহর থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এখানেই তিনি শহীদ হয়েছেন। একই চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সালাম দিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। অনরা ক্যান আছেন?’ উত্তরে মাঠজুড়ে ভেসে আসে, ‘ভালা আছি।’
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষ এখন অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবে। তিনি বলেন, “সমালোচনা আর দোষারোপের রাজনীতি করে মানুষের পেট ভরবে না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।”
বিএনপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজ শর্তে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা পায়। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড গড়ে উঠেছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী দিনে আরও ইপিজেড করা হবে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। “অপরাধী যেই হোক, সে যদি আমাদের দলেরও হয়, ছাড় দেওয়া হবে না,” বলেন তিনি। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও একইভাবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
নারী ও তরুণদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে। তারেক রহমান বলেন, নারীকে কর্মহীন রেখে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি বলেন, গত পনেরো বছরে মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। তাই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়ি সমাবেশস্থলে পৌঁছালে করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথভাবে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

চট্টগ্রামের সঙ্গে আত্মার ও আবেগের বন্ধন, পরিবর্তনের ডাক তারেক রহমানের

আপডেট সময় : ১০:৩৯:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে চট্টগ্রাম থেকে পরিবর্তনের বার্তা দিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চট্টগ্রামের সঙ্গে তাঁর ও তাঁর পরিবারের সম্পর্ক শুধু রাজনৈতিক নয়, এটি আত্মার ও আবেগের সম্পর্ক। এই শহর থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এখানেই তিনি শহীদ হয়েছেন। একই চট্টগ্রামে বেগম খালেদা জিয়াকে দেশনেত্রী উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল।
চট্টগ্রাম নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তারেক রহমান। হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থকের উপস্থিতিতে তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় সালাম দিয়ে বক্তৃতা শুরু করেন, ‘আসসালামু আলাইকুম। অনরা ক্যান আছেন?’ উত্তরে মাঠজুড়ে ভেসে আসে, ‘ভালা আছি।’
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে যে স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। তাঁর ভাষায়, দেশের মানুষ এখন অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যেখানে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা, চিকিৎসা ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতভাবে পাবে। তিনি বলেন, “সমালোচনা আর দোষারোপের রাজনীতি করে মানুষের পেট ভরবে না। দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়।”
বিএনপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, বিএনপি যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে তারা সহজ শর্তে ঋণসহ প্রয়োজনীয় সুবিধা পায়। কৃষক ভালো থাকলে বাংলাদেশ ভালো থাকবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, খাল ও নালা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে খাল খনন কর্মসূচি হাতে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বিএনপির আমলেই চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড গড়ে উঠেছে, যেখানে লাখো মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আগামী দিনে আরও ইপিজেড করা হবে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি প্রসঙ্গে তারেক রহমান কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরা ছাড়া কোনো পরিকল্পনাই সফল হবে না। “অপরাধী যেই হোক, সে যদি আমাদের দলেরও হয়, ছাড় দেওয়া হবে না,” বলেন তিনি। অতীতে বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের উদাহরণ টেনে তিনি জানান, ভবিষ্যতেও একইভাবে আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করা হবে।
নারী ও তরুণদের গুরুত্বের কথাও উঠে আসে তার বক্তব্যে। তারেক রহমান বলেন, নারীকে কর্মহীন রেখে দেশ এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়। বিএনপি সরকার গঠন করলে নারীদের স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজানো, স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া এবং এক লাখ স্বাস্থ্যসেবাকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
সমাবেশে তিনি বলেন, গত পনেরো বছরে মানুষের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে এবং আবারও ষড়যন্ত্র চলছে। তাই তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনলে জনগণের প্রত্যাশিত পরিবর্তন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে।
দুপুর ১২টা ২১ মিনিটে তারেক রহমানের গাড়ি সমাবেশস্থলে পৌঁছালে করতালি ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তিনি মঞ্চে ওঠেন এবং হাত নেড়ে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি যৌথভাবে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করে।