শিক্ষকদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রতিশ্রুতি — “ইনশাআল্লাহ, শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান নিশ্চিত করা হবে”
গাজীপুর-৬ আসনে এমপি পদপ্রার্থী প্রভাষক বশির উদ্দিন
- আপডেট সময় : ০৬:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫
- / ২৩০৮ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৬ আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী, গাজীপুর জেলা ও মহানগর যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপির আহ্বায়ক প্রভাষক বশির উদ্দিন টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকার প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্মানিত শিক্ষকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে গাজীপুর প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশন, টঙ্গী পশ্চিম থানা। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ (প্রতিষ্ঠাতা, আল-হেলাল স্কুল) এবং অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জনি (ভাদাম হাজী দেওয়ান আলী উচ্চ বিদ্যালয়)।
বশির উদ্দিনের রাজনৈতিক যাত্রা ও পরিবার শিক্ষা ঐতিহ্য, প্রভাষক বশির উদ্দিন শুধু একজন রাজনীতিক নন, তিনি একজন প্রবাসী এবং শিক্ষানুরাগী পরিবার থেকে উঠে আসা মানুষ। তার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের লজিং, ছাত্র-ছাত্রীদের আশ্রয় এবং লেখাপড়ার সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য পরিচিত ছিল। তার পিতা-মাতা এবং পূর্বপুরুষেরা সবসময় শিক্ষকদের সম্মান করেছেন, দরজা খুলে দিয়েছেন অসংখ্য শিক্ষকের জন্য।
বশির উদ্দিন বলেন—“আমাদের পরিবার শিক্ষার পরিবারের অংশ। অতীতে আমাদের বাসায় অসংখ্য শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী লজিং করে থেকেছেন, আমরা তাদের সম্মান দিয়েছি, সাহায্য করেছি। সেই শিক্ষা ঐতিহ্য আজও আমাদের পরিবারে জীবিত।”
মানবিক দিক, সভায় উপস্থিত সবাই লক্ষ্য করেন, প্রভাষক বশির উদ্দিন অনুষ্ঠানে শুধু আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য নয়, বরং আশেপাশে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ, এমনকি ভিক্ষুক ও অসহায়দেরও খাবারের ব্যবস্থা করে খাওয়ান।
এই আচরণ উপস্থিতদের মুগ্ধ করে। অনেকে মন্তব্য করেন, “এমন মানবিক ব্যবহার সত্যিই বিরল, যেখানে সবাই সমানভাবে সম্মান ও ভালোবাসা পায়।”
প্রধান অতিথির বক্তব্য, প্রভাষক বশির উদ্দিন শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন—“ইনশাআল্লাহ, শিক্ষকদের সকল মৌলিক চাহিদা পূরণ করা হবে। সমাজে শিক্ষকদের সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করা হবে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বন করার জন্য সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিগত ১৭ বছরের সকল ঘাটতি পূরণ করা হবে। সংসদে প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয় গুরুত্বের সাথে আলোচনায় আনা হবে।”
তিনি আরও প্রতিশ্রুতি দেন, গাজীপুরের সব প্রাইভেট স্কুল রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হবে, সরকারিভাবে অনুদান ও সুবিধা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে মাদকমুক্ত পরিবেশ ও মানসম্মত শিক্ষা বিস্তার নিশ্চিত করা হবে।
উপস্থিত পরিষদ সদস্যবৃন্দ, সভাপতি: মোহাম্মদ হেদায়েত উল্লাহ, আল-হেলাল স্কুল, সিনিয়র সহ-সভাপতি: মোহাম্মদ আরিফ হোসেন, কনফিডেন্স স্কুল এন্ড কলেজ, সাধারণ সম্পাদক: মোঃ মজিবুর রহমান, নীড এডুকেয়ার একাডেমি, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক: মোহাম্মদ লুৎফর রহমান লিটন, হাজী এম এ গনি উচ্চ বিদ্যালয়, অর্থ সম্পাদক: মোঃ হুমায়ূন আহমেদ, শাপলা মডেল স্কুল, সাংগঠনিক সম্পাদক: মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জনি, ভাদাম হাজী দেওয়ান আলী উচ্চ বিদ্যালয়, শিক্ষা বিষয় সম্পাদক: মোহাম্মদ হানিফ মোল্লা, আলহাজ্ব মহরম খান বিদ্যানিকেতন, ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক: মোহাম্মদ ওসমান, সাতাইশ মাতৃসিয়া একাডেমি এন্ড হাই স্কুল, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক: মীর তাহমিনা আফরোজ, হাজী মোহাম্মদ আলী মডেল স্কুল, ক্রিয়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক: মোঃ আব্দুর রশিদ, আব্দুল আউয়াল বিদ্যানিকেতন, দপ্তর সম্পাদক: মোঃ বাচ্চা মিয়া, ইকরা ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড টেকনিক্যাল কলেজ, প্রচার সম্পাদক: মোহাম্মদ রফিকুল হাসান, গুঠিয়া আদর্শ বিদ্যালয়, সদস্য: এডভোকেট মোঃ আলমগীর হোসেন (উচ্ছাস শিশু কানন), কলমেশ চন্দ্র মন্ডল, খৈরতুল মুন্সির আলী স্কুল এন্ড কলেজ।
উপস্থিত প্রধান শিক্ষকবৃন্দ, সভায় উপস্থিত ছিলেন-মুনসুর রহমান (হাজী এম এ গনি উচ্চ বিদ্যালয়), মোঃ সাবধান আলী মন্ডল (আইডিয়াল স্কুল), এস.এ সম্রাট (নিউ বলোন স্কুল), আল আমিন আহমেদ (দি চাইল্ড কেয়ার একাডেমি), মারজিয়া (কফিল উদ্দিন মেমোরিয়াল একাডেমি), মাফুজা বেগম (কর্তুল মনসুর আলী স্কুল), মোঃ সাইফুল (টঙ্গী ক্রিকেট একাডেমি), শেখ শামীম (সানরাইজ স্কুল), ফেরদৌসী বেগম (শ্রমিক শিশু স্কুল), মোঃ রফিকুল ইসলাম (মেরিট স্কুল), মোঃ আলী (জিনিয়াস স্কুল), কাজী আব্দুল বাতেন (মাস্টার পিস), ওসমান মিয়া (সাতাইশ মাতৃসিয়া একাডেমি), আশিক আহমেদ (ডেফোডিল হাই স্কুল), সেলিম পারভেজ (আশা মনি মডেল একাডেমি), শিল্পী বেগম (কতকলি স্কুল), মোঃ কোভিদ চৌধুরী (হাজী রওশন আলী একাডেমি) এবং প্রাইভেট স্কুল এসোসিয়েশনের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও মালিকবৃন্দ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত সদস্য সচিব মোহাম্মদ সেলিম কাজল।
সমাপনী বিশ্লেষণ, এই মতবিনিময় সভা শুধু শিক্ষকদের দাবি ও প্রত্যাশা নিয়েই সীমাবদ্ধ ছিল না; বরং এতে ফুটে উঠেছে প্রভাষক বশির উদ্দিনের পারিবারিক শিক্ষানুরাগী ঐতিহ্য, মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং রাজনৈতিক অঙ্গীকার।
তিনি বারবার জোর দিয়ে বলেছেন-“আমি আজীবন শিক্ষকদের পাশে ছিলাম, আছি এবং থাকব। এমপি হলে শিক্ষকদের প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে সংসদে শক্তভাবে আওয়াজ তুলব।” শিক্ষকরা তাঁর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, নির্বাচনে সুযোগ পেলে তাঁরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন। এ সভাটি প্রমাণ করেছে— শিক্ষা, শিক্ষক এবং মানবিক মূল্যবোধ দিয়েই একজন জননেতা জনগণের হৃদয় জয় করতে পারেন।




















