যেখানে দোয়ায় মুখর শিশুরা সুস্থতার আশায় আসে, সেখানে একবিন্দু পানির জন্য সংগ্রাম — স্থানীয়দের আহ্বান, মানবতার খাতিরে এগিয়ে আসুক সমাজের বিবেকবানরা।
এরশাদনগর যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতালে পানির তীব্র সংকট — একটিমাত্র কলের জন্য মানবিক আবেদন
- আপডেট সময় : ১০:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
- / ২২৩৫ বার পড়া হয়েছে


“মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তি সর্বোত্তম, যে মানুষের উপকারে আসে।” (হাদিস: আল-মুজামুল আওসাত)। গাজীপুর মহানগরের এরশাদনগরে অবস্থিত যাকাত বোর্ড পরিচালিত শিশু হাসপাতাল দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও অসহায় শিশুদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছে। ১৯৮৬ সালের ১৮ই ডিসেম্বর এই হাসপাতালটি উদ্বোধন করেন তৎকালীন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি আলহাজ্ব হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এই হাসপাতালটি এলাকার শিশুস্বাস্থ্য সেবার একমাত্র নির্ভরস্থল হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
বর্তমানে এখানে শিশু ও মাতৃস্বাস্থ্য সেবা দিচ্ছেন, ডা. কামরুন নাহার সুমি, এমবিবিএস (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়), পিজিটি (শিশু), এফসিপিএস (পার্ট-১, গাইনি ও অবস), পিজিপিএন (শিশু স্বাস্থ্য ও পুষ্টি), এবং ডা. মাহবুবা খাতুন, যিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন।
প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন শিশু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসে, পাশাপাশি আরও ৫০ থেকে ১০০ রোগী হোমিও বিভাগে সেবা পান। দীর্ঘ চার দশক ধরে এই হাসপাতাল হাজারো শিশুর আরোগ্য ও আশার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে অসংখ্য মায়ের মুখে ফুটেছে হাসি, শিশুদের জীবনে ফিরেছে প্রাণের আলো।

অত্যন্ত দুঃখজনক বাস্তবতা হলো ! এত বছরের নিরলস চিকিৎসাসেবা ও মানবিক উদ্যোগ থাকা সত্ত্বেও এখনো এই হাসপাতালের নিজস্ব কোনো পানির কল বা ডিপ টিউবওয়েল নেই। চিকিৎসক, সেবিকা ও অভিভাবকদের প্রতিদিন দূরদূরান্ত থেকে কলসি ও বোতলে পানি এনে কাজ চালাতে হয়। শিশুদের ওষুধ প্রস্তুত করা, দুধ ও খাবার তৈরিতে বিশুদ্ধ পানির প্রয়োজন পড়ে প্রতিনিয়ত। একইসাথে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি রক্ষা করতেও পানির ঘাটতি একটি গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমি সমস্ত জীবন্ত জিনিস পানি দ্বারা সৃষ্টি করেছি।” (সূরা আল-আম্বিয়া: ৩০)। এই আয়াত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়। পানির ব্যবস্থা করা কেবল সামাজিক নয়, বরং ধর্মীয় দায়িত্বও বটে। যেখানে অসুস্থ শিশুরা আরোগ্যের আশায় আসে, সেখানে একবিন্দু বিশুদ্ধ পানিও না পাওয়া, তা মানবতার জন্য এক গভীর বেদনা।
হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্তরা ও এলাকাবাসী একাধিকবার গাজীপুর সিটি করপোরেশন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এনজিও সংস্থা, জেলা প্রশাসন ও সিভিল সার্জন অফিসের কাছে আবেদন করেছেন একটি পানির কল স্থাপনের জন্য।
তবে এখনো সেই আবেদন বাস্তবায়ন হয়নি।
এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলেন, “এটি কোনো রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত দাবি নয়, এটি একটি মানবিক আবেদন।
একটি পানির কল মানে শত শিশুর মুখে হাসি, শত মায়ের চোখে তৃপ্তির অশ্রু।” রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি তৃষ্ণার্তকে পানি পান করায়, আল্লাহ তাকে জান্নাতের পানি পান করাবেন।” (সহিহ বুখারি)
তাই সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ, সরকারি কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিষ্ঠান কিংবা দানশীল নাগরিক, যদি একসাথে এগিয়ে আসেন, তবে এটি হবে এক স্থায়ী সাদকা (সদকায়ে জারিয়া), এক চিরস্থায়ী মানবিক উদাহরণ।
চলুন আমরা সবাই একসাথে বলি,
“মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।”
একটি পানির কল স্থাপন শুধু একটি যন্ত্র নয়,
এটি হবে শত শিশুর প্রার্থনা, শত মায়ের শান্তির নিঃশ্বাস।
এরশাদনগরের যাকাত বোর্ড শিশু হাসপাতাল গাজীপুর মহানগরের মানবিক চেতনায় এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এখন প্রয়োজন,প্রশাসন, সিটি করপোরেশন ও সমাজের বিবেকবানদের কার্যকর পদক্ষেপ। একটি কল স্থাপন মানেই মানবতার তৃষ্ণা মেটানো, ভবিষ্যতের প্রজন্মকে বাঁচানো।



















