এরশাদনগরে নির্মম হামলায় গুরুতর আহত ইলেকট্রিশিয়ান রনি: পরিবারের আহাজারি, অপরাধীদের গ্রেপ্তারে দাবি
- আপডেট সময় : ১২:৩৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ জুন ২০২৫
- / ২৮০৩ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর এলাকায় এক ইলেকট্রিশিয়ানকে প্রকাশ্য রাস্তায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে একদল দুর্বৃত্ত। বর্তমানে আহত মোঃ রনি মিয়া (৩২) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১০১ নম্বর ওয়ার্ডের ১৯ নম্বর বেডে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এ ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনা ঘটেছে গত ১৪ এপ্রিল ২০২৫, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে। ভুক্তভোগী রনি মিয়া ওই সময় তাঁর নানির বাসার পাশেই এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লকে চা খাচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ একদল সশস্ত্র যুবক রনিকে ঘিরে ফেলে এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। অভিযোগ মতে, পরিকল্পিতভাবে প্রথম অভিযুক্ত এক ব্যক্তি (যার নাম প্রতিবেদনে গোপন রাখা হলো) এর নেতৃত্বে এ হামলা চালানো হয়।

অভিযোগে বলা হয়, দ্বিতীয় অভিযুক্ত চাপাতি দিয়ে রনির মাথায় কোপ মারলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর একে একে অন্যান্য অভিযুক্তরা চোরা, চাপাতি, সুইচগিয়ার ও লোহার রড দিয়ে রনির গলায়, পেটের বাম পাশে, কাঁধে ও হাঁটুর নিচে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। হামলার একপর্যায়ে রনির পরিহিত প্যান্টের পকেটে থাকা প্রায় ৭,২০০ টাকা এবং একটি রেডমি মোবাইল (সিম: ০১৮০৪৬৯৫৬৮১, আনুমানিক মূল্য ১৭,৫০০ টাকা) ছিনিয়ে নেয়া হয়।
স্থানীয়রা রনির চিৎকার শুনে ছুটে এলে দুর্বৃত্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত রনিকে প্রথমে শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢামেক হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।
রনির বড় ভাই মোঃ নাছির মিয়া জানান, “আমার ভাই এখন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছে। তার সারা শরীরে জখম। ডাক্তাররা বলছে অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। অথচ হামলার ৭ দিন পার হলেও মূল অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
এজাহারে মোট ৯ জনের নামোল্লেখসহ ৩/৪ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। তাদের সকলেই এরশাদনগরের ২, ৩ ও ৪ নম্বর ব্লকের বাসিন্দা বলে জানা গেছে। অভিযোগে আরো বলা হয়, এই গ্যাং পূর্বেও এলাকায় একাধিক চুরি, ছিনতাই, হাইজ্যাকিং, ও মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ছিল এবং এলাকাবাসীর সামাজিক কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছিল।
ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে টঙ্গী পূর্ব থানায় এজাহার দায়ের করা হয়, যা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৪ ধারায় রুজু হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর এহতেশাম (বিপি-৯১১৯২২৩২২৬), যিনি জানিয়েছেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুতর। আমরা তদন্ত শুরু করেছি, তবে এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।”
অভিযুক্তদের একাংশ ঘটনার পরপরই এলাকায় মানববন্ধন করে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে জনমত বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। এ নিয়ে এলাকায় বিরাজ করছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। রনির মা-বাবা অসহায়ভাবে কান্নাকাটি করে বলেন, “এদেশে কি বিচার হবে না? আমরা কার কাছে যাব? যারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলতে চেয়েছে, তারা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়!”
এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছে, দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক এবং আহত রনির চিকিৎসার ব্যয়ভার রাষ্ট্র গ্রহণ করুক।




















