খরতৈল জমজম টাওয়ার থেকে সাতাইশ, দাড়াইল, ভাদাম, বড়দেওড়া হয়ে টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানা পর্যন্ত গাড়িবহর, সালাম, দোয়া আর স্লোগানে মুখর জনপদ পিতার অসমাপ্ত কাজ সম্পূর্ণ করার অঙ্গীকারে জনতার আবেগঘন সাড়া
ঈদের চেয়েও বড় উৎসবে রূপ নিল ধানের শীষের প্রচারণা হাজারো মানুষের ভালোবাসায় রাজপথ কাঁপালেন গাজীপুর-২ আসনের এমপি পদপ্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১১৩ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতি কখনো কেবল ভোটের অঙ্ক নয়। কখনো কখনো রাজনীতি হয়ে ওঠে উত্তরাধিকার, হয়ে ওঠে দায়, হয়ে ওঠে মাটির সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক। গাজীপুর-২ আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের এমপি পদপ্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির নির্বাচনী প্রচারণা ছিল ঠিক তেমনই এক অধ্যায়, যেখানে রাজপথ কথা বলেছে, মানুষ চোখে চোখ রেখে বিশ্বাস দিয়েছে, আর ইতিহাস যেন নতুন করে হাঁটতে শুরু করেছে। জনসমুদ্রের শুরু, জমজম টাওয়ার থেকে সকাল গড়িয়ে বিকেল। খরতৈল জমজম টাওয়ার প্রাঙ্গণেই স্পষ্ট হয়ে যায়, আজকের দিনটা আলাদা। ৫১নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়, সাতাইশ চৌরাস্তা (৫১নং ওয়ার্ড), সাতাইশ ৫২নং ওয়ার্ডের গুটিয়া ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ গেইট, একটার পর একটা স্থানে নামে মানুষের ঢল। এরপর দাড়াইল কবরস্থান ঈদগাহ, তিনরাস্তার মোড়, তিলাগাতী মুদাফা প্রবর্ত সিটির গেইট, ভাদাম তিনরাস্তা, বড়দেওড়া ফকির মার্কেট, নিউব্লোন স্কুল মোড়, রুপা প্যাকেজিং, মোক্তার বাড়ি রোড, প্রতিটি জায়গায় যেন অপেক্ষা করছিল মানুষ।
গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে এক নেতা, হাজারো চোখ, গাড়িবহর এগিয়ে চলে। গাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে দু’হাত নেড়ে সালাম জানাচ্ছেন ধানের শীষের প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনি। কেউ হাত তোলে, কেউ চোখ ভিজিয়ে তাকায়, কেউ স্লোগানে রাজপথ কাঁপায়। টঙ্গীর পূর্ব ও পশ্চিম থানার বিএনপির সভাপতি, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সবার উপস্থিতিতে এই প্রচারণা রূপ নেয় এক বিশাল জনসমাবেশে।
বক্তৃতায় উঠে আসে উত্তরাধিকার ও ত্যাগ। প্রতিটি স্থানে সংক্ষিপ্ত অথচ হৃদয়ছোঁয়া বক্তব্যে এম. মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “আমার বাবা আপনাদের জন্য তাঁর জীবনের অর্ধেক কাজ করে গেছেন। আর আমি আজ এসেছি বাকি কাজ সম্পূর্ণ করতে।” তিনি আবেগঘন কণ্ঠে উল্লেখ করেন, “আওয়ামী লীগের সময় আমার বাবাকে অমানুষিক নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছিল। কিন্তু তাঁর আদর্শ মুছে যায়নি।”
তিনি আরও বলেন, “আপনারা আমার বাবাকে চেনেন। তিনি ছিলেন অধ্যাপক এম. এ. মান্নান, এই এলাকার ধর্মমন্ত্রী, এই এলাকার প্রথম মেয়র। ক্ষমতার জন্য নয়, মানুষের জন্য তিনি রাজনীতি করেছিলেন।” দৃঢ় কণ্ঠে তাঁর আত্মপরিচয়, “আমি তাঁরই সন্তান। আমি এই এলাকার সন্তান। আমি এম. মঞ্জুরুল করিম রনি।” তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আপনারা নির্বাচন পর্যন্ত আমার সঙ্গে কাজ করবেন, আর আমি কথা দিচ্ছি, নির্বাচনের পর টানা পাঁচ বছর আপনাদের পাশে থেকে কাজ করব।” নির্বাচনের পরে উন্নয়ন, শিক্ষা, চিকিৎসা, কর্মসংস্থান এবং মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার রূপরেখাও তুলে ধরেন তিনি।
তারেক জিয়ার আহ্বান! ইমানের শক্তিতে ভোট বক্তব্যে উঠে আসে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর নির্দেশনা, “তিনি বলেছেন, তাহাজ্জুদের নামাজ পড়ে আল্লাহর কাছে দোয়া করে ভোটকেন্দ্রে যেতে।”
রনি বলেন, “আমরা তাই করব ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ আমাদের সৃষ্টি করেছেন মানুষের সেবা দেওয়ার জন্য। আল্লাহ তায়ালা যেন আমাদের সেই সেবা করার তৌফিক দান করেন।” কোরআনের বাণীর মতো শান্ত অথচ দৃঢ় উচ্চারণে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেয় তাঁর কথা।
১৯৯১-এর স্মৃতি, ভবিষ্যতের প্রত্যয় তিনি বলেন, “১৯৯১ সালে যেভাবে বিএনপি বিজয় অর্জন করেছিল, ঠিক সেভাবেই এবার আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হব, ইনশাআল্লাহ।” কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর আহ্বান, “আপনারা সবাই আমার হয়ে কাজ করবেন। ঘরে ঘরে যাবেন। সবাইকে ভোট দেওয়ার দাওয়াত দেবেন।” মাটির সন্তানের স্পষ্ট অবস্থান।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অনেকেই আমার সঙ্গে নির্বাচন করছে, কিন্তু তারা এই এলাকার ভোটারই না। তারা নিজের ভোটও দিতে পারবে না। তাহলে তারা এই আসন থেকে নির্বাচন করবে কীভাবে?” এরপর দৃঢ় স্বরে বলেন, “আপনারা আমাকে চেনেন। আমি এই এলাকার মানুষ। আমার বাবাকেও চেনেন।”

মানবিক রাজনীতির দৃশ্য, শিশুদের পাশে রনি এই প্রচারণার মাঝেই এক মানবিক দৃশ্য সবার চোখে পড়ে। পথে পথে অসহায় শিশুদের আদর করতে দেখা যায় এম. মঞ্জুরুল করিম রনিকে। তিনি শুধু আদরেই থেমে থাকেননি, অনেক অসহায় শিশুর লেখাপড়া ও ভরণপোষণের দায়িত্ব নেওয়ার কথাও ঘোষণা করেন। এমনকি বহু এতিম শিশুকে নিয়মিত সাহায্য-সহযোগিতা করছেন বলেও জানান উপস্থিত নেতাকর্মীরা। এই দৃশ্য যেন প্রমাণ করে, এটি কেবল ভোটের রাজনীতি নয়, এটি সেবার রাজনীতি।
স্লোগান, উল্লাস, ঈদের আনন্দ বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে স্লোগানে স্লোগানে কেঁপে ওঠে এলাকা। হাজার হাজার কর্মীর উপস্থিতিতে এই প্রচারণা হয়ে ওঠে এক উৎসব। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ এসেছে, দেখতে এসেছে, শুনতে এসেছে, বিশ্বাস দিতে এসেছে। অনেকেই বলছেন, “এটা নির্বাচন নয়, এটা যেন ঈদের চেয়েও বড় আনন্দ।”
এই নির্বাচনী প্রচারণা প্রমাণ করে দিল, গাজীপুর-২ কেবল একটি আসন নয়, এটি ইতিহাস, এটি আবেগ, এটি মানুষের আশা। আর সেই আশার নাম, ধানের শীষ।




















