ঢাকা ১২:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

হাতপাখা মার্কা: বিশ্বাস, সততা ও কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক

আদর্শের পথে অবিচল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৫৪ বার পড়া হয়েছে




বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন আপস, সমঝোতা ও ক্ষমতার অঙ্ক প্রধান হয়ে ওঠে, ঠিক সেই সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ভিন্ন অবস্থান নিয়ে সামনে এসেছে। চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন এই দল এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আবারও প্রমাণ করেছে। তাদের রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, বরং আদর্শকেন্দ্রিক।


সম্প্রতি সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে শায়খে চরমোনাই জামায়াত ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব বক্তব্য রাজনীতির বাস্তবতা ও আদর্শের দ্বন্দ্বকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এককভাবে নির্বাচন করে কি আসলেই সাফল্য আসবে? আবার কেউ কেউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, “ওরা একটি সিটও পাবে না।” কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে, এই বাস্তবতা কি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব বোঝেন না?
নিশ্চয়ই বোঝেন! বরং রাজনৈতিক অঙ্ক, মাঠের বাস্তবতা ও জনমতের গতিপ্রকৃতি তারা অনেকের চেয়েও ভালোভাবে উপলব্ধি করেন। তবুও তারা এককভাবে মাঠে নেমেছেন। কারণ তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি। যদি তারা ক্ষমতার লোভী হতেন, তাহলে জোটের রাজনীতিতে তাদের দরকষাকষির সুযোগ কম ছিল না। আসন, প্রভাব কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সেই সহজ পথ বেছে নেননি। বরং কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ অথচ নৈতিকভাবে দৃঢ় পথকে গ্রহণ করেছেন।
এটি কোনো আবেগ নয়, এটি আদর্শের প্রতি আনুগত্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, ইসলামকে ক্ষমতার অধীন করা নয়; বরং ক্ষমতাকে ইসলামের অধীন করাই প্রকৃত রাজনীতি। এই দর্শনই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে।
গাজীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী, মাওলানা এম এ হানিফ সরকার গাজীপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এম এ হানিফ সরকার একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির আলেম ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর প্রচারণায় কোনো নেতিবাচক বক্তব্য নয়, বরং কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বানই প্রাধান্য পাচ্ছে।
হাতপাখা মার্কা কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি সততা, ন্যায়নীতি ও আদর্শিক রাজনীতির প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।
এইচ এম মাইনুদ্দিন: মাঠপর্যায়ের এক নিবেদিত মুখ। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা, টঙ্গীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম মাইনুদ্দিন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। দত্তপাড়া, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ইসলামী আন্দোলনের দর্শন তুলে ধরছেন। গাজীপুরা লিফটসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, কেন হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব।
এইচ এম মাইনুদ্দিন বলেন, “আল্লাহর রহমত কখনো দেরি করে না, কিন্তু তা সবসময় যথাসময়ে আসে। আমরা রাজনীতিকে ইবাদতের অংশ হিসেবে দেখি। নামাজ পড়বো, মানুষকে দাওয়াত দিবো এবং ইনশাআল্লাহ হাতপাখা মার্কাকে বিজয়ী করার চেষ্টা করবো।”
তার বক্তব্যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, নেই বিদ্বেষ। আছে কেবল বিশ্বাস, দাওয়াত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আহ্বান। আদর্শের রাজনীতি কি জনপ্রিয় হবে? ইতিহাস বলে, আদর্শের রাজনীতি সবসময় তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা পায় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব গভীর হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই দীর্ঘ পথের যাত্রী। তারা জানে, এই পথ সহজ নয়। তবুও তারা পিছপা হয়নি।
হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান কোনো চাপ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রকাশ। যারা মনে করেন কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক আইন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রয়োজন, তাদের কাছে এটি একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মাওলানা এম এ হানিফ সরকার এবং এইচ এম মাইনুদ্দিন, তিনটি নাম আজ গাজীপুর-২ আসনে আদর্শিক রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। জয়-পরাজয় যাই হোক, তারা যে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হাতপাখা মার্কা তাই কেবল একটি নির্বাচন চিহ্ন নয়; অনেকের কাছে এটি বিশ্বাস, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। মাওলানা এম এ হানিফ সরকার-এর জন্য দোয়া ও শুভকামনা। দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

হাতপাখা মার্কা: বিশ্বাস, সততা ও কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক রাজনীতির প্রতীক

আদর্শের পথে অবিচল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ১১:৪৯:০১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে যখন আপস, সমঝোতা ও ক্ষমতার অঙ্ক প্রধান হয়ে ওঠে, ঠিক সেই সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি ভিন্ন অবস্থান নিয়ে সামনে এসেছে। চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন এই দল এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে আবারও প্রমাণ করেছে। তাদের রাজনীতি ক্ষমতাকেন্দ্রিক নয়, বরং আদর্শকেন্দ্রিক।


সম্প্রতি সাংবাদিকের মুখোমুখি হয়ে শায়খে চরমোনাই জামায়াত ও সমসাময়িক রাজনীতি নিয়ে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, এসব বক্তব্য রাজনীতির বাস্তবতা ও আদর্শের দ্বন্দ্বকে স্পষ্টভাবে সামনে এনেছে। এই প্রেক্ষাপটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অবস্থান নতুন করে বিশ্লেষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, এককভাবে নির্বাচন করে কি আসলেই সাফল্য আসবে? আবার কেউ কেউ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলছেন, “ওরা একটি সিটও পাবে না।” কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক প্রশ্ন উঠে আসে, এই বাস্তবতা কি ইসলামী আন্দোলনের নেতৃত্ব বোঝেন না?
নিশ্চয়ই বোঝেন! বরং রাজনৈতিক অঙ্ক, মাঠের বাস্তবতা ও জনমতের গতিপ্রকৃতি তারা অনেকের চেয়েও ভালোভাবে উপলব্ধি করেন। তবুও তারা এককভাবে মাঠে নেমেছেন। কারণ তাদের রাজনীতির মূল লক্ষ্য ক্ষমতা নয়, আল্লাহর সন্তুষ্টি। যদি তারা ক্ষমতার লোভী হতেন, তাহলে জোটের রাজনীতিতে তাদের দরকষাকষির সুযোগ কম ছিল না। আসন, প্রভাব কিংবা অন্যান্য রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করা সম্ভব ছিল। কিন্তু তারা সেই সহজ পথ বেছে নেননি। বরং কঠিন, ঝুঁকিপূর্ণ অথচ নৈতিকভাবে দৃঢ় পথকে গ্রহণ করেছেন।
এটি কোনো আবেগ নয়, এটি আদর্শের প্রতি আনুগত্য। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, ইসলামকে ক্ষমতার অধীন করা নয়; বরং ক্ষমতাকে ইসলামের অধীন করাই প্রকৃত রাজনীতি। এই দর্শনই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে।
গাজীপুর-২ আসনে হাতপাখার প্রার্থী, মাওলানা এম এ হানিফ সরকার গাজীপুর-২ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এম এ হানিফ সরকার একজন পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির আলেম ও সমাজকর্মী হিসেবে পরিচিত। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দ্বীনি শিক্ষা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও মানবকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর প্রচারণায় কোনো নেতিবাচক বক্তব্য নয়, বরং কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বানই প্রাধান্য পাচ্ছে।
হাতপাখা মার্কা কেবল একটি প্রতীক নয়, এটি সততা, ন্যায়নীতি ও আদর্শিক রাজনীতির প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন তাঁর সমর্থকরা।
এইচ এম মাইনুদ্দিন: মাঠপর্যায়ের এক নিবেদিত মুখ। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা, টঙ্গীর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এইচ এম মাইনুদ্দিন ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর থেকে নিয়মিত মাঠে কাজ করে যাচ্ছেন। দত্তপাড়া, টঙ্গী ও আশপাশের এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে তিনি ইসলামী আন্দোলনের দর্শন তুলে ধরছেন। গাজীপুরা লিফটসহ বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মানুষকে বোঝাচ্ছেন, কেন হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়া একটি নৈতিক দায়িত্ব।
এইচ এম মাইনুদ্দিন বলেন, “আল্লাহর রহমত কখনো দেরি করে না, কিন্তু তা সবসময় যথাসময়ে আসে। আমরা রাজনীতিকে ইবাদতের অংশ হিসেবে দেখি। নামাজ পড়বো, মানুষকে দাওয়াত দিবো এবং ইনশাআল্লাহ হাতপাখা মার্কাকে বিজয়ী করার চেষ্টা করবো।”
তার বক্তব্যে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ নেই, নেই বিদ্বেষ। আছে কেবল বিশ্বাস, দাওয়াত ও শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক অংশগ্রহণের আহ্বান। আদর্শের রাজনীতি কি জনপ্রিয় হবে? ইতিহাস বলে, আদর্শের রাজনীতি সবসময় তাৎক্ষণিক জনপ্রিয়তা পায় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে তার প্রভাব গভীর হয়। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সেই দীর্ঘ পথের যাত্রী। তারা জানে, এই পথ সহজ নয়। তবুও তারা পিছপা হয়নি।
হাতপাখা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান কোনো চাপ নয়, বরং একটি রাজনৈতিক বিশ্বাসের প্রকাশ। যারা মনে করেন কোরআন–সুন্নাহভিত্তিক আইন ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা প্রয়োজন, তাদের কাছে এটি একটি বিকল্প রাজনৈতিক দর্শন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, মাওলানা এম এ হানিফ সরকার এবং এইচ এম মাইনুদ্দিন, তিনটি নাম আজ গাজীপুর-২ আসনে আদর্শিক রাজনীতির প্রতীক হয়ে উঠছে। জয়-পরাজয় যাই হোক, তারা যে একটি ভিন্ন রাজনৈতিক বার্তা দিচ্ছে, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। হাতপাখা মার্কা তাই কেবল একটি নির্বাচন চিহ্ন নয়; অনেকের কাছে এটি বিশ্বাস, নৈতিকতা ও আদর্শের প্রতীক। মাওলানা এম এ হানিফ সরকার-এর জন্য দোয়া ও শুভকামনা। দেশ, জাতি ও মানবতার কল্যাণে আল্লাহ তায়ালা সবাইকে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার তাওফিক দিন। আমিন।