৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে জনসেবা, মানবিকতা ও উন্নয়ন ভাবনায় মোঃ রাজু আহমেদ শাহীন
রাজপথের প্রহরী থেকে গণমানুষের আশ্রয়স্থল
- আপডেট সময় : ০৭:২০:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬৩৬ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডে দীর্ঘদিনের সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনসম্পৃক্ততা ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে আলোচনায় রয়েছেন কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ রাজু আহমেদ শাহীন। তাঁর কর্মকাণ্ডের পরিধিতে রয়েছে রাস্তা সংস্কার, ড্রেন মেরামত, সড়কবাতির উদ্যোগ, অসচ্ছল মানুষের খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, ঈদসামগ্রী প্রদান এবং যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে রাখার সামাজিক উদ্যোগ। রাজু আহমেদ শাহীন রাজনীতি বা জনপ্রতিনিধিত্বকে শুধু ক্ষমতার বিষয় হিসেবে না দেখে মানুষের পাশে থাকার একটি দায়িত্ব হিসেবে বিবেচনা করেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সামাজিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তিনি একটি জনসম্পৃক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন।
উন্নয়ন ভাবনায় রাস্তা-ড্রেন থেকে খেলার মাঠ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের নাগরিক সমস্যার মধ্যে রাস্তা, ড্রেনেজ, জলাবদ্ধতা, সড়কবাতি ও বিনোদনের জায়গার সংকটকে গুরুত্ব দিচ্ছেন শাহীন। স্থানীয়দের প্রয়োজন ও অভিযোগের ভিত্তিতে বিভিন্ন রাস্তা সংস্কার, ভাঙা ড্রেন মেরামত এবং চলাচলের অনুপযোগী পথ ব্যবহারযোগ্য করার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।
তাঁর উন্নয়ন-ভাবনায় রয়েছে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য খেলার মাঠের ব্যবস্থা, যাতে তরুণ প্রজন্ম মাদক ও অপরাধের পরিবর্তে খেলাধুলা ও সুস্থ বিনোদনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। একই সঙ্গে ওয়ার্ডের প্রয়োজনীয় রাস্তাঘাট উন্নয়ন, পুরোনো রাস্তা মেরামত, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সড়কবাতি স্থাপনের বিষয়েও তিনি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
স্থানীয়ভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, এসব সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের কিছু ক্ষেত্রে তিনি নিজস্ব অর্থ থেকেও ব্যয় করেছেন বলে তাঁর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে। তবে কোন প্রকল্পে কত অর্থ ব্যয় হয়েছে, তার বিস্তারিত হিসাব পৃথকভাবে যাচাইযোগ্য হলে তা আরও স্বচ্ছভাবে উপস্থাপন করা সম্ভব।
মানুষের বিপদে ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার চেষ্টা, রাজু আহমেদ শাহীনের কর্মকাণ্ড শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়নকেন্দ্রিক নয়। শীত মৌসুমে অসহায় মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ, ঈদে শাড়ি, লুঙ্গি ও পোশাক প্রদান, খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগের কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা যায়। অসহায় কোনো পরিবারের ঘরে খাবারের সংকট তৈরি হলে রাতের সময়ও ব্যক্তিগতভাবে খাদ্যসামগ্রী বা নগদ সহায়তা নিয়ে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনা রয়েছে বলে তাঁর সহযোগীরা জানান। কারও সন্তানের চিকিৎসার প্রয়োজন, কোনো পরিবার অর্থকষ্টে রয়েছে কিংবা কোনো অসচ্ছল ব্যক্তি জরুরি সহায়তা চাইছেন, এ ধরনের খবর পেলে সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন বলেও তাঁরা জানান।
এলাকার কয়েকজন প্রবীণ মুরব্বির ভাষ্য, মানুষের বিপদের সময়ে শাহীনকে পাশে পাওয়ার ঘটনা তাঁদের নজরে এসেছে। তবে এসব কর্মকাণ্ডের মূল্যায়ন শেষ পর্যন্ত স্থানীয় মানুষের অভিজ্ঞতা ও যাচাইযোগ্য কর্মকাণ্ডের ওপরই নির্ভরশীল।
যাকাত-ফিতরা ও ঈদ সহায়তায় সম্পৃক্ততা, দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের মধ্যে যাকাত ও ফিতরার অর্থ বা সামগ্রী সঠিকভাবে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগেও তাঁর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করেছেন স্থানীয়রা। ধর্মীয় মূল্যবোধ থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই প্রচেষ্টাকে তিনি সামাজিক দায়িত্বের অংশ হিসেবে দেখেন বলে তাঁর পরিচিতজনদের বক্তব্য।
রাতের নীরব প্রহরী, হযরত ওমর (রা.)-এর আদর্শে অনুপ্রেরণা মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিজের চোখে দেখার বিষয়ে ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা হযরত ওমর ফারুক (রা.)-এর জীবনাদর্শ থেকে অনুপ্রেরণা নেওয়ার কথা বলেন রাজু আহমেদ শাহীন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে যখন এলাকার অধিকাংশ মানুষ ঘুমিয়ে থাকেন, তখন কখনো কখনো তিনি মানুষের খোঁজ নিতে বের হন। কোনো ঘরে খাবারের সংকট আছে কি না, কোনো অসুস্থ মানুষের জরুরি সহায়তা প্রয়োজন কি না কিংবা কোনো পরিবার অভাব-অনটনে দিন কাটাচ্ছে কি না, এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করেন। প্রচারের বাইরে থেকে করা এ ধরনের মানবিক উদ্যোগকেই তিনি জনসেবার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখেন।
নিরাপদ ওয়ার্ড গঠনে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ, ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডকে নিরাপদ রাখতে মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি। বিশেষ করে যুবসমাজকে খেলাধুলা ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে মাদক থেকে দূরে রাখার কথা বলেছেন। অন্ধকার গলি ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যাপ্ত সড়কবাতির ব্যবস্থা করা হলে নারী, শিশু, প্রবীণ ও সাধারণ মানুষের রাতের চলাচল আরও নিরাপদ হতে পারে, এমন মত তাঁর। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন যুবসমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি মনে করেন।
ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ, ব্যক্তিগত জীবনে নিজেকে ধর্মপরায়ণ, নামাজি ও নৈতিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী হিসেবে তুলে ধরেন রাজু আহমেদ শাহীন। তাঁর ঘনিষ্ঠজনদের ভাষ্য, তিনি কারও ক্ষতি না করে মানুষের উপকার করার নীতিতে বিশ্বাসী এবং ধর্মীয় অনুশাসনকে ব্যক্তিজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অনুসরণ করার চেষ্টা করেন। তাঁর কাছে ধর্মীয় মূল্যবোধের অর্থ শুধু ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, মানুষের প্রতি দায়িত্ব, অসহায়ের পাশে দাঁড়ানো, অন্যের ক্ষতি না করা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করাও মানবিক দায়িত্বের অংশ।
ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের মানুষের জন্য উন্মুক্ত, রাজু আহমেদ শাহীনের সামাজিক যোগাযোগের আরেকটি দিক হলো, এলাকার ব্যবসায়ী, শ্রমজীবী, তরুণ, প্রবীণ ও সাধারণ বাসিন্দাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার চেষ্টা। তাঁর পক্ষ থেকে বলা হয়, “মানুষের পরিচয় নয়, মানুষের প্রয়োজনই আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।” ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। এলাকার কোনো সমস্যা বা নাগরিক অসুবিধার কথা জানালে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার কথাও বলেন তিনি।
আগামী দিনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভাবনা, রাজু আহমেদ শাহীনের পরিকল্পনায় একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, আলোকিত, খেলাধুলাবান্ধব ও মানবিক ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড গড়ে তোলার প্রত্যাশার কথা উঠে এসেছে। রাস্তা ও ড্রেনেজ উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, সড়কবাতি, খেলার মাঠ, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক নিরাপত্তা এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সবগুলো বিষয়কে সমন্বিতভাবে দেখার কথা বলছেন তিনি।
তাঁর বক্তব্যে উন্নয়ন শুধু ইট-পাথরের অবকাঠামো নির্মাণ নয়; বরং একটি ওয়ার্ডের প্রতিটি মানুষের নিরাপদ জীবন, নাগরিক মর্যাদা এবং প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা পাওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাও উন্নয়নের অংশ।
মানুষের পাশে থাকার যে সামাজিক কর্মকাণ্ড তিনি ইতোমধ্যে করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে দাবি করা হচ্ছে, জনপ্রতিনিধিত্বের দায়িত্ব পেলে সেগুলো আরও প্রাতিষ্ঠানিক ও পরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে এমন প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের। একই সঙ্গে তাঁর ঘোষিত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, সরকারি বিধি, বাজেট ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ হবে।
“মানুষের পাশে, মানুষের জন্য” এই দর্শনকে সামনে রেখে ৩৫ নম্বর ওয়ার্ডকে আরও উন্নত, নিরাপদ ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যাশাই ব্যক্ত করছেন মোঃ রাজু আহমেদ শাহীন।



















