রোজাদার বৃদ্ধা মাকে পিটিয়ে ৫টি সেলাই, কাপড় ছিঁড়ে লাঞ্ছিত, বসতঘর দখলের চেষ্টা এরশাদ নগরে এক মায়ের আর্তনাদে কাঁদছে বিবেকবান মানুষ; প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি
“যে মা জীবনভর রক্ত-ঘাম ঝরিয়ে সন্তানকে মানুষ করলেন, আজ সেই মায়ের মাথা ফাটিয়ে ছুরি হাতে হত্যার হুমকি দেয় ‘কসাই সুমন’!”
- আপডেট সময় : ০২:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬
- / ১৯৩৩ বার পড়া হয়েছে

মা এই শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়, সবচেয়ে বড় ত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। কিন্তু গাজীপুরের এরশাদ নগরে সেই মায়ের বুকফাটা কান্না আজ সমাজকে প্রশ্ন করছে “সন্তান কি এতটাই নিষ্ঠুর হতে পারে?” গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ডের এরশাদ নগর ৪নং ব্লকের বাসিন্দা মোসাঃ রহিমা আজ নিজের সন্তান মোঃ সুমন ওরফে “কসাই সুমন”-এর নির্যাতনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এই মা একসময় গার্মেন্টস কারখানায় চাকরি করতেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কঠোর পরিশ্রম করে উপার্জিত প্রতিটি টাকা তিনি তার একমাত্র ছেলে সুমনের জন্য ব্যয় করতেন। নিজের মুখের খাবার কমিয়ে, নিজের স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে ছেলেকে মানুষ করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, ছোটবেলা থেকে বড় হওয়া পর্যন্ত সুমনের সকল খরচ, খাবার, পোশাক, চিকিৎসা সবকিছুই বহন করেছেন মা রহিমা। এমনকি ছেলে বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনায় জড়িয়ে পড়লে, মামলায় গ্রেপ্তার হলে, আদালত থেকে জামিন করিয়ে আনতেও এই মাকেই দৌড়ঝাঁপ করতে হয়েছে।
রহিমা জানান, “আমি গার্মেন্টসে চাকরি করে আমার ছেলেকে মানুষ করেছি। মামলা হলে টাকা জোগাড় করে জামিনে এনেছি। এলাকার লোকজন মারতে চাইলে টাকা দিয়ে ছাড়িয়ে এনেছি। আজ সেই ছেলেই আমাকে মারে, ছুরি নিয়ে তেড়ে আসে। যদি জানতাম এই প্রতিদান পাবো, তাহলে কি আমি মানুষ জন্ম দিতাম?” অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে “কসাই সুমন” তার মাকে অমানুষিকভাবে মারধর, ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। রমজানের ২৭ রোজার দিন ঘটে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। ওইদিন রোজা রাখা অবস্থায় বৃদ্ধা মা রহিমাকে নির্মমভাবে মারধর করা হয়। হামলায় তার মাথা ফেটে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে টঙ্গী মেডিকেল হাসপাতাল-এ নেওয়া হলে মাথায় ৫টি সেলাই দিতে হয়। কিন্তু সেই ঘটনার পরও থামেনি নির্যাতন। বর্তমানেও অভিযোগ রয়েছে, “কসাই সুমন” প্রায়ই অস্ত্র, লাঠি ও ছুরি নিয়ে মায়ের উপর হামলা করতে আসে। তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে, হত্যার ভয় দেখায় এবং একাধিকবার তার পরনের কাপড় ছিঁড়ে অপমান ও লাঞ্ছিত করেছে বলে অভিযোগ করেন রহিমা।
তিনি আরও জানান, “আমি এখন রাতেও ঘুমাতে পারি না। কখন দরজা ভেঙে এসে আমাকে মেরে ফেলে, সেই ভয় নিয়ে বাঁচি।” এছাড়াও তার ছোট্ট বসতঘর দখলের অপচেষ্টার অভিযোগও উঠেছে। রহিমার দাবি, তার ছেলে তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে সম্পত্তি দখল করতে চায়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, “কসাই সুমন” নামটি এলাকায় আতঙ্কের প্রতীক হয়ে উঠেছে। তার ভয় ও প্রভাবের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না। রহিমার উপর নির্যাতনের ঘটনা জানলেও সাক্ষী দিতে অনেকে ভয় পান বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “একজন মা প্রতিদিন মার খাচ্ছে, কাঁদছে, জীবন ভিক্ষা চাইছে; কিন্তু ভয় এত বেশি যে কেউ মুখ খুলতে পারে না।” সমাজ সচেতন মহল বলছে, এটি শুধু একটি পরিবারের ঘটনা নয় এটি সমাজের মানবিক মূল্যবোধের ভয়াবহ পতনের প্রতিচ্ছবি। একজন বৃদ্ধা মা যদি নিজের সন্তান থেকে নিরাপত্তা না পান, তবে সমাজের বিবেক কোথায় দাঁড়িয়ে আছে? তারা দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং ভুক্তভোগী মায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। আজ এরশাদ নগরের বাতাসে এক অসহায় মায়ের কান্না ভেসে বেড়ায় “যাকে বুকের রক্ত দিয়ে বড় করেছি, সেই সন্তানের হাতেই কি আমার মৃত্যু লেখা?”




















