ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

বাড়িওয়ালার গাফিলতিতে গ্যাস বিস্ফোরণ, পঙ্গু হাসপাতালে তরুণী মুক্তা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
  • / ২৩০০ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420




গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমিশোর ভোটবাজার এলাকায় ‘সততার স্বপ্নীল’ নামের একটি ভবনে গ্যাস লাইনের ত্রুটিজনিত বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত হয়েছেন মুক্তা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। বর্তমানে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। রান্নার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ গ্যাস জমে থাকা কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। এতে মুক্তার শরীরের একাধিক অংশ দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
মুক্তা সদ্য এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছেন। তার মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাবা নান্টু ও ভাই মুন্না গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এই ছোট পরিবারটি বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে।
ভবনটির মালিক মোজাম্মেল হক, যিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। ভবনটি কেয়ারটেকার দারোয়ান বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকলেও বাসিন্দাদের অভিযোগ—গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি লাইনসহ কোনো ব্যবস্থারই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নেই। ভবনের ইলেকট্রিক সুইচ, গ্যাস লিকেজ বা পানির পাইপ মেরামত সবই ভাড়াটিয়াদের নিজেদের খরচে করতে হয় বলে জানান তারা।
ভবনের বাসিন্দা সোনিয়া, পলি, শুভসহ অনেকে বলেন,
“প্রায়ই গ্যাস লিকেজ হয়, সুইচ থেকে আগুনের ঝিলিক দেখা যায়, আবার পানির লাইন ছিদ্র হয়ে যায়। কিন্তু মালিক বা কেয়ারটেকার কোনো কর্ণপাত করে না।”
এই ভবনটি হোসেন আলী বেপারী মসজিদের সামনে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করলেও কারও নজর ছিল না। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জোরালো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই গাছা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন: “এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় বাড়িওয়ালার। ভবনে গ্যাস নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। এটা চরম গাফিলতি ও অবহেলার ফল। মুক্তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ ব্যয় বাড়ির মালিক মোজাম্মেল হককে বহন করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি আমিনুল ইসলাম আরও জানান, “ঘটনার পর ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী ও তত্ত্বাবধায়ক বাচ্চু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”
ঘটনার পর এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুক্তার পরিবারের সাথে ভবন মালিক বা সংশ্লিষ্ট কেউ হাসপাতাল বা পরিবারের সাথে দেখা করেননি বা যোগাযোগ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অনুরোধ করেছেন, যেন ভবনটির গ্যাস সংযোগ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনায় সাহসী, মানবিক ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করায় স্থানীয়রা গাছা থানার নতুন ওসি আমিনুল ইসলামের ভূমিকাকে অত্যন্ত প্রশংসার চোখে দেখছেন। একজন দায়িত্ববান ও সচেতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তার অবস্থান এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুক্তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার অবস্থার উন্নতির জন্য প্রার্থনা করছে এলাকাবাসী। প্রশাসনের প্রতি তাদের আবেদন—এ ধরনের গাফিলতি যেন আর কোনো পরিবারের স্বপ্নকে আগুনে পুড়িয়ে না দেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

বাড়িওয়ালার গাফিলতিতে গ্যাস বিস্ফোরণ, পঙ্গু হাসপাতালে তরুণী মুক্তা

আপডেট সময় : ০৫:৪৫:২৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫

গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার কলমিশোর ভোটবাজার এলাকায় ‘সততার স্বপ্নীল’ নামের একটি ভবনে গ্যাস লাইনের ত্রুটিজনিত বিস্ফোরণে মারাত্মক আহত হয়েছেন মুক্তা আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী। বর্তমানে তিনি ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন।
বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে মঙ্গলবার (১ জুলাই) ভোর ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে। রান্নার প্রস্তুতির সময় হঠাৎ গ্যাস জমে থাকা কক্ষে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়। এতে মুক্তার শরীরের একাধিক অংশ দগ্ধ হয়। স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠান।
মুক্তা সদ্য এইচএসসি পাস করে অনার্সে ভর্তি হয়েছেন। তার মা কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বাবা নান্টু ও ভাই মুন্না গার্মেন্টসে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। এই ছোট পরিবারটি বর্তমানে চরম মানবিক সংকটে রয়েছে।
ভবনটির মালিক মোজাম্মেল হক, যিনি ঢাকার মিরপুরে বসবাস করেন। ভবনটি কেয়ারটেকার দারোয়ান বাচ্চু মিয়ার তত্ত্বাবধানে থাকলেও বাসিন্দাদের অভিযোগ—গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি লাইনসহ কোনো ব্যবস্থারই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ নেই। ভবনের ইলেকট্রিক সুইচ, গ্যাস লিকেজ বা পানির পাইপ মেরামত সবই ভাড়াটিয়াদের নিজেদের খরচে করতে হয় বলে জানান তারা।
ভবনের বাসিন্দা সোনিয়া, পলি, শুভসহ অনেকে বলেন,
“প্রায়ই গ্যাস লিকেজ হয়, সুইচ থেকে আগুনের ঝিলিক দেখা যায়, আবার পানির লাইন ছিদ্র হয়ে যায়। কিন্তু মালিক বা কেয়ারটেকার কোনো কর্ণপাত করে না।”
এই ভবনটি হোসেন আলী বেপারী মসজিদের সামনে অবস্থিত। দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় বাস করলেও কারও নজর ছিল না। এ ঘটনার পর এলাকার মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণের দাবি জোরালো হয়েছে।
ঘটনার পরপরই গাছা থানার নবনিযুক্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং জরুরি ভিত্তিতে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি বলেন: “এই ঘটনার সম্পূর্ণ দায় বাড়িওয়ালার। ভবনে গ্যাস নিরাপত্তার ন্যূনতম ব্যবস্থাও নেই। এটা চরম গাফিলতি ও অবহেলার ফল। মুক্তার চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সম্পূর্ণ ব্যয় বাড়ির মালিক মোজাম্মেল হককে বহন করতে হবে। অন্যথায় তার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ মামলাসহ কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ওসি আমিনুল ইসলাম আরও জানান, “ঘটনার পর ভবনের নিরাপত্তা প্রহরী ও তত্ত্বাবধায়ক বাচ্চু মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। আমরা ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি।”
ঘটনার পর এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুক্তার পরিবারের সাথে ভবন মালিক বা সংশ্লিষ্ট কেউ হাসপাতাল বা পরিবারের সাথে দেখা করেননি বা যোগাযোগ করেননি।
স্থানীয় বাসিন্দারা অনুরোধ করেছেন, যেন ভবনটির গ্যাস সংযোগ ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ লাইনগুলো অবিলম্বে সরিয়ে নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এই ঘটনায় সাহসী, মানবিক ও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণ করায় স্থানীয়রা গাছা থানার নতুন ওসি আমিনুল ইসলামের ভূমিকাকে অত্যন্ত প্রশংসার চোখে দেখছেন। একজন দায়িত্ববান ও সচেতন প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তার অবস্থান এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য আশার আলো হয়ে উঠছে।
এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মুক্তার চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে এবং তার অবস্থার উন্নতির জন্য প্রার্থনা করছে এলাকাবাসী। প্রশাসনের প্রতি তাদের আবেদন—এ ধরনের গাফিলতি যেন আর কোনো পরিবারের স্বপ্নকে আগুনে পুড়িয়ে না দেয়।