শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রেরণায় ভরপুর আয়োজনে মুখর গাজীপুর
“তিনি শুধু আমার বাবা নন, গাজীপুরের পিতা”: জন্মদিনে হাসান উদ্দিন সরকারকে ঘিরে কৃতজ্ঞতার উৎসব
- আপডেট সময় : ০৯:৪৭:৪৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ জুলাই ২০২৫
- / ২৩০৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের আকাশ আজ এক ভিন্ন আলোয় উদ্ভাসিত। শহরের রাজপথ থেকে প্রান্তিক মানুষের ঘরে ঘরে উচ্চারিত হচ্ছে এক নেতার নাম—বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার।
একজন সম্মুখযোদ্ধা, একজন জননেতা, একজন গর্বিত পিতা—এই তিন পরিচয়ের সম্মিলনে দাঁড়িয়ে থাকা এক ব্যক্তিত্বের জন্মদিন উপলক্ষে গাজীপুর যেন পরিণত হয় ভালোবাসা আর কৃতজ্ঞতার শহরে।
টঙ্গী পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান, গাজীপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, জাতীয় সংসদের সাবেক সদস্য—এই দীর্ঘ পথচলায় তাঁর নেতৃত্ব, দূরদর্শিতা এবং ত্যাগ তাঁকে গাজীপুরবাসীর হৃদয়ে চিরস্থায়ী করে তুলেছে।
সকালে শুরু ফুলেল শ্রদ্ধায়, সবুজে ঘেরা নিরিবিলি পরিবেশে আয়োজিত হয় জন্মদিনের সূচনা অনুষ্ঠান। বাগানে দাঁড়িয়ে ফুলেল শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন হাসান উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে সরকার সাইফুল ইসলাম বিপ্লব ও ভাগ্নে সরকার শাহানুর ইসলাম রনি সরকার।

টেবিলে রাখা ছিল কেক, ফুলের তোড়া, শুভেচ্ছা কার্ড আর চারপাশে গাজীপুরের রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক প্রতিনিধিরা।
এই এক মুহূর্ত যেন গাজীপুরবাসীর সম্মান ও ভালোবাসার প্রতীক হয়ে উঠেছিল।
কেক কাটা, গণউপস্থিতি ও মিষ্টি বিতরণ: পরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে শতাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। হাসান উদ্দিন সরকার নিজ হাতে কেক কাটেন। পাশে ছিলেন তাঁর পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, রাজনৈতিক সহযোদ্ধা এবং শুভানুধ্যায়ী জনগণ।
এই মিলনমেলায় সংযোজন ছিল এক মানবিক স্পর্শ—শিশুদের মাঝে চকলেট ও মিষ্টি বিতরণ, যা আয়োজনে যোগ করে উষ্ণতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধের অনন্য মাত্রা।

সরকার শাহানুর ইসলাম রনি’র শ্রদ্ধাবাণী: এই আয়োজন নিয়ে তাঁর অনুভব প্রকাশ করেন ভাগ্নে, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সক্রিয় নেতা ও সমাজসেবক সরকার শাহানুর ইসলাম রনি সরকার।
তিনি বলেন, “মানুষের জীবন সীমিত, কিন্তু তার কর্ম অমর। বড় চাচা কেবল ব্যক্তি নন, তিনি এক জীবন্ত ইতিহাস। গাজীপুরের প্রতিটি অলিতে গলিতে যাঁর ছোঁয়া আছে—শিক্ষা, ধর্ম, উন্নয়ন—সবকিছুতে।”
তিনি আরও বলেন, “যিনি শিক্ষার আলো ছড়িয়ে ‘শিক্ষাবন্ধু’ উপাধি পেয়েছেন, তাঁর জন্মদিন মানে একটি প্রজন্মের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও দায়িত্বের উৎসব।”
পুত্র সাইফুল ইসলাম বিপ্লবের আবেগঘন কথা: এই আয়োজনে সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত আসে যখন বক্তব্য দেন হাসান উদ্দিন সরকারের বড় ছেলে সরকার সাইফুল ইসলাম বিপ্লব।
চোখে জল, কণ্ঠে গর্ব। তিনি বলেন—“তিনি শুধু আমার বাবা নন, তিনি গাজীপুরের পিতা। তাঁর হাতেই গড়ে উঠেছে এই শহরের অবকাঠামো, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। আমি গর্বিত এমন একজন নেতার সন্তান হতে পেরে।”
তিনি আরও যোগ করেন—“বাবা সবসময় আমাদের শিখিয়েছেন—কাজের মাধ্যমেই মানুষের মনে জায়গা করে নিতে হয়। আমরা চাই, তাঁর অসমাপ্ত স্বপ্নগুলো বাস্তবায়ন হোক।”
স্মৃতির চেয়ে বড় কিছু হয় না, একটি জন্মদিন, একটি মানুষ, একটি পরিবার—কিন্তু তার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ে একটি শহর জুড়ে।
এই জন্মদিনে তাই শুধু একটি কেক কাটেনি—কাটা হয়েছে ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার বৃত্ত, যা ঘিরে রেখেছে গাজীপুরের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক মহান অধ্যায়কে।
শহরের আনাচে-কানাচে, ফেসবুকের পাতায় পাতায়, রাজপথে ও আড্ডায় এই দিনটিকে ঘিরে শ্রদ্ধা ও প্রেরণার ঝড় বয়ে যায়। কেউ লেখেন—“যতদিন গাজীপুর থাকবে, ততদিন হাসান উদ্দিন সরকার নামটি থাকবে মানুষের ভালোবাসায়।”
প্রভাষক বসির উদ্দিন সাবেক সভাপতি, গাজীপুর মহানগর যুবদল, আহ্বায়ক টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি’র ভাষ্য: “রাজনীতি মানেই যে ক্ষমতার খেলা, হাসান উদ্দিন সরকার তার ব্যতিক্রম। তিনি প্রমাণ করেছেন, ভালোবাসা ও সেবার মধ্য দিয়েই একজন মানুষ অমর হয়ে যেতে পারেন। এই আয়োজন তারই জীবন্ত প্রমাণ। এটি জন্মদিন নয়—একটি ইতিহাসকে শ্রদ্ধা জানানোর দিন।”
এই আয়োজন, এই অনুভব, এই ভাষ্য—সব মিলিয়ে ২৪ জুন গাজীপুরবাসীর হৃদয়ে গেঁথে থাকবে এক উজ্জ্বল দিনের প্রতিচ্ছবি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাসান উদ্দিন সরকার তাঁর কর্ম ও আদর্শ দিয়ে প্রমাণ করেছেন—নেতা হয় জন্ম থেকে নয়, জনগণের ভালোবাসা থেকে।




















