ঢাকা ১১:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

নির্বাচন-পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার ও পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে হামলা, আহত একাধিক; নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

টঙ্গীতে বিএনপির দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১০১ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার ও পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক হামলার অভিযোগ, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে বসে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষ গ্রুপ আকস্মিক হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি নেতা বেলাল খানের নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ পার্টি অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মারধর করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
লিখিত অভিযোগে যা বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মোঃ মোজাম্মেল লস্কর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে বেলাল খান ও আশরাফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাপাতির কোপে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং লোহার পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার ব্যবসার নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার মাথায় আটটি সেলাই দেন। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর সাতাইশ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় কোন্দলের জেরে প্রকাশ্যে সহিংসতা ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের ভূমিকা এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক টঙ্গী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউদ্দিন সফি বলেন, সাতাইশ স্কুলসংলগ্ন সরকারি খাসপুকুরের পানি শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা, ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থিতিশীল করছে। বিএনপির আদর্শ ও নীতির সঙ্গে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি ও আইনগত পদক্ষেপের ওপর এখন সবার দৃষ্টি। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন আরও সহিংস রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্বাচন-পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার ও পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে হামলা, আহত একাধিক; নগদ টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

টঙ্গীতে বিএনপির দু’গ্রুপের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ

আপডেট সময় : ০৯:৩৮:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গী পশ্চিম থানার সাতাইশ এলাকায় নির্বাচন-পরবর্তী আধিপত্য বিস্তার ও পার্টি অফিস দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গভীর রাতে সংঘটিত এ ঘটনায় পার্টি অফিসে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয় এবং কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন। আহতদের উদ্ধার করে টঙ্গী আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতাল-এ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
আকস্মিক হামলার অভিযোগ, স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে টঙ্গী পশ্চিম থানাধীন সাতাইশ স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত বিএনপির পার্টি অফিসে বসে থাকা নেতাকর্মীদের ওপর প্রতিপক্ষ গ্রুপ আকস্মিক হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি নেতা বেলাল খানের নেতৃত্বে একটি দল দেশীয় অস্ত্রসহ পার্টি অফিসে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং উপস্থিত নেতাকর্মীদের মারধর করে। এতে কয়েকজন গুরুতর আহত হন।
লিখিত অভিযোগে যা বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী মোঃ মোজাম্মেল লস্কর থানায় দেওয়া লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তার বিরোধ চলছিল। ঘটনার রাতে বেলাল খান ও আশরাফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ১৫-২০ জন অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পার্টি অফিসে প্রবেশ করে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, চাপাতির কোপে তার মাথায় গুরুতর জখম হয় এবং লোহার পাইপ ও রড দিয়ে মারধর করা হয়। এ সময় তার ব্যবসার নগদ ৫২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও তিনি দাবি করেন। আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা তার মাথায় আটটি সেলাই দেন। চিকিৎসা শেষে আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনার পর সাতাইশ ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। দলীয় কোন্দলের জেরে প্রকাশ্যে সহিংসতা ও পার্টি অফিস ভাঙচুরের ঘটনায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ধরনের সংঘর্ষ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার অফিসার ইনচার্জ জানান, বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ, জড়িতদের ভূমিকা এবং হামলায় ব্যবহৃত অস্ত্র সম্পর্কে বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং সংশ্লিষ্টদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তদন্তে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সে জন্য এলাকায় পুলিশের নজরদারি ও টহল জোরদার করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে সাবেক টঙ্গী থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সফিউদ্দিন সফি বলেন, সাতাইশ স্কুলসংলগ্ন সরকারি খাসপুকুরের পানি শুকিয়ে অবৈধভাবে মাছ ধরা, ফুটপাতে চাঁদাবাজি এবং মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ভয়ভীতি সৃষ্টি করে সমাজকে অস্থিতিশীল করছে। বিএনপির আদর্শ ও নীতির সঙ্গে এসব অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক নেই। দলীয় পরিচয়ের আড়ালে কিছু সুবিধাবাদী ব্যক্তি অবৈধ কার্যক্রমে জড়িয়ে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তদন্তের অগ্রগতি ও আইনগত পদক্ষেপের ওপর এখন সবার দৃষ্টি। নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক উত্তেজনা যেন আরও সহিংস রূপ না নেয়, সে ব্যাপারে প্রশাসন ও দলীয় নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।