ঢাকা ০২:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

অনুমোদনহীন গুদামে আগুন–বিস্ফোরণ, শামীম আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে জাতির শোক

টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২২৮৮ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোঃ শামীম আহমেদ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। চিকিৎসকরা জানান, শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পরও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি এই বীর ফায়ার ফাইটারকে। শামীম আহমেদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পিজাহাতী গ্রামে। তিনি স্ত্রী মনি আক্তার ও তিন সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করতেন। প্রায় ২০ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত থেকে সম্প্রতি তিনি লিডার পদে পদোন্নতি পান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শামীম আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানে প্রাণ দেওয়া ফায়ার ফাইটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৯ জনে।
১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ৪৯ জন সাহসী সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশন রোড সংলগ্ন সাহারা মার্কেট এলাকার ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেড নামের একটি টিনশেড সেমিপাকা গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
আগুন নেভানোর সময় ভেতরে মজুত থাকা কেমিক্যাল ড্রাম একের পর এক বিস্ফোরিত হলে চারজন ফায়ার ফাইটার ও কয়েকজন স্থানীয় গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের প্রতিক্রিয়া, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দগ্ধদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউন বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলার উপপরিচালক মো. আরেফিন বাদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেডের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় কেমিক্যালের গন্ধ ও ঝুঁকি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দোকান হারানো ব্যবসায়ী, আতঙ্কে থাকা বাসিন্দা এবং ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন—
“এ ধরনের অনুমোদনহীন বিপজ্জনক গোডাউন কেন চলতে দেওয়া হয়?”
শিক্ষা ও প্রার্থনা : এ দুর্ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিল—জনবহুল এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন রাখা যাবে না।
আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—বীর ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব হয় এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অনুমোদনহীন গুদামে আগুন–বিস্ফোরণ, শামীম আহমেদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে জাতির শোক

টঙ্গীতে কেমিক্যাল গোডাউন বিস্ফোরণে প্রাণ গেল ফায়ার ফাইটারের

আপডেট সময় : ১১:৫৫:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় গুরুতর দগ্ধ ফায়ার সার্ভিসের লিডার মোঃ শামীম আহমেদ শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। চিকিৎসকরা জানান, শরীরের শতভাগ দগ্ধ হওয়ায় তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। দীর্ঘ চেষ্টার পরও আর বাঁচানো সম্ভব হয়নি এই বীর ফায়ার ফাইটারকে। শামীম আহমেদের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার পিজাহাতী গ্রামে। তিনি স্ত্রী মনি আক্তার ও তিন সন্তান নিয়ে টঙ্গীতে বসবাস করতেন। প্রায় ২০ বছর ধরে ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত থেকে সম্প্রতি তিনি লিডার পদে পদোন্নতি পান।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শামীম আহমেদের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন অগ্নিকাণ্ড ও উদ্ধার অভিযানে প্রাণ দেওয়া ফায়ার ফাইটারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ৪৯ জনে।
১৯৬৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ ৪৯ জন সাহসী সদস্য জীবন উৎসর্গ করেছেন।
এর আগে সোমবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে টঙ্গী রেলস্টেশন রোড সংলগ্ন সাহারা মার্কেট এলাকার ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেড নামের একটি টিনশেড সেমিপাকা গোডাউনে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের অন্তত সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে ছুটে যায়।
আগুন নেভানোর সময় ভেতরে মজুত থাকা কেমিক্যাল ড্রাম একের পর এক বিস্ফোরিত হলে চারজন ফায়ার ফাইটার ও কয়েকজন স্থানীয় গুরুতর দগ্ধ হন। তাদের দ্রুত উদ্ধার করে জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।
ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালকের প্রতিক্রিয়া, ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ জাহেদ কামাল জানান, দগ্ধদের চিকিৎসায় সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তুতিও রাখা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন শিল্প এলাকায় অনুমোদনহীন কেমিক্যাল গোডাউন বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিবেশ অধিদপ্তর গাজীপুর জেলার উপপরিচালক মো. আরেফিন বাদল ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে জানান, ফেমাস কেমিক্যালস লিমিটেডের কোনো পরিবেশগত ছাড়পত্র বা ফায়ার লাইসেন্স ছিল না। ঘটনার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক ইসমাইল হোসেন পলাতক রয়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই ওই এলাকায় কেমিক্যালের গন্ধ ও ঝুঁকি নিয়ে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দোকান হারানো ব্যবসায়ী, আতঙ্কে থাকা বাসিন্দা এবং ক্ষুব্ধ সহকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন—
“এ ধরনের অনুমোদনহীন বিপজ্জনক গোডাউন কেন চলতে দেওয়া হয়?”
শিক্ষা ও প্রার্থনা : এ দুর্ঘটনা আবারও স্পষ্ট করে দিল—জনবহুল এলাকায় কেমিক্যাল গোডাউন রাখা যাবে না।
আমরা মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি—বীর ফায়ার ফাইটার শামীম আহমেদকে যেন জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব হয় এবং শোকাহত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের শক্তি দান করেন।