শিশুদের বই, খেলাধুলা ও শিক্ষা—টঙ্গীর সমাজ গড়ার সংগ্রামী যাত্রা; কম্পিউটার, বই ও শিক্ষাসামগ্রী দিয়ে পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করতে আহ্বান
ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার: টঙ্গীর শিশুদের আলোকিত ভবিষ্যতের অগ্রদূত মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু
- আপডেট সময় : ১১:৫৯:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২২২৫ বার পড়া হয়েছে

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম—এই উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এক স্বপ্নের যাত্রা। সমাজ কল্যাণ রোড, দত্তপাড়া, ইসলামপুর, টঙ্গীর বুক চিরে গড়ে ওঠা সেই স্বপ্নের নাম “ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার”। এটির প্রতিষ্ঠাতা মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনি শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মী নন, বরং শিশুপ্রেমী, বইপ্রেমী এবং সমাজসেবী সংগ্রামী।

“শিশুদের হাসি ও শিক্ষা—এইই আমাদের প্রকৃত সম্পদ।”– মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু
পাঠাগারের সূচনা ও কার্যক্রম : ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার—প্রথমে ছিল শহীদ স্মৃতি পাঠাগার, পরে ছায়া সংঘ, আর আজ পরিচিত এই নামে ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার।

এখানে শিশুদের জন্য নানা কার্যক্রম চলত—বৃত্তি প্রদান ও শিক্ষাবৃত্তি, ২৭টি স্কুল ও শাহজুদ্দিন স্কুল-কলেজে রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, রক্তদান কর্মসূচি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, বর্ণমালা মেলা, কুইজ প্রোগ্রাম, জাতীয় দিবস উদযাপন (২১ ফেব্রুয়ারি, ২৬ মার্চ, ১৬ ডিসেম্বর), বৃক্ষরোপণ, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সচেতনতা কর্মসূচি, খেলাধুলার মাঠ ও বিনোদন ব্যবস্থা, সবই শিশুদের জন্য—তাদের মেধা, চরিত্র ও সৃজনশীলতা বিকাশের লক্ষ্যে।
প্রতিবাদের সাহস ও প্রতিকূলতা : দিপুর উদ্যোগ কখনো সহজ ছিল না—অন্যায় দেখলেই প্রতিবাদ। শিশুদের খেলাধুলার মাঠ দখল হলে তা উদ্ধার, মানুষের জমি-সম্পদ রক্ষা, কখনো কারও কাছে হাত না দিয়ে কাজ,
প্রতিকূলতা: হুমকি, হামলা, গ্রেফতার, মিথ্যা মামলা, ২০১৪ সালে সহযোদ্ধা মোহাম্মদ আরিফ হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হলে তাকেও জড়ানো হয় “শিকল গায়ে পড়লেও জ্ঞানের আলোকে শিকল পরানো যায় না।”– মোঃ আলমগীর হোসেন দিপু
কারাগারে থেকেও বন্দিদের হাতে বই বিতরণ করেছেন। মুক্তির পর আবার শুরু করেছেন শিশুদের জন্য কার্যক্রম।
দিপুর জীবন নদীর মতো—কখনো শান্ত, কখনো উত্তাল। শিশুদের মুখে প্রথম অক্ষরের উচ্চারণ
রঙতুলিতে আঁকা স্বপ্নের ছবি, বইয়ের পাতায় জীবনের পাঠ, “একটি বই, একটি শিশু, একটি স্বপ্ন—একটি জাতিকে বদলে দিতে পারে।”
আজকের ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার, এখনও পাঠাগারটি দাঁড়িয়ে আছে শিশুদের জন্য এক আলোকিত আশ্রয়স্থল। বিনামূল্যে বই পড়ার সুযোগ, প্রতিভা বিকাশের বিভিন্ন কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক আসর ও জাতীয় দিবসের অনুষ্ঠান।
দিপুর স্পষ্ট আহ্বান: “শিশুদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার জন্য পাঠাগারকে আরও শক্তিশালী করতে আমাদের প্রয়োজন: কম্পিউটার, বই ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী। আপনার সহযোগিতা তাদের আলোকিত ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে। আসুন, সবাই হাত বাড়াই এবং ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগারকে সমৃদ্ধ করি।”
সংগ্রামী পাঠাগারকর্মী, রাজনৈতিক কর্মী + সমাজসেবক + শিশুদের অভিভাবক, কারাগারেও বই বিতরণ বন্দিদের হাতে বই পৌঁছে দিতেন, শিশুদের জন্য উদ্যোগ বিনামূল্যে টিকিট, রক্তদান, শিক্ষা ও খেলাধুলা কার্যক্রম, প্রতিবাদের সাহস অন্যায় ও দখল রোধে সোচ্চার, সহযোগিতার আহ্বান কম্পিউটার, বই ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী প্রদান করতে হবে।
মোঃ আলমগীর হোসেন দিপুর গল্প শেখায়—স্বপ্নকে আঁকড়ে ধরা মানেই সমাজ বদলের শক্তি অর্জন করা। তিনি শুধু রাজনৈতিক কর্মী নন, তিনি আলোর দিশারি। শিশুদের হাতে বই তুলে দেওয়া মানুষ, যিনি নিজের সংগ্রামকে সমাজসেবামূলক বিপ্লবে রূপান্তর করেছেন। ছায়া উন্মুক্ত পাঠাগার তাই শুধু একটি পাঠাগার নয়—এটি টঙ্গীর হৃদয়ে রোপিত এক অমর আলো।



















