মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে মিলাদ—শীতার্ত ও প্রতিবন্ধীদের পাশে কামরুল ইসলাম কামু ও আরিফ হোসেন হাওলাদার
এরশাদনগরে দোয়ার অশ্রু ও মানবতার উষ্ণতা
- আপডেট সময় : ১০:০৬:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
- / ২১৬৯ বার পড়া হয়েছে

যে নাম উচ্চারিত হলে ইতিহাস নীরব হয়ে শোনে, আর জনতার চোখে জমে ওঠে অশ্রু, সেই দেশনেত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারপারসন মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় এরশাদনগরে অনুষ্ঠিত হলো এক অনন্য মিলাদ ও দোয়া মাহফিল। যেখানে প্রার্থনার সাথে মিশে গেল মানবতার আলো, সহমর্মিতার উষ্ণতা।
জাতীয়তাবাদী ফোরাম, টঙ্গী পূর্ব থানার উদ্যোগে গাজীপুর মহানগরের ৪৯নং ওয়ার্ড (এরশাদ নগর) জাগরণী মিশন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিলে হাজারো ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন। কোরআন তেলাওয়াত, মিলাদ ও মোনাজাতের পাশাপাশি শীতার্ত, অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ আয়োজনটিকে রূপ দেয় ইবাদতসম মানবিকতায়।

দোয়ার মঞ্চে নেতৃত্বের দীপ্তিতে, মানবিক রাজনীতির কণ্ঠস্বর আরিফ হোসেন হাওলাদার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দল কেন্দ্রীয় কমিটির বিপ্লবী সহ-সভাপতি আরিফ হোসেন হাওলাদার। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার সংগ্রামী জীবন, আপসহীন রাজনীতি ও মানুষের অধিকারের প্রশ্নে অবিচল অবস্থান।
তিনি বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণ মানে শুধু অতীতকে স্মরণ নয়। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শপথ নতুন করে গ্রহণ করা। অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোই তাঁর আদর্শের প্রকৃত অনুসরণ।” তাঁর কণ্ঠে ছিল দৃঢ়তা, আর কথায় ছিল দায়িত্ববোধ। যা উপস্থিত মানুষের হৃদয়ে গভীরভাবে নাড়া দেয়।
মানবতার নিরব সৈনিক কামু শীতবস্ত্র বিতরণে মমতার রাজনীতি, মানুষের আস্থার ঠিকানা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯নং ওয়ার্ড বিএনপির নেতা মোঃ কামরুল ইসলাম কামু। যিনি শুধু একজন রাজনৈতিক নেতা নন, বরং এরশাদনগরের মানুষের কাছে এক জীবন্ত আস্থার নাম।
এই দিন হাজার হাজার শীতার্ত পরিবার ও প্রতিবন্ধী মানুষের হাতে নিজ হাতে কম্বল তুলে দেন তিনি। কিন্তু এই সহায়তা কোনো একদিনের আয়োজন নয়। মাসে মাসে নিয়মিতভাবে কাপড়, শীতবস্ত্র, খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছেন তিনি।
আবেগভেজা কণ্ঠে কামু বলেন, “এলাকার মানুষ আমার আত্মীয়-স্বজন। তারা সুস্থ থাকলে, ভালো থাকলে। আমরাও ভালো থাকবো। রাজনীতি যদি মানুষের জন্য না হয়, তাহলে সে রাজনীতির কোনো মূল্য নেই।”
চাল হোক কিংবা চিকিৎসার খরচ, দাফনের জন্য কবরস্থানের মাটি হোক কিংবা কবরস্থানের সৌন্দর্য বর্ধন, সবখানেই নীরবে পাশে থেকেছেন কামু। এজন্যই কেউ তাঁর দ্বারে গেলে কখনো ফিরে যাননি শূন্য হাতে। বর্তমানে তিনি ৪৯নং ওয়ার্ড, এরশাদনগরের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তবে মানুষের চোখে তিনি তার আগেই একজন নির্বাচিত প্রতিনিধি, ভরসার প্রতিনিধি।
দোয়া, দল আর মানুষের মিলনমেলায় হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত প্রার্থনা ও অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম রিপন, গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট শহীদুজ্জামান শহিদ, টঙ্গী পূর্ব থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আরিফুল হক প্রধান সুবেল, পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবু বক্কর সিদ্দিকসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী। মোনাজাতে মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত, দেশ ও জাতির শান্তি, গণতন্ত্রের পুনর্জাগরণ এবং অসহায় মানুষের কল্যাণ কামনা করা হয়। হাজারো মানুষের কণ্ঠে উচ্চারিত ‘আমিন’ যেন আকাশ ছুঁয়ে ফিরে আসে মানবতার ডাক হয়ে।
এই মিলাদ ও দোয়া মাহফিল শুধু স্মরণ নয়। এ ছিল ইতিহাসের সামনে এক মানবিক শপথ। যেখানে রাজনীতি হয়ে ওঠে ইবাদত, আর নেতৃত্ব হয়ে ওঠে মানুষের আশ্রয়।




















