১৪–১৫ তারিখের ইজতেমায় মুসল্লিদের অংশগ্রহণে প্রস্তুতি সভা; সমাজসেবা ও ধর্মীয় কার্যক্রমে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামুর সহযোগিতার প্রশংসা
ইজতেমাকে ঘিরে এরশাদনগরে দাওয়াতি তৎপরতা জোরদার
- আপডেট সময় : ০৪:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে গাজীপুরের টঙ্গী এরশাদনগর এলাকায় দাওয়াতি কার্যক্রম ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী ১৪ ও ১৫ তারিখ ইজতেমার মাঠে বিপুলসংখ্যক মুসল্লি ও তাবলিগের সাথী সমবেত হবেন। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ থেকে তিন দিন, চল্লিশ দিন এবং দীর্ঘমেয়াদি চিল্লার জন্য মুসল্লিদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তাবলিগের মূল উদ্দেশ্য মানুষের ঈমান, আমল, আখলাক ও উত্তম চরিত্র গঠন, মানুষের সঙ্গে সুন্দর আচরণ, পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের প্রতি গুরুত্ব, ওজু, নিয়ত এবং মহানবী (সা.)-এর আদর্শ অনুসরণে জীবন পরিচালনার শিক্ষা দেওয়া। এসব বিষয়ে নিয়মিত বয়ান, দাওয়াত ও তালিমের মাধ্যমে মুসল্লিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। এ উপলক্ষে তাবলিগ জামাতের হালকা-২০৭-এর দায়িত্বশীল মোঃ আবু তাহের এর নেতৃত্বে এরশাদনগর ৫ নম্বর ব্লকের মসজিদুল আকসা মসজিদে মাগরিবের নামাজের পর এক দাওয়াতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, মুসল্লি ও ধর্মপ্রাণ মানুষকে ইজতেমায় অংশগ্রহণ এবং চিল্লায় সময় দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে চল্লিশ দিনের জন্য যারা সময় দেবেন, তাদের একটি তালিকাও প্রস্তুত করা হয়।
সভায় উপস্থিত বক্তারা বলেন, তাবলিগের মাধ্যমে মানুষ আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা, ধৈর্য, দায়িত্ববোধ ও ইসলামী জীবনব্যবস্থা সম্পর্কে বাস্তব শিক্ষা লাভ করেন। সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় এ ধরনের দাওয়াতি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সভায় স্থানীয় কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। আয়োজকদের বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করে আসছেন। এবারের ইজতেমা উপলক্ষে তিনি নিজের ছেলেকেও চল্লিশ দিনের চিল্লার জন্য পাঠিয়েছেন। এর আগে নিজেও চল্লিশ দিনের জন্য সময় দিয়েছেন বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

আয়োজকরা আরও জানান, ধর্মীয় কার্যক্রম সফল করতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সহযোগিতা নিয়মিত করে থাকেন মোঃ কামরুল ইসলাম কামু। প্রস্তুতি সভায় অংশগ্রহণকারী মুসল্লিদের আপ্যায়নের জন্য তিনি আমসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন, যাতে উপস্থিত সবাই একসঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অংশ নিতে পারেন। একই দিন এশার নামাজের পর তিনি এরশাদনগর ৭ নম্বর ব্লকের বায়তুস সালাহ জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত মাসিক ইজতেমা ও মসজিদ কমিটির সভায় অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তাঁর ছেলে, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, অসুস্থ মানুষ এবং এলাকার মৃত ব্যক্তিদের রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া করা হয়।
অনুষ্ঠানে ২ নম্বর, ৬ নম্বর ও ৭ নম্বর ব্লকের ইমামগণ গুরুত্বপূর্ণ বয়ান প্রদান করেন। তারা বলেন, একজন মুসলমানের উচিত সৎ ও নামাজি মানুষের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা এবং মাদক ও সব ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকা। পাশাপাশি উত্তম চরিত্র, ভ্রাতৃত্ববোধ, মানুষের সঙ্গে সদাচরণ, সঠিকভাবে ওজু করার নিয়ম, কোরআন-সুন্নাহভিত্তিক বিভিন্ন দোয়া ও ইসলামী জীবনযাপনের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
বক্তারা হজ পালনের নিয়ত ও প্রস্তুতির গুরুত্বও তুলে ধরেন। তারা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, সুযোগ ও সামর্থ্য হলে মহান আল্লাহর ঘর কাবা শরিফ ও মদিনা শরিফ সফরের আকাঙ্ক্ষা হৃদয়ে ধারণ করা এবং ইসলামী মূল্যবোধের আলোকে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করা প্রত্যেক মুসলমানের কাম্য। অনুষ্ঠানের সমাপনী দোয়া পরিচালনা করেন মুফতি আবু হানিফ সিদ্দিকী, খতিব, দত্তপাড়া মোল্লাবাড়ি জামে মসজিদ, টঙ্গী এবং মুহতামিম, জামিয়া কারিমিয়া ফজলুল উলূম মাদরাসা। তিনি দোয়ায় মহান আল্লাহর কাছে উপস্থিত সবার গুনাহ মাফ, সুস্বাস্থ্য, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের তাওফিক, হালাল রিজিক, জীবিতদের কল্যাণ, মৃতদের মাগফিরাত এবং এলাকার শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
দোয়া শেষে উপস্থিত মুসল্লিদের জন্য তেহারি ও পানীয়ের ব্যবস্থা করা হয়। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এবারের ইজতেমায় এরশাদনগর এলাকা থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন এবং ইসলামী আদর্শ ও নৈতিক মূল্যবোধ চর্চার মাধ্যমে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ভূমিকা রাখবেন। স্থানীয়দের মতে, ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক বিভিন্ন উদ্যোগে নিয়মিত অংশগ্রহণ এবং সহযোগিতার কারণে মোঃ কামরুল ইসলাম কামু এলাকায় পরিচিত মুখ হিসেবে বিবেচিত। তারা আশা করেন, ভবিষ্যতেও তিনি এ ধরনের কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন।










