সোসাইটি মাঠের জুট গোডাউনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে খবর দেওয়া থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণ পর্যন্ত ঘটনাস্থলে থেকে সহযোগিতা
আগুনের সামনে মানুষ সবার আগে মানবিকতার পরিচয় নাজমুল হোসেন মন্ডলের
- আপডেট সময় : ০৭:৪০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬২৮ বার পড়া হয়েছে

আগুনের লেলিহান শিখা যখন সোসাইটি মাঠের জুট গোডাউনের আকাশজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছিল, তখন অনেকের চোখে ছিল ভয়, চারদিকে ছিল ছোটাছুটি। সেই সংকটময় মুহূর্তে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে ছুটে যান ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী নাজমুল হোসেন মন্ডল। ঘটনাস্থলে পৌঁছেই তিনি দ্রুত ফায়ার সার্ভিস ও টঙ্গী পূর্ব থানা পুলিশকে খবর দেন। শুধু খবর দিয়েই দায়িত্ব শেষ করেননি, আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় ঘটনাস্থলে অবস্থান করে উদ্ধার ও আগুন নেভানোর কাজে সহযোগিতা করেন। তাঁর সঙ্গে যুবদলের নেতাকর্মী ও স্থানীয় এলাকাবাসীও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন। অগ্নিকাণ্ডের তীব্রতা ছিল এমন যে, যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারত। তারপরও নাজমুল হোসেন মন্ডল ঝুঁকির কথা উপেক্ষা করে প্রয়োজনীয় পানি ও অন্যান্য সহায়তার ব্যবস্থা করতে এগিয়ে যান। বিকেল থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসা পর্যন্ত তাঁর এই উপস্থিতি স্থানীয়দের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পদ নয়, বিপদের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বড় পরিচয়, স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মানুষের বিপদে নাজমুল হোসেন মন্ডলের এগিয়ে আসার ঘটনা এলাকাবাসীর কাছে নতুন নয়। সামাজিক বিভিন্ন পরিস্থিতিতে মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করেন বলে স্থানীয়রা জানান। তবে সোসাইটি মাঠের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন বাস্তবতা, এখানে সময় ছিল অল্প, ঝুঁকি ছিল বেশি, আর প্রয়োজন ছিল তাৎক্ষণিক সহযোগিতার।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, “বিপদের সময় কে পাশে থাকে, সেটিই তখন মানুষের কাছে সবচেয়ে বড় পরিচয় হয়ে ওঠে।” তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর নাজমুল হোসেন মন্ডলের দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হওয়া এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে সহযোগিতা করা তাঁদের মনে দাগ কেটেছে। নাজমুল হোসেন মন্ডল বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের সদস্য সচিব ও গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদপ্রার্থী। তবে অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় তাঁর দলীয় বা সাংগঠনিক পরিচয়ের চেয়ে সামনে এসেছে একজন স্থানীয় মানুষের দুর্যোগের মুহূর্তে সক্রিয় থাকার বিষয়টি।
একটি অগ্নিকাণ্ড, একটি মানবিক মুহূর্ত, ইতিহাস সবসময় বড় কোনো আয়োজন দিয়ে তৈরি হয় না। কখনো কখনো একটি বিপদের মুহূর্ত, একটি সিদ্ধান্ত এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর একটি দৃশ্যও মানুষের স্মৃতিতে দীর্ঘদিন থেকে যায়। সোসাইটি মাঠের সেই অগ্নিকাণ্ডে নাজমুল হোসেন মন্ডলের ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে তেমনই একটি মুহূর্ত হয়ে উঠেছে। আগুন নেভানোর কাজে ফায়ার সার্ভিস ও সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি স্থানীয় যুবক ও এলাকাবাসীর সহযোগিতাও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের দিকে এগিয়ে যায়।
মানুষের জীবনে পদ-পদবি আসে, যায়; পরিচয়েরও পরিবর্তন হয়। কিন্তু দুর্যোগের মুহূর্তে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি থেকে যায় অনেক দীর্ঘ সময়। সোসাইটি মাঠের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও হয়তো এলাকাবাসীর স্মৃতিতে তেমন একটি দিন হয়ে থাকবে, যেদিন ভয়কে পেছনে রেখে অনেকে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। আর সেই দিনের ঘটনাপ্রবাহে নাজমুল হোসেন মন্ডলের ভূমিকা স্থানীয়দের কাছে একটি কথাই নতুন করে মনে করিয়ে দিয়েছে, “বিপদের সময় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই মানবিকতার সবচেয়ে বড় পরিচয়।”
আল্লাহ তায়ালা অগ্নিকাণ্ডসহ সব ধরনের দুর্ঘটনা থেকে মানুষকে হেফাজত করুন, ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তা করুন এবং সবাইকে নিরাপদে রাখুন—আমিন।



















