ঢাকা ১২:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত না করার আহ্বান বিএনপির

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২১১৯ বার পড়া হয়েছে




আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির মতে, নির্বাচনের মতো জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হলে তারা যেমন ব্যক্তিগতভাবে বিতর্কে জড়াতে পারে, তেমনি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অযাচিত বিতর্কের মুখে পড়তে হতে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত কারিগরি ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনে যাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কথা বলা আছে, তাদের দিয়েই নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করা উচিত। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, ছাত্রদের পর হয়তো স্কাউটদেরও যুক্ত করার চিন্তা করা হতে পারে। কমিশন আমাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।”
নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি গঠনের একটি গুঞ্জন তারা শুনেছেন। শান্তি কমিটি শব্দটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত অপ্রিয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় কাজ করছেন, যা থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আইনে বাধা না থাকলেও ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের নিজ নিজ এলাকা ত্যাগ করা উচিত বলে কমিশনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভোট পর্যবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তার ভাষায়, প্রায় পঞ্চান্ন হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিএনপির মতে, যাদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, কেবল তাদেরই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি যেন নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশনের তথ্য বিএনপির কাছে রয়েছে। যদিও কমিশন বলছে এই সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারের বেশি নয়, তবে এই তথ্যে বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। অনেক হোল্ডিং নম্বরে চার-পাঁচ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে বিশ থেকে ত্রিশ জন ভোটার থাকার অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে এবং কমিশন বিষয়টি তদন্ত করার কথা জানিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেও সাধারণ মানুষ বা প্রার্থীরা এ সম্পর্কে খুব একটা জানেন না। এই কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান করার জন্যও কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের যুক্ত না করার আহ্বান বিএনপির

আপডেট সময় : ১০:৫৭:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। দলটির মতে, নির্বাচনের মতো জটিল ও সংবেদনশীল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় অল্প বয়সী শিক্ষার্থীদের যুক্ত করা হলে তারা যেমন ব্যক্তিগতভাবে বিতর্কে জড়াতে পারে, তেমনি তাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকেও অযাচিত বিতর্কের মুখে পড়তে হতে পারে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত কারিগরি ও রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর প্রক্রিয়া। এই প্রক্রিয়ায় ছাত্রদের সম্পৃক্ত করা মোটেও বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।
বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আইনে যাদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের কথা বলা আছে, তাদের দিয়েই নির্বাচন সংক্রান্ত কাজ পরিচালনা করা উচিত। নজরুল ইসলাম খান বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি, ছাত্রদের পর হয়তো স্কাউটদেরও যুক্ত করার চিন্তা করা হতে পারে। কমিশন আমাদের বক্তব্যের যৌক্তিকতা স্বীকার করেছেন এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানিয়েছেন।”
নির্বাচনী এলাকার পরিস্থিতি নিয়েও কমিশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান বলেন, শান্তি কমিটি গঠনের একটি গুঞ্জন তারা শুনেছেন। শান্তি কমিটি শব্দটি বিএনপির কাছে অত্যন্ত অপ্রিয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের কোনো কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত তারা নেয়নি।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের এলাকা ছেড়ে অন্য এলাকায় কাজ করছেন, যা থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে। আইনে বাধা না থাকলেও ভোটের অন্তত দুই দিন আগে বহিরাগতদের নিজ নিজ এলাকা ত্যাগ করা উচিত বলে কমিশনকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
ভোট পর্যবেক্ষণ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন নজরুল ইসলাম খান। তার ভাষায়, প্রায় পঞ্চান্ন হাজারের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষককে অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে অনেক অপরিচিত প্রতিষ্ঠান রয়েছে। বিএনপির মতে, যাদের সক্ষমতা ও অভিজ্ঞতা রয়েছে, কেবল তাদেরই পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে অতিরিক্ত পর্যবেক্ষকের উপস্থিতি যেন নির্বাচনী কাজে বিঘ্ন না ঘটায়, সেদিকেও নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়।
ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে নজরুল ইসলাম খান বলেন, গত এক থেকে দেড় বছরে ঢাকা মহানগরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্বাভাবিক ভোটার মাইগ্রেশনের তথ্য বিএনপির কাছে রয়েছে। যদিও কমিশন বলছে এই সংখ্যা দুই থেকে তিন হাজারের বেশি নয়, তবে এই তথ্যে বিএনপি সন্তুষ্ট নয়। অনেক হোল্ডিং নম্বরে চার-পাঁচ জন থাকার কথা থাকলেও সেখানে বিশ থেকে ত্রিশ জন ভোটার থাকার অভিযোগের কথাও তিনি উল্লেখ করেন। আসনভিত্তিক সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়েছে এবং কমিশন বিষয়টি তদন্ত করার কথা জানিয়েছে।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, নির্বাচনী এলাকায় ইলেক্টোরাল ইনকয়ারি অ্যান্ড এডজুডিকেশন কমিটি থাকলেও সাধারণ মানুষ বা প্রার্থীরা এ সম্পর্কে খুব একটা জানেন না। এই কমিটির কার্যক্রম দৃশ্যমান করার জন্যও কমিশনের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এর আগে, নজরুল ইসলাম খানের নেতৃত্বে বিএনপির তিন সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেয়।