ঢাকা ১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

নির্যাতন, মারধর আর ত্যাগের গল্প—এরশাদনগরের এক নির্ভীক বিএনপি কর্মীর নিরলস প্রচারণা

ধানের শীষে অটল বিশ্বাস: ১৭ বছরের লড়াই শেষে নির্বাচনের আনন্দে আত্মহারা মো. নাসির উদ্দিন

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:২১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১২৫ বার পড়া হয়েছে




“রাত নেই, দিন নেই, পকেটের শেষ টাকাটাও দলকে দিয়ে দিচ্ছি। তবু ক্লান্তি নেই, আফসোস নেই। কারণ আমি বিএনপি করি।” এই কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুর-২ আসনের ৪৯নং ওয়ার্ড এরশাদনগরের পরিচিত মুখ, মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক। রাজনীতির মাঠে তার জীবন মানেই ত্যাগ, নির্যাতন আর অদম্য ভালোবাসার এক দীর্ঘ ইতিহাস।


আওয়ামী লীগ শাসনামলে বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন। মারধর, হুমকি, সামাজিক চাপ। কিছুই তাকে দলছাড়া করতে পারেনি। রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত হয়েছেন বহুবার, তবু আদর্শচ্যুত হননি এক চুলও। তিনি বলেন, “মার খেয়েছি, অপমান সয়েছি, তবু বিএনপি ছাড়িনি। কারণ বিএনপি শুধু দল না, এটা আমার বিশ্বাস।” নিজের টাকায় প্রচারণা, নিজের তাগিদে কাজ। বর্তমানে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির পক্ষে দিন-রাত মাঠে রয়েছেন তিনি। হাতে ধানের শীষের লিফলেট, দোকানে দোকানে ঘুরছেন, এলাকায় এলাকায় যাচ্ছেন। ভোট চাইছেন সাধারণ মানুষের কাছে। শুধু নিজেই নয়, নিজের টাকায় কর্মী নিয়োগ করে তাদের খরচও বহন করছেন। কোনো পদ-পদবির লোভ নয়, শুধুই বিশ্বাস আর ভালোবাসা।
১৭ বছর পর নির্বাচনের আনন্দ, ঈদের চেয়েও বেশি। মো. নাসির উদ্দিনের কণ্ঠে আবেগ ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর চোখের সামনে নির্বাচন দেখছি। মনে এমন আনন্দ লাগছে, যেন ছোটবেলায় নতুন কিছু পেয়ে যেতাম। ঈদের থেকেও বেশি খুশি লাগছে। ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।” এই আনন্দ তার কাছে কেবল রাজনৈতিক নয়, এ যেন জীবনের এক বড় প্রাপ্তি। পারিবারিক ইতিহাস আর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
তিনি আরও বলেন, “এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ভাই আমাদের অধ্যাপক এম এ মান্নান স্যারের সন্তান। তখন বাবার জন্য কাজ করেছি, আজ ছেলের জন্যও করছি। এটাই আমাদের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা।” এখানে শুধু ব্যক্তি নয়, একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতি আনুগত্য ফুটে ওঠে। বিএনপি মানেই দেশের সেবা। এই বিশ্বাসে অবিচল, মো. নাসির উদ্দিনের বিশ্বাস। “বিএনপি জিতলে আমরা দেশের সেবা করতে পারবো। বিএনপি মানে দেশের মঙ্গল। এ কারণেই আমরা নিজেরা, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছি।” তিনি বলেন, “বিএনপি আমাদের রক্তে মিশে আছে। বিএনপি ছাড়া আমরা এক নিঃশ্বাসও ফেলতে পারি না।” ইসলামী চেতনা ও রাজনীতি। একটি নৈতিক বন্ধন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন” (সূরা আল ইমরান: ১৪৬) মো. নাসির উদ্দিনের দীর্ঘ ধৈর্য, ত্যাগ ও অবিচলতা যেন এই আয়াতেরই জীবন্ত উদাহরণ। হাদীসে এসেছে, “সর্বোত্তম মানুষ সেই, যে মানুষের উপকারে আসে।”
রাজনীতিকে তিনি ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবেই দেখেন।
মো. নাসির উদ্দিন কোনো বড় নেতা নন, কিন্তু তিনি রাজনীতির প্রাণ। তার মতো নিঃস্বার্থ কর্মীরাই একটি দলের ভিত শক্ত করে, আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখে। ধানের শীষ হাতে নিয়ে দোকান থেকে দোকানে হাঁটা এই মানুষটির চোখে আজ শুধু ভোট নয়। তিনি দেখছেন একটি স্বপ্ন, একটি পরিবর্তন, একটি নতুন ভোর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

নির্যাতন, মারধর আর ত্যাগের গল্প—এরশাদনগরের এক নির্ভীক বিএনপি কর্মীর নিরলস প্রচারণা

ধানের শীষে অটল বিশ্বাস: ১৭ বছরের লড়াই শেষে নির্বাচনের আনন্দে আত্মহারা মো. নাসির উদ্দিন

আপডেট সময় : ১০:২১:১৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

“রাত নেই, দিন নেই, পকেটের শেষ টাকাটাও দলকে দিয়ে দিচ্ছি। তবু ক্লান্তি নেই, আফসোস নেই। কারণ আমি বিএনপি করি।” এই কথাগুলো বলছিলেন গাজীপুর-২ আসনের ৪৯নং ওয়ার্ড এরশাদনগরের পরিচিত মুখ, মো. নাসির উদ্দিন। তিনি সাবেক স্বেচ্ছাসেবক দল ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক। রাজনীতির মাঠে তার জীবন মানেই ত্যাগ, নির্যাতন আর অদম্য ভালোবাসার এক দীর্ঘ ইতিহাস।


আওয়ামী লীগ শাসনামলে বারবার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন মো. নাসির উদ্দিন। মারধর, হুমকি, সামাজিক চাপ। কিছুই তাকে দলছাড়া করতে পারেনি। রাজনৈতিকভাবে নির্ধারিত হয়েছেন বহুবার, তবু আদর্শচ্যুত হননি এক চুলও। তিনি বলেন, “মার খেয়েছি, অপমান সয়েছি, তবু বিএনপি ছাড়িনি। কারণ বিএনপি শুধু দল না, এটা আমার বিশ্বাস।” নিজের টাকায় প্রচারণা, নিজের তাগিদে কাজ। বর্তমানে ক্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম. মঞ্জুরুল করিম রনির পক্ষে দিন-রাত মাঠে রয়েছেন তিনি। হাতে ধানের শীষের লিফলেট, দোকানে দোকানে ঘুরছেন, এলাকায় এলাকায় যাচ্ছেন। ভোট চাইছেন সাধারণ মানুষের কাছে। শুধু নিজেই নয়, নিজের টাকায় কর্মী নিয়োগ করে তাদের খরচও বহন করছেন। কোনো পদ-পদবির লোভ নয়, শুধুই বিশ্বাস আর ভালোবাসা।
১৭ বছর পর নির্বাচনের আনন্দ, ঈদের চেয়েও বেশি। মো. নাসির উদ্দিনের কণ্ঠে আবেগ ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, “দীর্ঘ ১৭ বছর পর চোখের সামনে নির্বাচন দেখছি। মনে এমন আনন্দ লাগছে, যেন ছোটবেলায় নতুন কিছু পেয়ে যেতাম। ঈদের থেকেও বেশি খুশি লাগছে। ভাষায় প্রকাশ করতে পারছি না।” এই আনন্দ তার কাছে কেবল রাজনৈতিক নয়, এ যেন জীবনের এক বড় প্রাপ্তি। পারিবারিক ইতিহাস আর রাজনৈতিক উত্তরাধিকার।
তিনি আরও বলেন, “এম. মঞ্জুরুল করিম রনি ভাই আমাদের অধ্যাপক এম এ মান্নান স্যারের সন্তান। তখন বাবার জন্য কাজ করেছি, আজ ছেলের জন্যও করছি। এটাই আমাদের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা।” এখানে শুধু ব্যক্তি নয়, একটি রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের প্রতি আনুগত্য ফুটে ওঠে। বিএনপি মানেই দেশের সেবা। এই বিশ্বাসে অবিচল, মো. নাসির উদ্দিনের বিশ্বাস। “বিএনপি জিতলে আমরা দেশের সেবা করতে পারবো। বিএনপি মানে দেশের মঙ্গল। এ কারণেই আমরা নিজেরা, স্বতঃস্ফূর্তভাবে কাজ করছি।” তিনি বলেন, “বিএনপি আমাদের রক্তে মিশে আছে। বিএনপি ছাড়া আমরা এক নিঃশ্বাসও ফেলতে পারি না।” ইসলামী চেতনা ও রাজনীতি। একটি নৈতিক বন্ধন, ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী,
“নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের ভালোবাসেন” (সূরা আল ইমরান: ১৪৬) মো. নাসির উদ্দিনের দীর্ঘ ধৈর্য, ত্যাগ ও অবিচলতা যেন এই আয়াতেরই জীবন্ত উদাহরণ। হাদীসে এসেছে, “সর্বোত্তম মানুষ সেই, যে মানুষের উপকারে আসে।”
রাজনীতিকে তিনি ক্ষমতার হাতিয়ার নয়, মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবেই দেখেন।
মো. নাসির উদ্দিন কোনো বড় নেতা নন, কিন্তু তিনি রাজনীতির প্রাণ। তার মতো নিঃস্বার্থ কর্মীরাই একটি দলের ভিত শক্ত করে, আন্দোলনকে বাঁচিয়ে রাখে। ধানের শীষ হাতে নিয়ে দোকান থেকে দোকানে হাঁটা এই মানুষটির চোখে আজ শুধু ভোট নয়। তিনি দেখছেন একটি স্বপ্ন, একটি পরিবর্তন, একটি নতুন ভোর।