ঢাকা ০৪:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

দেশে বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫
  • / ২৩১৪ বার পড়া হয়েছে




দেশে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোট ৮৩৬ নারী ও কন্যাশিশু। তার মধ্যে ২৬০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর মার্চে পৃথকভাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩৯৪ জন আর শুধু মার্চেই ৪৪২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত মার্চে ২৪৮ কন্যাশিশু এবং ১৯৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ১২৫ শিশুসহ ১৬৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ শিশুসহ ৩৬ জন। দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে আর দু’জন ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে। তাছাড়া ৫৫ শিশুসহ ৭০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শিশুসহ ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে তিন শিশুসহ ১১ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। চার শিশু ও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে । জানুয়ারি মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৫ নারী ও কন্যাশিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৩ শিশুসহ ৪৯ জন। তার মধ্যে ১৪ শিশুসহ ২০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুসহ দু’জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া দু’জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের মার্চে শিশু ও নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকার অভাব, বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যে হারে বেড়ে চলেছে, তা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধর্ষণ বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বেড়েছে। মার্চে ১৩২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৭টি। মার্চে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১৭টি, যেটি পরের মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫টিতে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে ঘটেছিল ১৯টি, আর মার্চে ৬১টি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষ আরো বেড়েছে। নারীকে অপমান করা, প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা ঘটছে। দেশে মব সহিংসতা বেড়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে অপরাধীর শাস্তি দাবি করছি। আর আইন যেমন যথাযথ হওয়া দরকার, তেমনি ভুক্তভোগীর বিচার প্রক্রিয়ার বাধাগুলোও দূর করা দরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশে বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা

আপডেট সময় : ১১:৪৮:০২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৫

দেশে ক্রমাগত বেড়েই চলেছে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনা। গত জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছে মোট ৮৩৬ নারী ও কন্যাশিশু। তার মধ্যে ২৬০ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। আর মার্চে পৃথকভাবে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারির চেয়ে দ্বিগুণের বেশি নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মোট ৩৯৪ জন আর শুধু মার্চেই ৪৪২ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, দেশে গত মার্চে ২৪৮ কন্যাশিশু এবং ১৯৪ জন নারী নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে ১২৫ শিশুসহ ১৬৩ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১৮ শিশুসহ ৩৬ জন। দুই শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে আর দু’জন ধর্ষণের কারণে আত্মহত্যা করেছে। তাছাড়া ৫৫ শিশুসহ ৭০ জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৯ নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এর মধ্যে ৩০ শিশুসহ ৪৮ জন ধর্ষণের শিকার হয়েছে। তার মধ্যে তিন শিশুসহ ১১ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। চার শিশু ও এক নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে । জানুয়ারি মাসে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ২০৫ নারী ও কন্যাশিশু। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার হয়েছে ৩৩ শিশুসহ ৪৯ জন। তার মধ্যে ১৪ শিশুসহ ২০ জন দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছে। এক শিশুসহ দু’জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তাছাড়া দু’জনকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, চলতি বছরের মার্চে শিশু ও নারী নির্যাতন, বিশেষ করে ধর্ষণের ঘটনা ব্যাপকভাবে ঘটেছে। নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা রোধে দেশে যথেষ্ট কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও অপরাধ দমন ও নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর ভূমিকার অভাব, বিচারহীনতা ও বিচারের দীর্ঘসূত্রতা অপরাধীদের বেপরোয়া করে তুলেছে। দেশে নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা যে হারে বেড়ে চলেছে, তা জাতীয় জীবনে অন্যতম প্রধান উদ্বেগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। ধর্ষণ বেড়ে অসহনীয় পর্যায়ে যাওয়ায় জনমনে নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা বেড়েছে। মার্চে ১৩২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। আর ফেব্রুয়ারিতে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে ৫৭টি। মার্চে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনা ছিল ১৭টি, যেটি পরের মাসে বেড়ে দাঁড়ায় ২৫টিতে। ধর্ষণচেষ্টার ঘটনা ফেব্রুয়ারিতে ঘটেছিল ১৯টি, আর মার্চে ৬১টি।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম জানান, দেশে নারীর প্রতি বিদ্বেষ আরো বেড়েছে। নারীকে অপমান করা, প্রকাশ্যে অপদস্থ করার ঘটনা ঘটছে। দেশে মব সহিংসতা বেড়েছে। আমরা দ্রুততম সময়ে অপরাধীর শাস্তি দাবি করছি। আর আইন যেমন যথাযথ হওয়া দরকার, তেমনি ভুক্তভোগীর বিচার প্রক্রিয়ার বাধাগুলোও দূর করা দরকার।