“নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব। মানুষের বিশ্বাসই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি।”
ত্যাগ, সাহস, আদর্শ ও সহযোদ্ধাদের ভালোবাসায় শেখ মোঃ সুমন
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১০ বার পড়া হয়েছে

রাজনীতির ইতিহাস কেবল পদ-পদবি, ক্ষমতা কিংবা পরিচিতির ইতিহাস নয়। রাজনীতির ইতিহাসে জায়গা করে নেয় মানুষের জন্য কাজ করার প্রত্যয়, প্রতিকূলতার মুখেও আদর্শে অবিচল থাকার সাহস, সহযোদ্ধাদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং দীর্ঘ পথচলায় অর্জিত মানুষের বিশ্বাস। কখনো রাজপথের উত্তাপ, কখনো কারাবরণের স্মৃতি, কখনো পরিবারের কাছ থেকে দূরে থাকার বেদনা, আবার কখনো সহকর্মীর বিপদে পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব, এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়েই একজন রাজনৈতিক কর্মীর জীবনের গল্প রচিত হয়। গাজীপুরের টঙ্গী অঞ্চলের রাজনৈতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা শেখ মোঃ সুমনকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক পথচলার আলোচনায় উঠে আসে সংগ্রাম, সাংগঠনিক সম্পৃক্ততা এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বিষয়গুলো। তিনি গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পরিচিত। তাঁর রাজনৈতিক বক্তব্য ও স্লোগানে রয়েছে, “সবার আগে বাংলাদেশ”, “যুব ঐক্য, প্রগতি” এবং “নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব।” এসব বক্তব্যের মধ্য দিয়ে তিনি যে রাজনৈতিক দর্শন তুলে ধরতে চান, তার কেন্দ্রে রয়েছে দেশ, সংগঠন, তরুণসমাজ এবং মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা। একজন তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মী থেকে বৃহত্তর নেতৃত্বের পরিসরে পৌঁছানোর স্বপ্ন বাস্তবায়নে প্রয়োজন শুধু রাজনৈতিক পরিচিতি নয়; প্রয়োজন দায়িত্বশীল কাজের ধারাবাহিকতা, মানুষের আস্থা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং প্রতিকূল সময়েও নীতির প্রশ্নে স্থির থাকার সক্ষমতা। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক পথচলাকে মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও এই বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ।
ছাত্রজীবন থেকে রাজনৈতিক পথচলা, সংগ্রামের স্মৃতিতে গড়া অধ্যায়, একজন মানুষের রাজনৈতিক জীবনের ভিত্তি অনেক সময় তৈরি হয় ছাত্রজীবনেই। সেই বয়সে গড়ে ওঠা বিশ্বাস, সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ততা এবং সমাজ ও দেশের বিষয়ে চিন্তাভাবনা পরবর্তী জীবনের রাজনৈতিক অবস্থানকে প্রভাবিত করে। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে তাঁর দেওয়া বর্ণনায় ছাত্রজীবন থেকেই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকা এবং দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকার কথা উঠে আসে। রাজনৈতিক পথচলার এই অধ্যায়কে ঘিরে রয়েছে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হওয়া, ব্যক্তিগত জীবনে চাপের অভিজ্ঞতা এবং পরিবারকে সময় দিতে না পারার মতো কঠিন পরিস্থিতির বর্ণনা। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রেপ্তার ও কারাবরণের অভিজ্ঞতার পাশাপাশি পুলিশের আসা-যাওয়া ও হয়রানির আশঙ্কাও তাঁর পারিবারিক জীবনে উদ্বেগ তৈরি করেছিল। রাজনীতির মাঠে সক্রিয় থাকার অভিজ্ঞতা কখনো কখনো একজন কর্মীর ব্যক্তিগত জীবনকে কঠিন করে তোলে। পরিবারের সদস্যদের দুশ্চিন্তা, স্বাভাবিক জীবনযাপনে বিঘ্ন এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা, এসবের প্রভাব শুধু রাজনৈতিক কর্মীর ওপর নয়, তাঁর কাছের মানুষদের ওপরও পড়ে। তবে এসব অভিজ্ঞতার নির্দিষ্ট সময়কাল, মামলা, কারাবরণের বিবরণ ও প্রত্যক্ষ প্রমাণ সামনে এলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের ইতিহাস আরও নির্ভুলভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে। কারণ ত্যাগের মূল্যায়ন শুধু আবেগ দিয়ে নয়, সত্যনিষ্ঠ তথ্য ও বাস্তব ঘটনার ভিত্তিতেও হওয়া প্রয়োজন।
প্রতিকূলতার মুখেও দায়িত্ববোধ. রাজনীতির কঠিন পরীক্ষায় একজন কর্মী, রাজনীতির পথ সব সময় মসৃণ হয় না। কখনো পরিস্থিতি অনুকূলে থাকে, কখনো আসে কঠিন সময়। রাজনৈতিক বিশ্বাস ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে একজন কর্মীকে ব্যক্তিগত স্বাচ্ছন্দ্য, সময় ও নানা সুযোগের সঙ্গে আপস করতে হতে পারে। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে তাঁর বক্তব্যে প্রতিকূলতার মধ্যেও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকার কথা উঠে আসে। তাঁর সমর্থকদের দৃষ্টিতে, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে উপস্থিতি তাঁর পরিচিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একজন রাজনৈতিক কর্মীর সংগ্রাম তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও দায়িত্বশীল, সহনশীল ও মানুষের প্রতি সংবেদনশীল করে তোলে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতি সম্মান দেখানো এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার চেষ্টা একজন নেতার গ্রহণযোগ্যতাকে আরও দৃঢ় করে। শেখ মোঃ সুমনের সামনের পথেও তাই রয়েছে দায়িত্বের বড় পরিসর, অতীতের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক সাংগঠনিক কাজে রূপ দেওয়া, তরুণদের উৎসাহিত করা এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানকে আরও সুসংহত করা।
সহযোদ্ধাদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকা, সংগঠনের প্রাণশক্তি, একটি রাজনৈতিক সংগঠনের শক্তি শুধু মিছিলের জনসমাগম কিংবা সভার বক্তব্যে সীমাবদ্ধ নয়। সংগঠনের প্রকৃত শক্তি তৈরি হয় নেতা-কর্মীদের পারস্পরিক বিশ্বাস, সম্মান, সহযোগিতা এবং বিপদের সময়ে একে অপরের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে। শেখ মোঃ সুমনকে ঘিরে তাঁর সমর্থকদের অন্যতম প্রত্যাশা হলো, তিনি যেন দলীয় নেতা-কর্মীদের সুখে-দুঃখে পাশে থাকেন, তাঁদের কথা শোনেন এবং সাংগঠনিক প্রয়োজনে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন। তাঁদের মতে, দলীয় কর্মসূচিতে তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ও সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ তাঁর সাংগঠনিক পরিচয়ের উল্লেখযোগ্য দিক। রাজনীতিতে এমন সম্পর্কের মূল্য অনেক। একজন কর্মী যখন অনুভব করেন যে তাঁর কথা শোনার মতো কেউ আছেন, তাঁর বিপদের সময় পাশে দাঁড়ানোর মতো সহযোদ্ধা আছেন, তখন সংগঠনের প্রতি তাঁর দায়িত্ববোধও শক্তিশালী হতে পারে। তবে একটি শক্তিশালী সংগঠন কখনো এক ব্যক্তির ওপর নির্ভর করে না। বরং প্রত্যেক নেতা-কর্মীর শ্রম, ত্যাগ ও অবদানকে সম্মান করে সম্মিলিত নেতৃত্ব গড়ে তোলাই সংগঠনের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্যের ভিত্তি। শেখ মোঃ সুমনের নেতৃত্বের ইতিবাচক মূল্যায়নও হতে পারে এই দৃষ্টিভঙ্গিতে, তিনি কতটা ঐক্য ধরে রাখতে পারেন, কতটা নতুন নেতৃত্ব তৈরি করতে পারেন এবং সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনে কতটা ধারাবাহিকতা দেখাতে পারেন।

আদর্শের প্রতি আনুগত্য, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্ব, শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক বক্তব্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আনুগত্যের কথা গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের নেতা হিসেবে তিনি স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও যুবসমাজের ঐক্যের প্রশ্নে অবিচল থাকার প্রত্যয় প্রকাশ করেন। তাঁর ব্যবহৃত স্লোগান, “স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে যুবদল সর্বদা অবিচল” সংগঠনের রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শিক অঙ্গীকারের পরিচায়ক। আরেকটি স্লোগান, “সবার আগে বাংলাদেশ” দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রত্যয় তুলে ধরে। রাজনৈতিক আদর্শের প্রকৃত মূল্যায়ন হয় তখনই, যখন তা বাস্তব জীবনে দায়িত্বশীল আচরণ, জনকল্যাণমূলক কাজ, ভিন্নমতের প্রতি সম্মান এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চায় প্রতিফলিত হয়।
শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক পথচলার সামনে তাই গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হলো, আদর্শের প্রতি আনুগত্যকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, মানবিক আচরণ ও জনসম্পৃক্ততার মাধ্যমে আরও কার্যকর করে তোলা। যুবসমাজের শক্তি ও আগামীর বাংলাদেশ, যুবসমাজ একটি দেশের সম্ভাবনা, উদ্যম ও পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি তৈরি করা, তাঁদের সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন করা এবং শিক্ষা, দক্ষতা, কর্মসংস্থান ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার সুযোগ রয়েছে প্রতিটি যুবসংগঠনের সামনে। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক বক্তব্যে যুবসমাজকে সংগঠিত করা এবং আগামীর বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের অংশগ্রহণের আহ্বান রয়েছে। তাঁর স্লোগান, “যুবদলের গর্বিত সৈনিক, তরুণদের নেতৃত্ব, আগামী বাংলাদেশের মুক্তি” তরুণদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের প্রত্যাশা প্রকাশ করে। এই প্রত্যাশাকে বাস্তব রূপ দিতে হলে প্রয়োজন মাঠপর্যায়ে কাজ। তরুণদের মাদক থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ, দরিদ্র শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো, কর্মসংস্থান বিষয়ে সচেতনতা এবং স্থানীয় সমস্যার সমাধানে স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপ। টঙ্গী ও গাজীপুরের মতো শিল্পাঞ্চলে তরুণদের কর্মসংস্থান, শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান, শিক্ষা এবং নাগরিক সমস্যার সঙ্গে রাজনীতির নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। এসব বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারলে একজন যুবনেতার সাংগঠনিক পরিচিতি মানুষের বাস্তব জীবনের সঙ্গে আরও অর্থবহভাবে যুক্ত হতে পারে।
টঙ্গী পশ্চিম থানা থেকে গাজীপুর মহানগর, সাংগঠনিক দায়িত্বের বিস্তৃত পরিসর, শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক পরিচয়ের দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো গাজীপুর মহানগর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের সভাপতি হিসেবে তাঁর দায়িত্ব। এসব পদ কেবল পরিচয়ের অংশ নয়; এর সঙ্গে রয়েছে সাংগঠনিক সমন্বয়, নেতা-কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ, দলীয় কর্মসূচি বাস্তবায়ন এবং সংগঠনের শৃঙ্খলা বজায় রাখার প্রত্যাশা। একজন দায়িত্বশীল সংগঠকের সাফল্য নির্ভর করে তিনি কতটা কার্যকরভাবে সহকর্মীদের সঙ্গে সমন্বয় করেন, নতুন কর্মীদের উৎসাহিত করেন এবং সাংগঠনিক সিদ্ধান্তকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বাস্তবায়ন করেন, তার ওপর। শেখ মোঃ সুমনের জন্যও এই দায়িত্বের পরিসর গুরুত্বপূর্ণ। তিনি যদি সংগঠনের প্রতিটি স্তরের নেতা-কর্মীর মতামতকে গুরুত্ব দেন, যোগ্য ও সৎ নেতৃত্ব বিকাশে সহযোগিতা করেন এবং শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখেন, তাহলে তাঁর সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ হতে পারে। রাজনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতা গড়ে ওঠে কাজের ধারাবাহিকতা দিয়ে। পদ একজন মানুষকে দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়; কিন্তু সেই দায়িত্ব কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করা হলো, তার মূল্যায়ন করেন সহকর্মী ও সাধারণ মানুষ।
জাতীয় নেতৃত্বের দৃষ্টি আকর্ষণের পথ, বক্তব্যের চেয়ে কাজের শক্তি, একজন তৃণমূল নেতার জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জনের স্বপ্ন অস্বাভাবিক নয়। তবে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন নির্ভরযোগ্য কাজের রেকর্ড, সাংগঠনিক দক্ষতা, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর বাস্তব দৃষ্টান্ত এবং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক আচরণ। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক জীবনের সংগ্রাম ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের নির্দিষ্ট ঘটনাগুলো তথ্য-প্রমাণসহ নথিবদ্ধ করা গেলে তা তাঁর পরিচিতিকে আরও সুসংহত করতে পারে। ছাত্রজীবনের রাজনৈতিক সূচনা, আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণ, কারাবরণের নথি, দলীয় দায়িত্ব পালনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা এবং জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের বিবরণ তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি পূর্ণাঙ্গ দলিল হয়ে উঠতে পারে। জাতীয় পর্যায়ের নেতৃত্বের কাছে একজন তৃণমূল নেতার অবদান তুলে ধরতে হলে প্রয়োজন সুসংগঠিত প্রতিবেদন, নির্ভরযোগ্য তথ্য, ছবি, তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য। এতে তাঁর রাজনৈতিক পথচলার বাস্তবতা ও সাংগঠনিক ভূমিকা স্পষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণের ক্ষেত্রেও সবচেয়ে শক্তিশালী উপাদান হলো বাস্তব কাজ, দায়িত্বশীলতা এবং জনস্বার্থে অবদানের প্রমাণ। প্রশংসামূলক বক্তব্য সাময়িক পরিচিতি এনে দিতে পারে; কিন্তু ধারাবাহিক কর্মদক্ষতা ও মানুষের আস্থা একজন নেতার দীর্ঘমেয়াদি গ্রহণযোগ্যতার ভিত্তি তৈরি করে।
নেতৃত্বের প্রকৃত পরিচয়, ক্ষমতায় নয়, মানুষের বিশ্বাসে, শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক বক্তব্যের কেন্দ্রীয় বার্তাটি স্পষ্ট “নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব।” এই কথার মধ্যে রয়েছে রাজনৈতিক নেতৃত্ব সম্পর্কে মানুষের প্রত্যাশার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। মানুষ এমন নেতৃত্ব দেখতে চায়, যে মানুষের কথা শুনবে, দায়িত্ব পালনে আন্তরিক হবে, প্রতিশ্রুতি ও কাজের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখবে এবং সংগঠনের প্রত্যেক কর্মীর মর্যাদা রক্ষা করবে। একজন নেতা কত বড় পদে আছেন, তার পাশাপাশি তিনি কতটা দায়িত্বশীল, কতটা মানবিক এবং মানুষের প্রয়োজনে কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রাজনীতিতে পরিচিতি অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু সেই পরিচিতিকে স্থায়ী সম্মানে রূপ দিতে প্রয়োজন সততা, শৃঙ্খলা, সহনশীলতা এবং কাজের মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করা। রাজনৈতিক প্রতিকূলতার অভিজ্ঞতা তখনই অর্থবহ হয়ে ওঠে, যখন তা ভবিষ্যতের দায়িত্ব আরও নিষ্ঠার সঙ্গে পালনের প্রেরণা দেয়। শেখ মোঃ সুমনের সামনের পথেও রয়েছে সেই প্রত্যাশা, সহযোদ্ধাদের আস্থা ধরে রাখা, তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা, সাংগঠনিক ঐক্য বজায় রাখা এবং মানুষের বাস্তব সমস্যার প্রতি সংবেদনশীল থাকা।
রাজপথের অভিজ্ঞতা থেকে আগামীর দায়িত্ব, এক চলমান রাজনৈতিক অধ্যায়, রাজনীতির ইতিহাসে মানুষের স্মৃতিতে জায়গা করে নেন তাঁরাই, যাঁদের কাজ সময়ের পরীক্ষায় টিকে থাকে। পদ-পদবি পরিবর্তিত হয়, রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলায়, কিন্তু মানুষের জন্য করা কাজ এবং দায়িত্ব পালনের দৃষ্টান্ত দীর্ঘদিন মূল্যায়িত হয়। শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক পথচলাও একটি চলমান অধ্যায়। তাঁর অতীতের সংগ্রামের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দায়িত্ব এবং সহযোদ্ধাদের সঙ্গে সম্পর্ককে যদি বাস্তব জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের সঙ্গে আরও দৃঢ়ভাবে যুক্ত করা যায়, তাহলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচিতি আরও অর্থবহ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। তাঁর সামনে সম্ভাবনার দরজা খুলতে পারে তরুণদের জন্য কার্যকর উদ্যোগ, সামাজিক সমস্যার সমাধানে অংশগ্রহণ, সংগঠনের অভ্যন্তরে ঐক্য ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং দায়িত্বশীল নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে। স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের আস্থা অর্জন এবং সংগঠনের কাজে ধারাবাহিক সাফল্যই বৃহত্তর রাজনৈতিক পরিসরে এগিয়ে যাওয়ার সবচেয়ে শক্ত ভিত্তি।
একজন নেতার বড় পরিচয় শুধু তাঁর পদ নয়; তিনি কীভাবে দায়িত্ব পালন করেন, সহযোদ্ধাদের কতটা সম্মান করেন এবং মানুষের বিশ্বাসকে কতটা মর্যাদা দেন, সেই প্রশ্নের উত্তরেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের প্রকৃত মূল্যায়ন নিহিত।
শেখ মোঃ সুমনের রাজনৈতিক পথচলার মূল প্রত্যাশাও হোক এমন, আদর্শে অবিচল, দায়িত্বে নিষ্ঠাবান, আচরণে মানবিক এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট এক সংগঠক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করা। স্লোগানে, অঙ্গীকারে ও দায়িত্ব পালনে, সবার আগে বাংলাদেশ। শেখ মোঃ সুমন, যুগ্ম আহ্বায়ক, গাজীপুর মহানগর যুবদল, সভাপতি, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল। “যুব ঐক্য, প্রগতি, স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রতি অঙ্গীকার। নেতৃত্ব মানে ক্ষমতা নয়, নেতৃত্ব মানে দায়িত্ব; মানুষের বিশ্বাসই একজন নেতার সবচেয়ে বড় শক্তি।”




















