অহরহ সহিংসতায় অতিষ্ঠ জনপদ; “কারা দিচ্ছে সেল্টার?” আইনের আওতায় আনার দাবি এলাকাবাসীর
টঙ্গীর এরশাদনগরে রক্তাক্ত সংঘর্ষ: ৫ জন আহত, মৃত্যুর গুঞ্জন—অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
- আপডেট সময় : ১১:০৯:০৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / ২০৬৫ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গী পূর্ব থানাধীন এরশাদনগর ৩ নম্বর ব্লক এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জেরে দুই গ্রুপের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষে অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এরই মধ্যে একজনের মৃত্যুর গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়লেও এখনো পর্যন্ত তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি। স্থানীয় সূত্র জানায়, সোহাগ মিয়া ও অহিদুল ইসলামের সঙ্গে প্রতিপক্ষ রবু ইসলাম রবো ও তার সহযোগীদের দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। সেই বিরোধের জের ধরে অতর্কিত হামলার ঘটনা ঘটে। পরে তা রূপ নেয় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষে।
সংঘর্ষের সময় অহিদুল ইসলামের মা লাকি আক্তার ছেলেকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে তিনিও গুরুতর আহত হন। যা এই সহিংসতার নির্মম চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে তোলে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন সোহাগ মিয়া (২২), অহিদুল ইসলাম (২৪) ও লাকি আক্তার। তাদের প্রথমে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার সরকারি হাসপাতালে নেয়া হয়, পরে গুরুতর অবস্থায় সোহাগ ও অহিদুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। অপরদিকে, দ্বিতীয় পক্ষের মোঃ শাকিলও গুরুতর আহত হয়েছেন।
উভয় পক্ষের সংশ্লিষ্টরা হলেন। প্রথম পক্ষ: সোহাগ মিয়া, অহিদুল ইসলাম ও লাকি আক্তার। দ্বিতীয় পক্ষ: রবু ইসলাম রবো (২৫), মোঃ শাকিল ও সাগর (২৩)। তারা সবাই এরশাদনগর এলাকার বাসিন্দা। টঙ্গী পূর্ব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মেহেদী হাসান জানান, “ঘটনা সত্য। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
অহরহ সহিংসতা: প্রশ্নের মুখে এরশাদনগর ? এরশাদনগরে এ ধরনের সংঘর্ষ যেন নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ছোটখাটো বিরোধ মুহূর্তেই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নিচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত ও অনিরাপদ জীবনযাপন করছে।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন ? এই সংঘর্ষগুলোর পেছনে কারা রয়েছে? কারা দিচ্ছে সেল্টার? কারা নেপথ্যে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে? স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাবশালী একটি মহল বা গোষ্ঠী এসব ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থেকে অপরাধীদের সাহস জোগাচ্ছে। ফলে অপরাধীরা বারবার একই ধরনের সহিংসতায় জড়িয়ে পড়লেও দৃশ্যমান শাস্তি পাচ্ছে না।
গঠনমূলক তীব্র প্রতিকার দাবি। এলাকাবাসীর জোর দাবি। শুধুমাত্র মাঠপর্যায়ের অভিযানে সীমাবদ্ধ না থেকে নেপথ্যের হোতাদের চিহ্নিত করতে হবে। যে কোনো কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতা বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে। এরশাদনগরে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশেষ নজরদারি ও টাস্কফোর্স গঠন করা জরুরি। সংঘর্ষপ্রবণ এলাকাগুলোতে নিয়মিত পুলিশ টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়াতে হবে।
এরশাদনগরের মানুষ আর কোনো রক্তপাত দেখতে চায় না। তারা চায় নিরাপদ জীবন, শান্ত পরিবেশ। আইনের চোখে সবাই সমান। এই বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করলেই কেবল বন্ধ হতে পারে এমন সহিংসতার পুনরাবৃত্তি। এখনই সময়, দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার। নইলে আজকের গুঞ্জন, আগামীকালের শোকবার্তায় পরিণত হতে পারে।




















