ঢাকা ১১:০০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ, আটকের ঘটনায় গরুর মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

গরু চুরির অভিযোগ থেকে পাল্টা মামলা

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৬০৩ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ঝাঁঝর এলাকায় তিনটি গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার ঘটনায় পাল্টা মামলা হয়েছে। মামলায় গরুর মালিকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আটকে রেখে অর্থ দাবি, মারধর, জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ঝাঁঝর এলাকার হাবিবুল্লাহর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় মানিক নামের এক ব্যক্তিকে চুরির ঘটনায় জড়িত বলে শনাক্ত করার দাবি করেন গরুর মালিকপক্ষ। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, মানিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে আটক করা হয়। তবে কেন তাকে আটক করা হয়েছিল এবং আটকের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মানিকের বিরুদ্ধে পূর্বের বিভিন্ন মামলার কথা বলা হলেও, এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর চুরি যাওয়া গরুর মূল্য আদায়ের জন্য মানিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, এমন অভিযোগ উঠেছে। মানিকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তার স্বামীকে আটকে রেখে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তার শ্বশুরের নামে থাকা জমির দলিল এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহারে আরও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।


মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মানিককে আটকে রাখার বিষয়টি জানার পর ইমরান হোসেন পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে পুলিশকে ঘটনাস্থলে না আসার অনুরোধ করা হয়েছিল, এমন অভিযোগও রয়েছে। পুলিশকে কে কখন খবর দিয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ যেতে কোনো ধরনের বাধা বা বিলম্ব হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আটকে রেখে মারধর, জোরপূর্বক দলিল ও চেক নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গাছা থানায় মামলা করেন মৌসুমী আক্তার। মামলাটি মামলা নং-০৯ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় ইমরান হোসেন, হাবিবুল্লাহ, জাহাঙ্গীর, দেলোয়ার হোসেন রাহাদ ও ফরহাদ হোসেনকে আসামি করা হয়। মামলার পর হাবিবুল্লাহ, রাহাদ ও ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ সময় অভিযোগে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে এমন কিছু স্ট্যাম্প ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত সম্পর্ক তদন্তেই নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে মামলার ৩ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর মামুন গত ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগে জাহাঙ্গীর দাবি করেন, কথিতভাবে দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার সময় তিনি কিংবা তার ভাতিজা ইমরান ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, শ্রমিক দলের নেতা আক্তারুজ্জামান বাবুল, মামুনুর রশীদ মামুন, হাজী মজিবুর রহমান ও সিফাত মিয়া দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগে উল্লিখিত এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত তিনটি গরু চুরির অভিযোগ থেকে। ফলে গরু চুরির অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী আটকের ঘটনা, অর্থ দাবি, জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগ, সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই আইনসম্মত পন্থা। একইভাবে গরু চুরির অভিযোগ সত্য হলে তারও যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। একটি গরু চুরির অভিযোগ কীভাবে পরবর্তী সময়ে আটকের ঘটনা ও পাল্টা মামলায় রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও স্থানীয় বক্তব্যের বাইরে প্রকৃত ঘটনা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কলের তথ্য, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র এবং মামলার অন্যান্য নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
ঘটনার প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটিত হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ক্ষতিপূরণ আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ, আটকের ঘটনায় গরুর মালিকসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা

গরু চুরির অভিযোগ থেকে পাল্টা মামলা

আপডেট সময় : ১০:১৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজীপুর মহানগরীর গাছা থানার ঝাঁঝর এলাকায় তিনটি গরু চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে এক ব্যক্তিকে আটকে রাখার ঘটনায় পাল্টা মামলা হয়েছে। মামলায় গরুর মালিকসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার এজাহারে আটকে রেখে অর্থ দাবি, মারধর, জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। পুলিশ মামলার কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর ভোররাতে ঝাঁঝর এলাকার হাবিবুল্লাহর গোয়ালঘর থেকে তিনটি গরু চুরি যায় বলে অভিযোগ করা হয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে স্থানীয় মানিক নামের এক ব্যক্তিকে চুরির ঘটনায় জড়িত বলে শনাক্ত করার দাবি করেন গরুর মালিকপক্ষ। স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, মানিককে পুলিশের কাছে হস্তান্তরের পরিবর্তে স্থানীয়ভাবে আটক করা হয়। তবে কেন তাকে আটক করা হয়েছিল এবং আটকের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্যে ভিন্নতা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে মানিকের বিরুদ্ধে পূর্বের বিভিন্ন মামলার কথা বলা হলেও, এসব তথ্যের স্বাধীন যাচাই এই প্রতিবেদকের পক্ষে সম্ভব হয়নি।
ঘটনার পর চুরি যাওয়া গরুর মূল্য আদায়ের জন্য মানিকের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, এমন অভিযোগ উঠেছে। মানিকের স্ত্রী মৌসুমী আক্তারের দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তার স্বামীকে আটকে রেখে ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। একই সঙ্গে তার শ্বশুরের নামে থাকা জমির দলিল এবং ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। এজাহারে আরও মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা তদন্তাধীন।


মামলার নথি ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য অনুযায়ী, মানিককে আটকে রাখার বিষয়টি জানার পর ইমরান হোসেন পুলিশকে খবর দিয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। তবে পরবর্তীতে আপস-মীমাংসার কথা বলে পুলিশকে ঘটনাস্থলে না আসার অনুরোধ করা হয়েছিল, এমন অভিযোগও রয়েছে। পুলিশকে কে কখন খবর দিয়েছিলেন এবং ঘটনাস্থলে পুলিশ যেতে কোনো ধরনের বাধা বা বিলম্ব হয়েছিল কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
আটকে রেখে মারধর, জোরপূর্বক দলিল ও চেক নেওয়া এবং শ্লীলতাহানির অভিযোগে গত ১০ সেপ্টেম্বর গাছা থানায় মামলা করেন মৌসুমী আক্তার। মামলাটি মামলা নং-০৯ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় ইমরান হোসেন, হাবিবুল্লাহ, জাহাঙ্গীর, দেলোয়ার হোসেন রাহাদ ও ফরহাদ হোসেনকে আসামি করা হয়। মামলার পর হাবিবুল্লাহ, রাহাদ ও ফরহাদকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, এ সময় অভিযোগে জোরপূর্বক নেওয়া হয়েছে এমন কিছু স্ট্যাম্প ও চেক উদ্ধার করা হয়েছে। তবে উদ্ধারকৃত জিনিসপত্রের সঙ্গে ঘটনার প্রকৃত সম্পর্ক তদন্তেই নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে মামলার ৩ নম্বর আসামি জাহাঙ্গীর মামুন গত ১৯ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। লিখিত অভিযোগে জাহাঙ্গীর দাবি করেন, কথিতভাবে দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার সময় তিনি কিংবা তার ভাতিজা ইমরান ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তিনি আরও দাবি করেন, শ্রমিক দলের নেতা আক্তারুজ্জামান বাবুল, মামুনুর রশীদ মামুন, হাজী মজিবুর রহমান ও সিফাত মিয়া দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তবে লিখিত অভিযোগে উল্লিখিত এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সূত্রপাত তিনটি গরু চুরির অভিযোগ থেকে। ফলে গরু চুরির অভিযোগের পাশাপাশি পরবর্তী আটকের ঘটনা, অর্থ দাবি, জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক নেওয়ার অভিযোগ, সবগুলো বিষয় একই সঙ্গে তদন্তের আওতায় আনার দাবি উঠেছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কাউকে আটক বা জিজ্ঞাসাবাদ করার পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করাই আইনসম্মত পন্থা। একইভাবে গরু চুরির অভিযোগ সত্য হলে তারও যথাযথ তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা প্রয়োজন। একটি গরু চুরির অভিযোগ কীভাবে পরবর্তী সময়ে আটকের ঘটনা ও পাল্টা মামলায় রূপ নিল, তা নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। তবে অভিযোগ, পাল্টা অভিযোগ ও স্থানীয় বক্তব্যের বাইরে প্রকৃত ঘটনা জানতে সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, কলের তথ্য, উদ্ধার হওয়া কাগজপত্র এবং মামলার অন্যান্য নথি যাচাই গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রতিবেদনে উল্লিখিত কোনো ব্যক্তি বা পক্ষকে আদালতের চূড়ান্ত রায়ের আগে অপরাধী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণের বিষয়টি আইনগত প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভরশীল।
ঘটনার প্রকৃত সত্য নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটিত হবে এবং দোষী সাব্যস্ত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।