ভালোবাসা, মানবসেবা ও ঈশ্বরের করুণা প্রার্থনায় ভক্তিমুখর আয়োজন-অতিথিদের আশ্বাস, ‘মানুষের সেবাই বৃহত্তম ধর্ম’
এরশাদনগরে খ্রিষ্টীয় সেবক পাগলা সমিতির প্রথম বার্ষিক বড় সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ১১:১৬:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৫ ডিসেম্বর ২০২৫
- / ২২২৫ বার পড়া হয়েছে

টঙ্গী পূর্ব থানার ৪৯নং ওয়ার্ড এরশাদনগর ৫নং ব্লকে চার্চ অব বাংলাদেশে আড়ম্বরপূর্ণ ভক্তিমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো এরশাদ নগর খ্রিষ্টীয় সেবক পাগলা সমিতির (একটি খ্রিষ্টীয় আন্তঃমান্ডলীর প্রার্থনা সংগঠন) প্রথম বার্ষিক বড় সভা-২০২৫। অনুষ্ঠানের মূলবচন ছিল বাইবেলের বাণী, “কতকগুলি লোক যে বিনষ্ট হয়, এমন বাসনা তাঁহার নাই; বরং সকলে যেন মন পরিবর্তন পর্যন্ত পহুছিতে পায়, এই তাঁহার বাসনা।” (২য় পিতর, অধ্যায়—চলন)। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন খ্যাতনামা খ্রিস্টান ধর্মগুরু রেবা দিবারঞ্জন সরকার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে খ্রিষ্টীয় সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতৃত্ব ও মানবসেবায় অবদান রেখে চলেছেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কামরুল ইসলাম কামু, কাউন্সিলর পদপ্রার্থী, সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক, বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদল ও খ্রিস্টান মিশনের দীর্ঘদিনের সহযোগী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সিমশন বিশ্বাস, সভাপতি, খ্রিস্টান মিশন, হৃদয় রায়, সহ-সভাপতি সুবোধ বাড়ই, সহ-সভাপতি, স্থানীয় চার্চ নেতৃবৃন্দ, ধর্মপ্রাণ খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের হাজারো অনুসারী। প্রার্থনা, আরাধনা ও ঈশ্বরের বাণী পাঠ, পুরোহিতেরা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, “আমরা প্রভু ঈশ্বরের প্রতি কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাদের মাঝে প্রেরণ করেছিলেন ঈসা (আঃ)-কে, মানুষকে ভালোবাসতে, সেবা করতে ও সত্যের পথে পরিচালিত করতে। মানুষ কখনো বিপদে না পড়ে। এটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা। তাই মানুষে মানুষে সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও সেবাই ঈশ্বরের প্রকৃত উপাসনা।”

বক্তারা আরও বলেন, “এই বড়দিনের মাসে আমরা প্রার্থনা করি, প্রভু নিজে আমাদের হৃদয়ে নেমে আসুন।” “ভালোবাসা, ক্ষমা, দয়া এই শিক্ষা যীশুর। অন্যকে সাহায্য করা মানেই ঈশ্বরকে খুশি করা।” “আমরা যদি ঈশ্বরের কথা শুনি, তাহলে ঈশ্বরও আমাদের প্রার্থনা গ্রহণ করবেন।”
সভা জুড়ে হালেলুয়া ধ্বনি, গীত, নৃত্য, ভক্তিমূলক গান, আধ্যাত্মিক শিক্ষা, সব মিলিয়ে পরিবেশ ছিল গভীরভাবে ধর্মীয় ও আবেগপূর্ণ।
প্রধান অতিথি কামরুল ইসলাম কামু বলেন, “খ্রিষ্টীয় সমাজ মানুষের সেবা ও ভালোবাসাকে সর্বোচ্চ ধর্ম মনে করে, এ শিক্ষা আমাদের সবাইকে পথ দেখায়। আপনাদের যেকোনো প্রয়োজনে আমি সহযোগিতা করব। মানুষের সেবা করতে পারলে আমার জীবন সার্থক হবে।” তিনি আরও বলেন, “মানুষকে ভালোবাসা সব ধর্মের মূলে। ঈসা (আঃ) সকল মানুষের নবী, মানবতার শিক্ষাই তাঁর প্রধান বার্তা। আপনারা মানুষের সেবা করেন, আমরাও আপনাদের পাশে থাকব।”
ভোজ, আপ্যায়ন ও সম্মিলিত উৎসর্গ, অনুষ্ঠানে উপস্থিত হাজারো দর্শনার্থীর জন্য রান্না করা হয়, ভাত, মাংস, ডিম ভুনা, ডাল, সবজি, এবং অন্যান্য বিশেষ খাবার। বাবুর্চিরা সবার জন্য মনোযোগ দিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করেন, যা ধর্মীয় আনন্দকে আরও বর্ণিল করে তোলে।
ধর্মীয় উৎসর্গ করতে করতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, “আমরা যীশুর নামে উৎসর্গ করি, তাঁর পথে চলার শক্তি চাই, ক্ষমা চাই এবং মানবতার জন্য প্রার্থনা করি।”
আয়োজনটি ছিল, খ্রিষ্টীয় ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবসেবা, ভালোবাসা, ক্ষমা, শান্তি, এবং ঈশ্বরের করুণায় ভক্তিমুখর এক মিলনমেলা। মানুষে মানুষে ভালোবাসা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্যেই ঈশ্বরের প্রকৃত সন্তুষ্টি; এ বার্তা 전িত হয়েছে পুরো অনুষ্ঠানে।




















