ঢাকা ১০:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আধ্যাত্মিক আলোর মশালে প্রজ্বলিত খোশরোরজ শরীফ

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • / ২২৭৪ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420




 মোহাম্মদ রফিক মাইজভান্ডারী ওরফে মরণ দরবারী

চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র ৭৫তম খোশরোরজ শরীফ। ১৬ জুলাই ২০২৬, বুধবার—সেই মহিমান্বিত দিনে দরবারের আঙিনা যেন পরিণত হয়েছিল ভালোবাসার সাগরে, যেখানে ভক্তরা হৃদয়ের তরী ভাসিয়ে দিয়েছিল ভক্তি, দোয়া আর ঐক্যের ঢেউয়ে।
মাইজভান্ডারী বংশধরদের স্নেহছায়া, মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ মাহাতাবুল বসর আল হাসানী আল-মাইজভান্ডারী। দরবার শরীফ আলোকিত হয়েছিল আওলাদে রাসুল (দঃ)-এর পবিত্র উপস্থিতিতে। আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ শফিউল বসর আল মাইজভান্ডারী (ক:) কেবলা বাবা-এর রওজার সামনে ফাতেহা পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এই মহাসমাবেশ।
ভক্তির সুরে তরঙ্গিত দরবার, গান, কাওয়ালি ও সুফিয়ানা সঙ্গীতে ভক্তরা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন আধ্যাত্মিক উন্মাদনায়। বাচ্চু মাইজভান্ডারী-এর কণ্ঠে যখন গাউছুল আজমের বন্দনা ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল—প্রতিটি সুর যেন আত্মার পাখি হয়ে আকাশে উড়ে যাচ্ছে, আর ভক্তদের অন্তর ভরে যাচ্ছে শান্তি, প্রেম ও আল্লাহর রহমতে।

৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ কামাল, মোঃ রুবেল আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাম সরকার

ঐক্যের ফুলবাগান, অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন ৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ কামাল, মোঃ রুবেল আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাম সরকার। তাঁরা গানের সুরে ভেসে গিয়ে গায়কদের পুরস্কৃত করেন, দরবারে অর্থ দান করেন এবং ভক্তদের উদ্দেশে আহ্বান জানান ঐক্য ও ভালোবাসার পথে থাকার। তাঁদের আন্তরিকতায় দরবারের ভক্তরা যেন মিলেমিশে হয়ে উঠেছিল এক ঐক্যের ফুলবাগান, যেখানে সবাই ছিল একই মালার মুক্তো।
এরশাদনগরের ছোটবাজারের মোহাম্মদ রফিক মাইজভান্ডারী ওরফে মরণ দরবারী গত ৩৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন করে আসছেন। প্রতিবছর ১৬ই মাঘে এই পবিত্র খোশরোরজ শরীফের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্ত-আশিকদের জন্য এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টায় দরবার শরীফ আজ ভক্তদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্থল ও ইসলামী সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা।
প্রতীকি আলো, এই খোশরোরজ শরীফ ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল এক আধ্যাত্মিক আলোর মশাল, যা অন্ধকার সমাজকে সত্য, সেবা ও ভ্রাতৃত্বের দীপ্তিতে আলোকিত করে। দরবারের প্রতিটি দোয়া ছিল আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি, প্রতিটি গান ছিল আত্মার উড়াল, আর প্রতিটি মিলন ছিল ভালোবাসার বাঁধন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

আধ্যাত্মিক আলোর মশালে প্রজ্বলিত খোশরোরজ শরীফ

আপডেট সময় : ১১:৪৩:৩২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 মোহাম্মদ রফিক মাইজভান্ডারী ওরফে মরণ দরবারী

চট্টগ্রামের মাইজভান্ডার দরবার শরীফে অনুষ্ঠিত হলো পবিত্র ৭৫তম খোশরোরজ শরীফ। ১৬ জুলাই ২০২৬, বুধবার—সেই মহিমান্বিত দিনে দরবারের আঙিনা যেন পরিণত হয়েছিল ভালোবাসার সাগরে, যেখানে ভক্তরা হৃদয়ের তরী ভাসিয়ে দিয়েছিল ভক্তি, দোয়া আর ঐক্যের ঢেউয়ে।
মাইজভান্ডারী বংশধরদের স্নেহছায়া, মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন নায়েবে সাজ্জাদানশীন আলহাজ্ব সৈয়দ মাহাতাবুল বসর আল হাসানী আল-মাইজভান্ডারী। দরবার শরীফ আলোকিত হয়েছিল আওলাদে রাসুল (দঃ)-এর পবিত্র উপস্থিতিতে। আলহাজ্ব মাওলানা সৈয়দ শফিউল বসর আল মাইজভান্ডারী (ক:) কেবলা বাবা-এর রওজার সামনে ফাতেহা পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে শুরু হয় এই মহাসমাবেশ।
ভক্তির সুরে তরঙ্গিত দরবার, গান, কাওয়ালি ও সুফিয়ানা সঙ্গীতে ভক্তরা যেন হারিয়ে গিয়েছিলেন আধ্যাত্মিক উন্মাদনায়। বাচ্চু মাইজভান্ডারী-এর কণ্ঠে যখন গাউছুল আজমের বন্দনা ধ্বনিত হচ্ছিল, তখন মনে হচ্ছিল—প্রতিটি সুর যেন আত্মার পাখি হয়ে আকাশে উড়ে যাচ্ছে, আর ভক্তদের অন্তর ভরে যাচ্ছে শান্তি, প্রেম ও আল্লাহর রহমতে।

৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ কামাল, মোঃ রুবেল আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাম সরকার

ঐক্যের ফুলবাগান, অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন ৯৭ ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ কামাল, মোঃ রুবেল আহমেদ ও মোহাম্মদ সালাম সরকার। তাঁরা গানের সুরে ভেসে গিয়ে গায়কদের পুরস্কৃত করেন, দরবারে অর্থ দান করেন এবং ভক্তদের উদ্দেশে আহ্বান জানান ঐক্য ও ভালোবাসার পথে থাকার। তাঁদের আন্তরিকতায় দরবারের ভক্তরা যেন মিলেমিশে হয়ে উঠেছিল এক ঐক্যের ফুলবাগান, যেখানে সবাই ছিল একই মালার মুক্তো।
এরশাদনগরের ছোটবাজারের মোহাম্মদ রফিক মাইজভান্ডারী ওরফে মরণ দরবারী গত ৩৪ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে এই আয়োজন করে আসছেন। প্রতিবছর ১৬ই মাঘে এই পবিত্র খোশরোরজ শরীফের মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়, যা ভক্ত-আশিকদের জন্য এক আধ্যাত্মিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। তাঁর নিরন্তর প্রচেষ্টায় দরবার শরীফ আজ ভক্তদের আধ্যাত্মিক কেন্দ্রস্থল ও ইসলামী সংস্কৃতির আলোকবর্তিকা।
প্রতীকি আলো, এই খোশরোরজ শরীফ ছিল শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়—এটি ছিল এক আধ্যাত্মিক আলোর মশাল, যা অন্ধকার সমাজকে সত্য, সেবা ও ভ্রাতৃত্বের দীপ্তিতে আলোকিত করে। দরবারের প্রতিটি দোয়া ছিল আল্লাহর রহমতের বৃষ্টি, প্রতিটি গান ছিল আত্মার উড়াল, আর প্রতিটি মিলন ছিল ভালোবাসার বাঁধন।