আ. লীগ নেতার উঠানে বিএনপির উঠান বৈঠক, নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ১০:১৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
- / ২১২১ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরের পূবাইল এলাকায় এক ব্যতিক্রমী ও বিতর্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে স্থানীয় বিএনপির উঠান বৈঠক। যেখানে স্থান নির্বাচন করা হয়েছে আওয়ামী লীগের পরিচিত নেতা ও বিতর্কিত ঠিকাদার মাসুদ রানার বাড়ির উঠান। এই ঘটনায় বিএনপির তৃণমূল কর্মী থেকে শুরু করে জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৪১ নম্বর ওয়ার্ডের পূবাইল বেপারীপাড়ায় আয়োজিত হয় উঠান বৈঠক ও খিচুড়ি বিতরণ অনুষ্ঠান। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন পূবাইল থানা বিএনপির সভাপতি মনির হোসেন বকুল এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ। এ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ৪১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার দেওয়ানসহ আরও কয়েকজন নেতা।
উঠান নির্বাচনে অস্বস্তি ও গোপন ক্ষোভ: আয়োজিত বৈঠকটি হওয়ার কথা ছিল অন্যত্র, এমন দাবি করে পূবাইল থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ বলেন, “আমি জানতাম পূবাইল বাজারের নয়ন ডাক্তারের দোকানের সামনে হবে। কিন্তু আফজাল নামের স্থানীয় এক নেতা আমাদের নিয়ে গিয়ে মাসুদ রানার উঠানে বসিয়ে দেয়। সে যে আওয়ামী লীগের সক্রিয় কর্মী, তা আমি জানতাম না।”
তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আয়োজন পূর্বপরিকল্পিত ছিল, এবং কিছু নেতা সব জেনেই সেই জায়গা বেছে নেন।
এলাকায় ক্ষোভ ও প্রশ্ন ? এলাকাবাসী ও তৃণমূল বিএনপি কর্মীদের অভিযোগ, “আওয়ামী লীগ নেতাদের বিএনপিতে পুনর্বাসনের এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।” তারা বলছেন, যিনি অতীতে গাজীপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মেহের আফরোজ চুমকির পক্ষে মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন, রাস্তা দখল করে মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করেছেন, তিনিই কীভাবে বিএনপির বৈঠকের আয়োজক হন?
উল্লেখ্য, মাসুদ রানার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে সরকারি রাস্তার জমি দখল, সড়ক নির্মাণে দুর্নীতি ও সরকারি গাছ বিক্রির মতো নানা অপকর্মের। পূবাইলের সাগর বিল্ডার্সে প্রজেক্ট ম্যানেজার হিসেবে কাজ করে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন তিনি। অথচ তাঁর স্কুলজীবনও পূর্ণ নয়।
ফেসবুকে ভাইরাল চুমকির মিছিলে মাসুদের ছবি: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে মাসুদ রানার সেই ছবি, যেখানে তিনি নৌকার পক্ষে প্রচারণায় মিছিলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন—এইসব ‘ফ্যাসিবাদের দোসরদের’ পুনর্বাসন করেই বিএনপি কি আগামী নির্বাচনে ভরাডুবির পথে হাঁটছে?
‘তারেক রহমানের নির্দেশ উপেক্ষা’: বিএনপির হাইকমান্ড থেকে বহুবার বলা হয়েছে, যাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক আছে, যাদের ছবি, কাজ কিংবা সখ্যতা আওয়ামী রাজনীতির সঙ্গে জড়িত, তাদের বিএনপিতে ঠাঁই নেই। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও গণতন্ত্রের প্রতীক জনাব তারেক রহমান একাধিকবার স্পষ্ট ভাষায় হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, “আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট কেউ বিএনপির আশেপাশেও থাকতে পারবে না। যারা রাখবে, তারাও সমান অপরাধী হিসেবে গণ্য হবে।”
তবে দেখা যাচ্ছে, এই নির্দেশনাকে পাত্তাই দিচ্ছেন না স্থানীয় কিছু নেতা। তারা ক্ষমতা ও গোপন স্বার্থে ‘দুই নৌকায় পা’ রাখার খেলায় মেতেছেন। বিএনপির ত্যাগী ও আদর্শবাদী নেতাকর্মীরা মনে করছেন, এভাবে চলতে থাকলে সামনে নির্বাচনে বিএনপির জন্য বড় বিপদ অপেক্ষা করছে।
ত্যাগী নেতাদের অনাস্থা ও দাবি, পূবাইল ও আশপাশের তৃণমূল বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, যারা এসব বিতর্কিত আওয়ামী লীগপন্থীদের বিএনপিতে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে তদন্ত করে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিতে হবে। না হলে দলের ভবিষ্যৎ প্রশ্নের মুখে পড়বে।
বিএনপির স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রতি এই বার্তা এখন স্পষ্ট: বিএনপির ভিতরে বসে যারা দলের আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ড করছেন, তারা সাবধান হোন। আদর্শের সঙ্গে আপস করলে দল দুর্বল হবে, আন্দোলন নয়, আত্মসমর্পণের পথে যাবে।











