ঢাকা ১১:৩২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সড়কে মৃত্যু ও পঙ্গু হওয়ার মিছিল দীর্ঘ করছে মোটরসাইকেল বাতিল হতে যাচ্ছে শতাধিক কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন টঙ্গীর রাজপথে যুবদলের বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, নেতৃত্বে নাজমুল হোসেন মন্ডল গাজীপুর মহানগর-সদরের পর টঙ্গীতেও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে সরব উপস্থিতি; তারুণ্যের ঐক্য, সাংগঠনিক তৎপরতা ও শৃঙ্খলাবদ্ধ আয়োজনের চিত্র যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে টঙ্গীতে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, মিছিল ও সমাবেশ যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল

ত্রাণের পদবি আছে, কিন্তু দায়িত্বের অপেক্ষা করেন না নিজ উদ্যোগে স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ থেকে সঞ্চয় করে নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক অনন্য মানবিকতার মহাকাব্য

নিভৃত আলোয় মানবতার প্রদীপ—মোসা: পিয়ারা আক্তার প্রিয়া

md younus
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬
  • / ২১৩২ বার পড়া হয়েছে




গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার এক নিভৃত মানবিক নাম। মোসা: পিয়ারা আক্তার প্রিয়া। পদবিতে তিনি ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, কিন্তু বাস্তবতার মঞ্চে তিনি কেবল একজন নেতা নন, তিনি এক নীরব সংগ্রামী মানবতার সৈনিক। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক আহ্বান তার কাছে মুখ্য নয়। মানুষের কষ্টই তার ডাকে সাড়া দেয়। আজকের এই স্বার্থান্বেষী পৃথিবীতে, যেখানে অনেকেই দায়িত্বকে শুধু পরিচয়ের অলংকার বানিয়ে রাখেন, সেখানে প্রিয়া হয়ে উঠেছেন এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তাকে দিয়ে হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয় না, কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বরং নিজের বিবেকের তাগিদে, নিজের পরিবারের সঞ্চয় থেকে, বিশেষ করে তার স্বামীর কষ্টার্জিত উপার্জনের একটি অংশ বাঁচিয়ে—তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য মানবসেবার ইতিহাস।


তার মানবিকতার গল্প কোনো প্রচারের আলোতে নয়, বরং নিভৃতে রচিত এক মহাকাব্য। প্রতিটি ঈদে, প্রতিটি প্রয়োজনে তিনি নিজ হাতে পৌঁছে দেন ভালোবাসার উপহার। কখনো শাড়ি, কখনো লুঙ্গি, কখনো থ্রি-পিস, কখনো পাঞ্জাবি। আবার শিশুদের জন্য নতুন পোশাক। শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয় তার দান। চাল, ডাল, ছোলা, তেল, সেমাই, চিনি, দুধ, নারিকেল, একটি পূর্ণাঙ্গ ঈদ প্যাকেজ যেন তিনি সাজিয়ে দেন মমতার রঙে।
এমনকি ঈদের দিনেও তার মানবিকতার দরজা বন্ধ থাকে না। যেসব পরিবার বাজার করতে পারেনি, যাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছেন। অনেকেই যখন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় ছিলেন, তখন প্রিয়ার সহায়তায় তাদের ঘরেও জ্বলে উঠেছে ঈদের আলো। তার দেওয়া সেই সামান্য অর্থই অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বড় স্বস্তি, বড় আনন্দ।
তার এই ত্যাগের পথ কেবল দান নয়। এ যেন এক গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন, যেখানে ডান হাতের দান বাম হাতও টের পায় না। তিনি মানুষকে বাসায় ডেকে এনে, আবার অনেক সময় নিজেই মানুষের দরজায় গিয়ে—নিরবে, নির্ভয়ে পৌঁছে দেন সহানুভূতির স্পর্শ।
এই সমাজে এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যারা নিজের পরিচয়ের চেয়ে মানবিকতাকে বড় করে দেখেন। পিয়ারা আক্তার প্রিয়া সেই বিরল মানুষদের একজন। যিনি প্রমাণ করেছেন, পদবি নয়, কাজই মানুষকে মহান করে তোলে।
তার এই নিরলস প্রচেষ্টা, এই নীরব মানবসেবা। শুধু একটি উদাহরণ নয়, বরং একটি অনুপ্রেরণা। একটি বার্তা “মানবতা এখনও বেঁচে আছে, যদি কেউ তা নিজের হৃদয়ে ধারণ করে।” আজ প্রিয়ার এই মহৎ কাজের গল্প ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে ঘরে। মানুষ জানুক, চিনুক। ভালবাসুক এই নিভৃত মানবিক যোদ্ধাকে। কারণ, এমন মানুষই সমাজের প্রকৃত সম্পদ, এমন মানুষই ইতিহাস রচনা করে। নীরবে, কিন্তু অমর হয়ে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

ত্রাণের পদবি আছে, কিন্তু দায়িত্বের অপেক্ষা করেন না নিজ উদ্যোগে স্বামীর কষ্টার্জিত অর্থ থেকে সঞ্চয় করে নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো এক অনন্য মানবিকতার মহাকাব্য

নিভৃত আলোয় মানবতার প্রদীপ—মোসা: পিয়ারা আক্তার প্রিয়া

আপডেট সময় : ০৮:৩০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ মার্চ ২০২৬

গাজীপুর মহানগরের টঙ্গী পূর্ব থানার এক নিভৃত মানবিক নাম। মোসা: পিয়ারা আক্তার প্রিয়া। পদবিতে তিনি ত্রাণ বিষয়ক সম্পাদক, কিন্তু বাস্তবতার মঞ্চে তিনি কেবল একজন নেতা নন, তিনি এক নীরব সংগ্রামী মানবতার সৈনিক। দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক আহ্বান তার কাছে মুখ্য নয়। মানুষের কষ্টই তার ডাকে সাড়া দেয়। আজকের এই স্বার্থান্বেষী পৃথিবীতে, যেখানে অনেকেই দায়িত্বকে শুধু পরিচয়ের অলংকার বানিয়ে রাখেন, সেখানে প্রিয়া হয়ে উঠেছেন এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ। তাকে দিয়ে হয়তো আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রাণ বিতরণ করা হয় না, কিন্তু তিনি থেমে থাকেননি। বরং নিজের বিবেকের তাগিদে, নিজের পরিবারের সঞ্চয় থেকে, বিশেষ করে তার স্বামীর কষ্টার্জিত উপার্জনের একটি অংশ বাঁচিয়ে—তিনি গড়ে তুলেছেন এক অনন্য মানবসেবার ইতিহাস।


তার মানবিকতার গল্প কোনো প্রচারের আলোতে নয়, বরং নিভৃতে রচিত এক মহাকাব্য। প্রতিটি ঈদে, প্রতিটি প্রয়োজনে তিনি নিজ হাতে পৌঁছে দেন ভালোবাসার উপহার। কখনো শাড়ি, কখনো লুঙ্গি, কখনো থ্রি-পিস, কখনো পাঞ্জাবি। আবার শিশুদের জন্য নতুন পোশাক। শুধু পোশাকেই সীমাবদ্ধ নয় তার দান। চাল, ডাল, ছোলা, তেল, সেমাই, চিনি, দুধ, নারিকেল, একটি পূর্ণাঙ্গ ঈদ প্যাকেজ যেন তিনি সাজিয়ে দেন মমতার রঙে।
এমনকি ঈদের দিনেও তার মানবিকতার দরজা বন্ধ থাকে না। যেসব পরিবার বাজার করতে পারেনি, যাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছিল। তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি সরাসরি অর্থ সহায়তাও প্রদান করেছেন। অনেকেই যখন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হওয়ার শঙ্কায় ছিলেন, তখন প্রিয়ার সহায়তায় তাদের ঘরেও জ্বলে উঠেছে ঈদের আলো। তার দেওয়া সেই সামান্য অর্থই অনেক পরিবারের জন্য হয়ে উঠেছে বড় স্বস্তি, বড় আনন্দ।
তার এই ত্যাগের পথ কেবল দান নয়। এ যেন এক গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন, যেখানে ডান হাতের দান বাম হাতও টের পায় না। তিনি মানুষকে বাসায় ডেকে এনে, আবার অনেক সময় নিজেই মানুষের দরজায় গিয়ে—নিরবে, নির্ভয়ে পৌঁছে দেন সহানুভূতির স্পর্শ।
এই সমাজে এমন মানুষ খুব কমই আছেন, যারা নিজের পরিচয়ের চেয়ে মানবিকতাকে বড় করে দেখেন। পিয়ারা আক্তার প্রিয়া সেই বিরল মানুষদের একজন। যিনি প্রমাণ করেছেন, পদবি নয়, কাজই মানুষকে মহান করে তোলে।
তার এই নিরলস প্রচেষ্টা, এই নীরব মানবসেবা। শুধু একটি উদাহরণ নয়, বরং একটি অনুপ্রেরণা। একটি বার্তা “মানবতা এখনও বেঁচে আছে, যদি কেউ তা নিজের হৃদয়ে ধারণ করে।” আজ প্রিয়ার এই মহৎ কাজের গল্প ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি ঘরে ঘরে। মানুষ জানুক, চিনুক। ভালবাসুক এই নিভৃত মানবিক যোদ্ধাকে। কারণ, এমন মানুষই সমাজের প্রকৃত সম্পদ, এমন মানুষই ইতিহাস রচনা করে। নীরবে, কিন্তু অমর হয়ে।