ঢাকা ১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

২০১১ সালে এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে; ৫ লাখ টাকা নিয়ে বিদেশ যাত্রা, ফিরে এসে সংসার না করার হুমকি

বিদেশে স্বাবলম্বী হয়ে স্ত্রী-সন্তান অস্বীকারের অভিযোগ: ন্যায়বিচারের আশায় থানায় কাঞ্চন মালা

md younus
  • আপডেট সময় : ০২:৪৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / ২০৮৪ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420




শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার নাউডুবা গ্রামের মেয়ে কাঞ্চন মালা। পিতা সিরাজ সরদার, মাতা মৃত জামসেদা বেগম। সাত বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সীমিত পারিবারিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে তাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৫/০৪/২০১১ ইং তারিখে মোঃ জয়নালের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। কাবিননামায় দেনমোহর ধার্য করা হয় ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি না থাকায় এলাকার কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। কাঞ্চন মালার দাবি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়।
বিদেশ যাওয়ার আগে ছিল স্বাভাবিক সংসার, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাভাবিক ও ভালো সম্পর্ক ছিল। সংসারও চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে। তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান—মোসাঃ জুই, বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পারিবারিকভাবে সুখেই দিন কাটছিল বলে জানান কাঞ্চন মালা।
কিন্তু মোড় ঘুরে যায় যখন মোঃ জয়নাল বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রী কাঞ্চন মালা গার্মেন্টসে চাকরি করে কষ্টার্জিত অর্থ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা তুলে দেন স্বামীর হাতে। সেই অর্থ নিয়েই তিনি বিদেশে পাড়ি জমান।
বিদেশে স্বাবলম্বী হয়ে বদলে যায় আচরণে, অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে গিয়ে উপার্জন শুরু করার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তার আচরণ। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পর তিনি স্ত্রী-সন্তানের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি সংসার করবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন এবং সন্তানের ভরণপোষণও দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
কাঞ্চন মালার ভাষ্য, “বিদেশ যাওয়ার আগে সংসার ভালোই ছিল। এখন নিজে টাকা কামিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে আমাকে আর মেয়ে সন্তানকে অস্বীকার করছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে ফোনে প্রায়ই অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
স্বামীর পাসপোর্টে ভুল ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন কাঞ্চন মালা। পাসপোর্টে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার ১৭৫ নাজিম দেওয়ান বাড়ী, দেওয়ানপাড়া মডেল স্কুল রোড, আজিমপুর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। অথচ প্রকৃত পারিবারিক তথ্য ভিন্ন বলে দাবি তার। ঢাকার উত্তরায় এক খালা ছাড়া ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের অস্তিত্বও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের শেরপুর এলাকায় এবং বর্তমানে আউচপাড়া-খাঁপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
থানায় বিচার প্রার্থনায়, বর্তমানে কাঞ্চন মালা নিজেই গার্মেন্টসে চাকরি করে মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার চালাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর এমন অস্বীকৃতিতে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, কাঞ্চন মালা তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপস্থিত হয়ে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
তার দাবি, স্বামী যদি সংসার না করেন, তবে আইন অনুযায়ী দেনমোহর, সন্তানের ভরণপোষণ ও তার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
একজন পরিশ্রমী নারীর উপার্জিত অর্থে বিদেশ গিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করা—এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত হস্তক্ষেপই পারে এই অসহায় মা ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

২০১১ সালে এক লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে; ৫ লাখ টাকা নিয়ে বিদেশ যাত্রা, ফিরে এসে সংসার না করার হুমকি

বিদেশে স্বাবলম্বী হয়ে স্ত্রী-সন্তান অস্বীকারের অভিযোগ: ন্যায়বিচারের আশায় থানায় কাঞ্চন মালা

আপডেট সময় : ০২:৪৪:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শরীয়তপুর জেলার সখিপুর উপজেলার নাউডুবা গ্রামের মেয়ে কাঞ্চন মালা। পিতা সিরাজ সরদার, মাতা মৃত জামসেদা বেগম। সাত বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে তিনি চতুর্থ। সীমিত পারিবারিক সহায়তার সুযোগ নিয়ে তাকে প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
১৫/০৪/২০১১ ইং তারিখে মোঃ জয়নালের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। কাবিননামায় দেনমোহর ধার্য করা হয় ১,০০,০০০/- (এক লাখ) টাকা। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের সময় তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয়স্বজনের উপস্থিতি না থাকায় এলাকার কিছু লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে তড়িঘড়ি করে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। কাঞ্চন মালার দাবি, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে প্রতারণার মাধ্যমে তাকে বিয়েতে বাধ্য করা হয়।
বিদেশ যাওয়ার আগে ছিল স্বাভাবিক সংসার, বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে স্বাভাবিক ও ভালো সম্পর্ক ছিল। সংসারও চলছিল শান্তিপূর্ণভাবে। তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক কন্যা সন্তান—মোসাঃ জুই, বর্তমানে সপ্তম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। পারিবারিকভাবে সুখেই দিন কাটছিল বলে জানান কাঞ্চন মালা।
কিন্তু মোড় ঘুরে যায় যখন মোঃ জয়নাল বিদেশে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। স্ত্রী কাঞ্চন মালা গার্মেন্টসে চাকরি করে কষ্টার্জিত অর্থ থেকে প্রায় ৫ লাখ টাকা তুলে দেন স্বামীর হাতে। সেই অর্থ নিয়েই তিনি বিদেশে পাড়ি জমান।
বিদেশে স্বাবলম্বী হয়ে বদলে যায় আচরণে, অভিযোগ রয়েছে, বিদেশে গিয়ে উপার্জন শুরু করার পর থেকেই বদলে যেতে থাকে তার আচরণ। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে ওঠার পর তিনি স্ত্রী-সন্তানের প্রতি উদাসীন হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি সংসার করবেন না বলে হুমকি দিচ্ছেন এবং সন্তানের ভরণপোষণও দেবেন না বলে জানিয়েছেন।
কাঞ্চন মালার ভাষ্য, “বিদেশ যাওয়ার আগে সংসার ভালোই ছিল। এখন নিজে টাকা কামিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে আমাকে আর মেয়ে সন্তানকে অস্বীকার করছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিদেশ থেকে ফোনে প্রায়ই অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
স্বামীর পাসপোর্টে ভুল ও বানোয়াট তথ্য ব্যবহারের অভিযোগও তুলেছেন কাঞ্চন মালা। পাসপোর্টে ঢাকার দক্ষিণখান এলাকার ১৭৫ নাজিম দেওয়ান বাড়ী, দেওয়ানপাড়া মডেল স্কুল রোড, আজিমপুর ঠিকানা উল্লেখ রয়েছে। অথচ প্রকৃত পারিবারিক তথ্য ভিন্ন বলে দাবি তার। ঢাকার উত্তরায় এক খালা ছাড়া ঘনিষ্ঠ আত্মীয়ের অস্তিত্বও স্পষ্ট নয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তার দেশের বাড়ি ময়মনসিংহের শেরপুর এলাকায় এবং বর্তমানে আউচপাড়া-খাঁপাড়া এলাকায় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
থানায় বিচার প্রার্থনায়, বর্তমানে কাঞ্চন মালা নিজেই গার্মেন্টসে চাকরি করে মেয়ের পড়াশোনা ও সংসার চালাচ্ছেন। দীর্ঘ ১৫ বছরের দাম্পত্য জীবনের পর স্বামীর এমন অস্বীকৃতিতে তিনি মানসিক ও আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত জানা গেছে, কাঞ্চন মালা তার ভাইকে সঙ্গে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানায় উপস্থিত হয়ে ন্যায়বিচারের আবেদন জানিয়েছেন।
তার দাবি, স্বামী যদি সংসার না করেন, তবে আইন অনুযায়ী দেনমোহর, সন্তানের ভরণপোষণ ও তার প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
একজন পরিশ্রমী নারীর উপার্জিত অর্থে বিদেশ গিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পর স্ত্রী-সন্তানকে অস্বীকার করা—এমন অভিযোগে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল মনে করছেন, প্রশাসনের দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত হস্তক্ষেপই পারে এই অসহায় মা ও তার সন্তানের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে।