ধানের শীষে আস্থা, দোয়ায় শক্তি—টঙ্গীতে এম মঞ্জুরুল করিম রনির গণসংযোগ ও মতবিনিময়
চেরাগ আলীর আলো থেকে সিডিএল কনভেশন সেন্টার ভবনের প্রহর
- আপডেট সময় : ১২:০২:০২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / ২১২৪ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুর-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ব্যাপক গণসংযোগ ও ধারাবাহিক মতবিনিময় সভা করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং গাজীপুর মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম মঞ্জুরুল করিম রনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে টঙ্গী বাজারে একটি মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। ফাতেহা শেষে তিনি নীরবে হাত তুলেছিলেন, রাজনীতি তখন আর স্লোগান নয়, রাজনীতি তখন দোয়া। চেরাগ আলী ট্রাক-বাস স্ট্যান্ডে যখন মতবিনিময় সভা শুরু হয়, আমি দেখেছি, এখানে কেউ শুধু ভোটারই নয়, ভোটযুদ্ধের মানুষ! এখানে সবাই জীবনের যাত্রী। ট্রাকচালক, শ্রমিক, ব্যবসায়ী। সবার চোখে একই প্রশ্ন, “এই শহরের দায়িত্ব কার?” প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “আপনারা আমার বাবা অধ্যাপক এম. এ. মান্নানকে চেনেন। আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদের ভাই। যারা আজ এই এলাকায় থাকেন না, নিজের ভোট নিজের মার্কায় দিতে পারেন না। তারা আপনাদের ভোট চাইছেন।
আর আমি এখানে, আপনাদের মাঝেই বড় হয়েছি।” তার কণ্ঠে ছিল না কৃত্রিম উত্তেজনা, ছিল দীর্ঘ অপেক্ষার দৃঢ়তা। নেতৃত্বের কণ্ঠ, সংগঠনের সারি এই সভায় উপস্থিত ছিলেন, মো. হুমায়ুন কবির খান, কেন্দ্রীয় বিএনপির শ্রম বিষয়ক সম্পাদক, আরিফ হোসেন হাওলাদার, কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি, রাকিব উদ্দিন সরকার পাপ্পু, গাজীপুর মহানগর বিএনপি নেতা, মাহবুবুল আলম শুকুর, বিএনপি নেতা, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন, সভাপতি, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি, গাজী সালাউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি, আসাদুজ্জামান নূর, সদস্য সচিব, টঙ্গী পশ্চিম থানা বিএনপি, সাজেদুল ইসলাম, আহ্বায়ক, মহানগর যুবদল, জাহাঙ্গীর আলম, সফিউদ্দিন সফি, আবুল হাশেম, সিরাজুল ইসলাম সাথী, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা, মাহমুদুল হাসান মিরন, সাধারণ সম্পাদক, মহানগর ছাত্রদল আবু বক্কর সিদ্দিক, আহ্বায়ক, টঙ্গী পশ্চিম থানা স্বেচ্ছাসেবক দল, শেখ মো. সুমন, সভাপতি, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল আজিজুর রহমান টিপু, সাধারণ সম্পাদক, টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদল, আব্দুর রশিদ, সভাপতি, গাজীপুর জেলা ট্রাক ও কভার্ড ভ্যান মালিক সমিতি। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার বিএনপি, এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অসংখ্য নেতাকর্মী। চেরাগ আলীর পর মতবিনিময় সভা গড়ায় টঙ্গী বাজারের সিডিএল কনভেশন সেন্টার বিল্ডিং ব্যবসায়ী সমাজের মাঝে।
এই সভার নেতৃত্ব দেন জসিম উদ্দিন ভ্যাট, যিনি ব্যবসায়ীদের বাস্তব সমস্যা তুলে ধরেন, ভ্যাট, কর ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে। তার পাশে সংগঠনের শক্ত কাঁধ হয়ে দাঁড়ান, আরিফ হোসেন হাওলাদার। যিনি বলেন, “এই বাজার শুধু বাণিজ্যের নয়, এই বাজার রাজনীতিরও হৃদয়।” এই সভায় যোগ দেন, আলহাজ সালাহউদ্দিন সরকার। একজন অভিভাবকের মতো, যার উপস্থিতিতে সভা যেন দোয়ার রূপ নেয়।
উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি, দোয়ার ভাষা এম মঞ্জুরুল করিম রনি বলেন, “দীর্ঘ ১৮ বছর পর আপনারা ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। একসময় এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী অধ্যাপক এম. এ. মান্নান সারা দেশে সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তাকে মন্ত্রী করেছিলেন, তিনি এই এলাকার উন্নয়ন করেছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “তারেক রহমান গাজীপুরের জন্য যে উন্নয়ন ভাবনা দিয়েছেন, আমি তার বাস্তব রূপ দিতে চাই। মেট্রোরেল এক্সপ্রেস হয়ে গাজীপুরে আসবে। স্থায়ী ট্রাক স্ট্যান্ড হবে। ইনশাআল্লাহ, আপনারা পাশে থাকলে এই শহর বদলাবে।” শেষ প্রহর: রাজনীতি যখন ইবাদত দিন শেষে আমি দেখেছি, টঙ্গীর রাজনীতি আজ এক কাতারে দাঁড়িয়েছে। কেউ সামনে, কেউ পেছনে নয়, সবাই পাশাপাশি।
আমি মনে মনে দোয়া করেছি, “হে আল্লাহ, এই শহরের মানুষকে তুমি ন্যায় দাও, এই নেতৃত্বকে তুমি সঠিক রাখো, আর ধানের শীষকে মানুষের আস্থার প্রতীক করে তোলো।” চেরাগ আলীর আলো আজ সিডিএল কনভেশন সেন্টার বিল্ডিং ভবন ছাড়িয়ে আরও দূরে গেছে। এই গল্প এখানেই শেষ নয়, এটি কেবল একটি অধ্যায়।




















