গাজীপুর গাছা থানার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হাজী আব্দুল জব্বার সরকার—পরিবার, আদর্শ, ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি এবং মানুষের কল্যাণে অবিচল নেতৃত্বের অনন্য জীবনকাহিনী
“রাজনীতি মানে সেবা, ত্যাগ ও সততা”
- আপডেট সময় : ০৯:৫৭:০১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ অগাস্ট ২০২৫
- / ২১২৯ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগর বিএনপির প্রাণকেন্দ্র গাছা থানা। এই থানার রাজনীতির অন্যতম প্রেরণাদায়ী নেতা হাজী আব্দুল জব্বার সরকার। একান্ত আলাপচারিতায় তিনি শেয়ার করেছেন তার রাজনৈতিক জীবন, পরিবার, ত্যাগ, আদর্শ এবং দেশের জনগণের জন্য অবিচল ভালোবাসার গল্প।
রাজনৈতিক যাত্রা ও দর্শন : হাজী আব্দুল জব্বার সরকার বলেন, “আমার রাজনীতির শুরু মানুষের কল্যাণের মধ্য দিয়ে। ছোটবেলা থেকেই অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো আর অসহায়ের পাশে থাকা—এটাই প্রকৃত নেতৃত্বের পরিচয়। বিএনপির আদর্শ ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের গণতন্ত্রের নীতি আমাকে টেনে এনেছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “রাজনীতি আমার কাছে ব্যবসা নয়। এটি সেবা, শুদ্ধাচার এবং মানুষের কল্যাণের প্রতিশ্রুতি। কেউ যদি দলের নাম ব্যবহার করে অন্যায় করে, তাকে কঠোরভাবে বিচার করতে হবে।”
পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবন : জব্বার সরকারের পরিবার তাকে শক্তি ও প্রেরণা জোগায়। তিনি জানান, “আমার পিতা হাজী কফিল উদ্দিন সরকার, মাতা হাজী জয়তুন বেগম। আমরা এক ভাই, এক বোন। আমার স্ত্রী আসমা আক্তার গৃহিণী। আল্লাহ আমাকে এক ছেলে ও এক মেয়ে দিয়েছেন। মেয়ে সাদিয়া ইসলাম জ্যোতি ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ করছে, আর ছেলে মাইলস্টোন স্কুল থেকে এইচ.এস.সি পরীক্ষার্থী। পরিবার সবসময় আমার রাজনৈতিক ও সামাজিক কাজে পাশে থাকে।”
কর্মসূচিতে অটল উপস্থিতি, প্রায় প্রতিটি আন্দোলন, মিছিল ও কর্মসূচিতে হাজী আব্দুল জব্বার সরকারকে দেখা যায়। তিনি বলেন, “দল ডাক দিলে না যাওয়া আমার কাছে অসম্ভব। নিজের অর্থ খরচ করে কর্মীদের নিয়ে যাই। রাজনীতি মানে ত্যাগ, নিজের জন্য নয়, মানুষের জন্য।”
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নেতৃত্ব : বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা সম্পর্কে তিনি মন্তব্য করেন, “দেশের গণতন্ত্র এখন সংকটে। জনগণের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়েছে। আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আজও জনগণের কষ্টকে নিজের কষ্ট মনে করেন। আর তারেক রহমান গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একমাত্র প্রতীক। তাদের প্রদত্ত ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়ন করলেই দেশ আবার গণতান্ত্রিক পথে ফিরতে পারবে।”
নতুন প্রজন্মের প্রতি বার্তা : নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক কর্মীদের তিনি বলেন—”আদর্শের পথে থাকো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও। রাজনীতি মানে মানুষের জন্য কাজ করা। ধৈর্য, ত্যাগ আর সততাই একজন কর্মীকে প্রকৃত নেতা বানায়। দল, দেশ আর মানুষের জন্য সবকিছু উজাড় করতে পারলেই ইতিহাসে নাম লেখা যায়।”
৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি : হাজী আব্দুল জব্বার সরকার নিশ্চিত করেছেন যে, বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচি বাস্তবায়নে তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। মূল বিষয়গুলো হলো— গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার পূর্ণ পুনঃস্থাপনা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, বিচার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও দুর্নীতি নির্মূল, অর্থনীতি ও সামাজিক উন্নয়নে ন্যায় ও সমতার নীতি, মিডিয়া স্বাধীনতা ও জনগণের তথ্যের অধিকার, … এবং আরও ২৬টি নির্দিষ্ট সংস্কারমূলক কর্মসূচি, যা দেশের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
হাজী আব্দুল জব্বার সরকারের জীবন একটি রাজনৈতিক পাঠশালা, যেখানে প্রতিটি অধ্যায়ে রয়েছে ত্যাগ, আদর্শ, সততা ও সাহস। গাজীপুর মহানগরের বুটবাজার থেকে শুরু করে প্রতিটি মহল্লায় আজ তার নাম বাতাসের মতো ভেসে বেড়াচ্ছে। মানুষ তার নেতৃত্ব ও সততার গল্প শুনতে এবং অনুপ্রাণিত হতে চাইছে।
আজকের রাজনীতিতে যেখানে অনেকেই ব্যক্তিস্বার্থে ঝুঁকছে, সেখানে হাজী আব্দুল জব্বার সরকার প্রমাণ করেছেন—সত্যিকারের নেতা মানে মানুষের কল্যাণে অবিচল থাকা।











