ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুবদলের গৌরব, তারুণ্যের শক্তি ও নেতাকর্মীদের আস্থার প্রতীক নাজমুল হোসেন মন্ডল ব্যারিস্টার জাইমা রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা নাজমুল হোসেন মন্ডল ও মোঃ শাহজাহান মিয়া (নগর) যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপ শেখ মোঃ সুমন যুবদলের রাজনীতিতে এক ফুটন্ত গোলাপের নাম শেখ মোঃ সুমন মরহুম কাজী জুলফিকর মোল্লার রুহের মাগফিরাত কামনায় বিনিময় কমপ্লেক্সে মিলাদ ও দোয়া মাহফিল জিয়া সংসদের কেন্দ্রীয় যোগাযোগবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হলেন মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল জনগণের রাস্তার মান নিয়ে কথা বলায় অপমানের অভিযোগ, প্রতিবাদে পিয়ারা আক্তার প্রিয়া ৮৪ বছরেও বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের পতাকা উড়িয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মজিবুর রহমান নীতি-নৈতিকতা ও দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় মোঃ শাহজাহান মিয়া, আলোচনায় এরশাদনগরে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও নিরাপত্তায় অঙ্গীকারবদ্ধ এমপি রনি, গাজীপুর-২ আসনের পূজামণ্ডপে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সহায়তা

টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে নারী নিখোঁজ: দৃষ্টান্তমূলক ব্যর্থতার নাম নগর অব্যবস্থাপনা

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫
  • / ২২৯৮ বার পড়া হয়েছে

Exif_JPEG_420




গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের খোলা ড্রেনে পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি নগর পরিকল্পনা, পৌরসেবা ও মানবিক দায়বদ্ধতার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।


ঘটনার বিবরণ : ২৭ জুলাই ২০২৫, রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট সংলগ্ন ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে চলার সময় এক নারী খোলা ড্রেনে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল সেন্টারের সামনের ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনাবিহীন অবস্থায় ছিল। বৃষ্টির পানিতে ড্রেনটি ঢাকা পড়ে গেলে পথচারীরা তা বুঝতে না পেরে এমন দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সন্ধান শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ রাত পেরিয়ে, পরদিন সকাল গড়িয়েও এখনো নিখোঁজ নারীর সন্ধান মেলেনি।

উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা অব্যাহত : টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. শাহিন আলম জানিয়েছেন, “ম্যানহোলটি প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং পানিতে পূর্ণ ছিল। ডুবুরি ইউনিট দিয়ে আমরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন পাইনি।”
পশ্চিম থানার ওসি ইসকান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি। নারীটি কোথায় পড়েছেন তা নিশ্চিত করতে নানা দিক থেকে কাজ চলছে।”
প্রশ্নবিদ্ধ নগর ব্যবস্থাপনা: দায় কার? এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখন প্রশ্নে পরিণত হয়েছে—কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বছরের পর বছর খোলা ড্রেন পড়ে থাকে? সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ কি এই ঝুঁকির কথা জানতেন না?
কোটি টাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের সামনেই কেন নেই কোনো সতর্ক সংকেত বা ব্যারিকেড? নাগরিকরা বলছেন, শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন দেখিয়ে ছবি তোলা হলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এই মৃত্যুফাঁদ রোধে বাস্তবসম্মত, দায়িত্বশীল এবং সময়োচিত ব্যবস্থা জরুরি।
মানবিক আবেদন: নিখোঁজ নারীকে শনাক্তে সহায়তা করুন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ নারীর পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয় থানা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে—
যদি কারো পরিবারের মহিলা সদস্য বা শিশু নিখোঁজ থেকে থাকে, দয়া করে নিচের ঠিকানায় এসে শনাক্তে সহায়তা করুন: ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে, হোসেন মার্কেট, গাজীপুরা, টঙ্গী।
সতর্কবার্তা ও আহ্বান : আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সজাগ থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে:
২৭ সাতাইশ, গাজীপুরা, আউসপাড়া, খাপারা, বনমালা, দত্তপাড়া, চেরাগ আলী, কলেজ গেট, হোসেন মার্কেট এবং এরশাদনগর এলাকা। এখনই পরিবর্তন দরকার; একটি ঢাকনার অভাবে যে জীবন হারিয়ে যেতে পারে, তা শুধুমাত্র এক নারীর মৃত্যু নয়—এটি আমাদের সিস্টেমের মৃত্যু। এখনই সময় দায় স্বীকার করার, নিরাপত্তার নতুন মানদণ্ড গড়ার, এবং নাগরিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করার। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দায়ীদের জবাবদিহি এবং অবহেলা রোধে বাস্তব পদক্ষেপই একমাত্র পথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

টঙ্গীতে খোলা ড্রেনে পড়ে নারী নিখোঁজ: দৃষ্টান্তমূলক ব্যর্থতার নাম নগর অব্যবস্থাপনা

আপডেট সময় : ০৯:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ জুলাই ২০২৫

গাজীপুরের টঙ্গীতে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের খোলা ড্রেনে পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় নারী এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনা শুধু একটি দুর্ঘটনা নয়—এটি নগর পরিকল্পনা, পৌরসেবা ও মানবিক দায়বদ্ধতার চরম ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি।


ঘটনার বিবরণ : ২৭ জুলাই ২০২৫, রোববার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে টঙ্গীর হোসেন মার্কেট সংলগ্ন ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনের সড়কে প্রবল বৃষ্টির মধ্যে চলার সময় এক নারী খোলা ড্রেনে পড়ে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মেডিকেল সেন্টারের সামনের ড্রেনটি দীর্ঘদিন ধরে ঢাকনাবিহীন অবস্থায় ছিল। বৃষ্টির পানিতে ড্রেনটি ঢাকা পড়ে গেলে পথচারীরা তা বুঝতে না পেরে এমন দুর্ঘটনার শিকার হন।
ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার তৎপরতা চালান। কিছুক্ষণ পর ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে সন্ধান শুরু করে। কিন্তু দীর্ঘ রাত পেরিয়ে, পরদিন সকাল গড়িয়েও এখনো নিখোঁজ নারীর সন্ধান মেলেনি।

উদ্ধারকাজে ফায়ার সার্ভিসের চেষ্টা অব্যাহত : টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মো. শাহিন আলম জানিয়েছেন, “ম্যানহোলটি প্রায় ১০ ফুট গভীর এবং পানিতে পূর্ণ ছিল। ডুবুরি ইউনিট দিয়ে আমরা উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছি। এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো চিহ্ন পাইনি।”
পশ্চিম থানার ওসি ইসকান্দার হাবিবুর রহমান বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে আছি। নারীটি কোথায় পড়েছেন তা নিশ্চিত করতে নানা দিক থেকে কাজ চলছে।”
প্রশ্নবিদ্ধ নগর ব্যবস্থাপনা: দায় কার? এলাকাবাসীর ক্ষোভ এখন প্রশ্নে পরিণত হয়েছে—কেন এমন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বছরের পর বছর খোলা ড্রেন পড়ে থাকে? সিটি করপোরেশন, ওয়ার্ড কাউন্সিলর বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউ কি এই ঝুঁকির কথা জানতেন না?
কোটি টাকার বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হাসপাতালের সামনেই কেন নেই কোনো সতর্ক সংকেত বা ব্যারিকেড? নাগরিকরা বলছেন, শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন উন্নয়ন দেখিয়ে ছবি তোলা হলে নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। এই মৃত্যুফাঁদ রোধে বাস্তবসম্মত, দায়িত্বশীল এবং সময়োচিত ব্যবস্থা জরুরি।
মানবিক আবেদন: নিখোঁজ নারীকে শনাক্তে সহায়তা করুন, ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো নিখোঁজ নারীর পরিচয় জানা যায়নি। স্থানীয় থানা ও ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে—
যদি কারো পরিবারের মহিলা সদস্য বা শিশু নিখোঁজ থেকে থাকে, দয়া করে নিচের ঠিকানায় এসে শনাক্তে সহায়তা করুন: ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালের সামনে, হোসেন মার্কেট, গাজীপুরা, টঙ্গী।
সতর্কবার্তা ও আহ্বান : আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষভাবে সজাগ থাকার অনুরোধ করা হচ্ছে। বিশেষ করে:
২৭ সাতাইশ, গাজীপুরা, আউসপাড়া, খাপারা, বনমালা, দত্তপাড়া, চেরাগ আলী, কলেজ গেট, হোসেন মার্কেট এবং এরশাদনগর এলাকা। এখনই পরিবর্তন দরকার; একটি ঢাকনার অভাবে যে জীবন হারিয়ে যেতে পারে, তা শুধুমাত্র এক নারীর মৃত্যু নয়—এটি আমাদের সিস্টেমের মৃত্যু। এখনই সময় দায় স্বীকার করার, নিরাপত্তার নতুন মানদণ্ড গড়ার, এবং নাগরিকদের প্রতি কর্তৃপক্ষের ন্যূনতম দায়িত্ব পালন করার। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দায়ীদের জবাবদিহি এবং অবহেলা রোধে বাস্তব পদক্ষেপই একমাত্র পথ।