টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজকে আধুনিক ও বৈষম্যহীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার নবনির্বাচিত সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনকে ঘিরে প্রত্যাশা শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশ, খেলার মাঠ সংস্কার ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান
ঐক্য, শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধে নতুন পথচলার প্রত্যয়
- আপডেট সময় : ১১:২৭:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১৮ বার পড়া হয়েছে

একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য কেবল পরীক্ষার ফলাফল কিংবা অবকাঠামোগত উন্নয়নে সীমাবদ্ধ নয়; এর প্রকৃত সাফল্য নিহিত থাকে শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, শিক্ষকদের মর্যাদা, শৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ এবং আগামী প্রজন্মকে যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার মধ্যে। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে ঐতিহ্যবাহী টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের সার্বিক উন্নয়ন, শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে শিক্ষা বিষয়ক মতবিনিময় সভা। শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সভায় নতুন দিনের শিক্ষা-ভাবনা, অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ এবং সম্মিলিত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির (অ্যাডহক কমিটি) নবনির্বাচিত সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন। তিনি টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপির সভাপতি। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আলাউদ্দিন মিয়া। বিশেষ অতিথি ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার। এ ছাড়া গাজীপুরের বিভিন্ন পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী, টঙ্গী পূর্ব ও পশ্চিম থানার পুলিশ সদস্য, শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক প্রতিনিধি এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। নেতৃত্বের মূল্যায়ন হোক কাজের মাধ্যমে, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নবনির্বাচিত সভাপতির দায়িত্বকে কেন্দ্র করে সভায় উপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার প্রতিফলন দেখা যায়। বক্তারা মনে করেন, একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন দায়িত্বশীল নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, দূরদর্শিতা এবং সবার মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার মানসিকতা।

সভায় তাঁর পারিবারিক ঐতিহ্য ও মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও উঠে আসে। কয়েকজন বক্তা তাঁর বাবার বিনা মূল্যে মানুষের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার কথা স্মরণ করেন। তাঁদের বক্তব্যে উঠে আসে, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা ও জনকল্যাণের চেতনাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নেও কাজে লাগানো সম্ভব। তাঁদের প্রত্যাশা, সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন শিক্ষকদের মর্যাদা, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ এবং প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দিয়ে দায়িত্ব পালন করবেন। একজন সভাপতির সাফল্য কেবল দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় নয়, বরং তাঁর উদ্যোগে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আসে, কতটা আস্থা তৈরি হয় এবং শিক্ষার্থীরা কতটা উপকৃত হয়, তার মধ্য দিয়েই মূল্যায়িত হবে। এ বিবেচনায় টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের নতুন নেতৃত্বের সামনে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও সম্ভাবনার দুয়ার।
বৈষম্য নয়, শিক্ষাঙ্গন হোক সবার, সভায় বিশেষ অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান উদ্দিন সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সবার। এখানে রাজনৈতিক মতাদর্শ বা ব্যক্তিগত পরিচয়ের কারণে কাউকে দূরে সরিয়ে রাখা উচিত নয়। বিভিন্ন মত ও পথের মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে সম্মিলিতভাবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তিনি বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট ও সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে বলেন, শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার জন্য একটি সুন্দর ও উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের শারীরিক সুস্থতা, মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলা ও দলগত মনোভাব গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই মাঠটিকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও ব্যবহারোপযোগী করে গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর ছিল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে রেখে সবার সহযোগিতায় এগিয়ে নিতে হবে। কারণ শিক্ষার স্বার্থে ঐক্যই হতে পারে টেকসই উন্নয়নের সবচেয়ে বড় শক্তি।
শিক্ষকদের মর্যাদা ও ন্যায়সংগত অধিকার নিশ্চিত করার দাবি, মতবিনিময় সভায় প্রভাষক বশির উদ্দিন তাঁর শিক্ষাজীবনের স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, একসময় তিনি এ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং এখান থেকেই অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর আবার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি অতীতের কিছু ঘটনার কথাও বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্যমূলক আচরণ করা হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কিছু শিক্ষক বেতন-সংক্রান্ত অসুবিধা, মামলা ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তিনি ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যেন না ঘটে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য সভায় উপস্থাপিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সভায় আলোচনার ভিত্তিতে বক্তারা শিক্ষকদের যথাযথ মূল্যায়ন, পেশাগত মর্যাদা এবং সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তাঁদের মতে, শিক্ষকরা নির্ভয়ে ও মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারলেই শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা পাবে। রাজনৈতিক পরিচয় নয়, বরং যোগ্যতা, নিষ্ঠা ও কর্মদক্ষতাই হওয়া উচিত শিক্ষক মূল্যায়নের প্রধান ভিত্তি।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রত্যাশা, একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অন্যতম শর্ত হলো নিরাপদ পরিবেশ। সভায় শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি, বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা এবং বহিরাগতদের অনিয়ন্ত্রিত প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব পায়। অভিভাবক প্রতিনিধি মিরর অভিযোগ করেন, কিছু শিক্ষার্থী বিদ্যালয় চলাকালে বাইরে চলে যায় এবং বহিরাগত কিছু ব্যক্তি মাঠে প্রবেশ করে মাদক সেবন করে বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি এসব সমস্যা প্রতিরোধে কার্যকর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তারা মনে করেন, শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নয়, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বৃদ্ধি এবং নৈতিক শিক্ষার চর্চাও জরুরি। বিদ্যালয়ের পরিবেশ আকর্ষণীয় ও শিক্ষার্থীবান্ধব হলে তাদের নিয়মিত উপস্থিতি এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বাড়ানো সহজ হবে।
অভিভাবকদের অংশগ্রহণে গড়ে উঠুক মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ, সভায় অভিভাবকদের মতামত নিয়ে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক-অভিভাবক সমন্বয় জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তারা বলেন, শিক্ষার মান উন্নত করতে হলে পাঠদানের পদ্ধতি, শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষার্থীদের নৈতিক বিকাশ, নিয়মিত উপস্থিতি এবং পরীক্ষার ফলাফল, সবকিছুর প্রতি সমান নজর দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সৃজনশীলতা ও মানবিক গুণাবলি বিকাশের সুযোগ বাড়াতে হবে। সরকার জাবেদ আহমেদ সুমনের নেতৃত্বাধীন পরিচালনা কাঠামোর কাছে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়, শিক্ষকদের পরামর্শ গ্রহণ এবং সমস্যাগুলো অগ্রাধিকার অনুযায়ী সমাধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল করা হবে। এ ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিয়মিত তদারকি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ঐতিহ্য রক্ষা করে আধুনিক শিক্ষার পথে, টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজের মতো ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের কাছে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই বেশি। এ প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা শুধু ভালো ফলাফল অর্জন করবে না; তারা হবে নৈতিক, দায়িত্বশীল, মানবিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক, এমন প্রত্যাশাও রয়েছে শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের মানুষের।
নবনির্বাচিত সভাপতি সরকার জাবেদ আহমেদের সামনে তাই রয়েছে প্রতিষ্ঠানের ঐতিহ্য রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আরও উন্নত শিক্ষার পরিবেশ তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। মাঠ সংস্কার, শিক্ষকদের ন্যায্য মূল্যায়ন, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং অভিভাবকদের অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলোতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা গেলে তাঁর নেতৃত্বে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ তৈরি হতে পারে। সভা শুরু হয় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে। বক্তব্য ও মতবিনিময় শেষে সামাদ চৌধুরী দোয়া পরিচালনা করেন। পরে উপস্থিত অতিথিদের খাবার ও পানীয় পরিবেশন করা হয়।
প্রত্যাশা থেকে বাস্তবায়ন, এগিয়ে যাক শিক্ষার অগ্রযাত্রা, মতবিনিময় সভার আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত উন্নয়ন কোনো একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর পক্ষে সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন সম্মিলিত দায়িত্ববোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, স্বচ্ছ পরিচালনা এবং শিক্ষার্থীদের কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া। সরকার জাবেদ আহমেদ সুমন যদি শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট সবার মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে বাস্তবসম্মত উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করতে পারেন, তবে তা প্রতিষ্ঠানের অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর নেতৃত্বের সার্থকতা ফুটে উঠবে শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা এবং একটি প্রাণবন্ত শিক্ষাঙ্গন গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে। শিক্ষার আলোয় আলোকিত হোক প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবন। বৈষম্যের পরিবর্তে প্রতিষ্ঠিত হোক ন্যায়, বিভেদের পরিবর্তে গড়ে উঠুক ঐক্য, আর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নতুন সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক টঙ্গী পাইলট স্কুল অ্যান্ড গার্লস কলেজ।




















