ভয়ভীতিমুক্ত সমাজ, মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুখে-দুঃখে পাশে থাকার প্রত্যয়ে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদপ্রার্থী
পেশিশক্তির রাজনীতি নয়, জনগণের আস্থা ও ন্যায়বিচার চান ফারিবা চৌধুরী লেমি
- আপডেট সময় : ১০:২৪:৩৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৬১৬ বার পড়া হয়েছে

জনপ্রতিনিধি হবেন জনগণের আস্থার প্রতীক, ভয়ভীতি কিংবা পেশিশক্তির উৎস নন। সাধারণ মানুষ যেন নির্ভয়ে তাঁদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারেন, ন্যায্য অধিকার আদায়ে সহযোগিতা পান এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা নিয়ে জনপ্রতিনিধির দ্বারস্থ হতে পারেন, এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আসন্ন নির্বাচনে ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী ফারিবা চৌধুরী লেমি। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি ভোটারদের উদ্দেশে যে বার্তা দিয়েছেন, তাতে উঠে এসেছে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন, পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ, নাগরিক অধিকার এবং সচেতন ভোটাধিকার প্রয়োগের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো। তাঁর বক্তব্যের মূল সুর, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের কাছেই জবাবদিহি করবেন; ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কে রাখবেন না।
ফারিবা চৌধুরী লেমি তাঁর পোস্টে সতর্ক করে বলেন, এমন কাউকে মেম্বার বা চেয়ারম্যান নির্বাচিত করা উচিত নয়, যিনি নির্বাচিত হওয়ার পর পেশিশক্তির প্রভাব খাটিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতির মধ্যে রাখবেন কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে মানুষের ওপর জুলুম করবেন। বরং এমন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করা প্রয়োজন, যাঁর কাছে মানুষ নির্দ্বিধায় নিজেদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে পারবেন এবং ন্যায়বিচার ও ন্যায্য অধিকার আদায়ে সহযোগিতা পাবেন।
তিনি আরও বলেন, যারা পেশিশক্তির বড়াই করে, তাদের বর্জন করতে হবে। সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হলে শুধু সরকারের সমালোচনা করলেই চলবে না; পরিবর্তনের দায়িত্ব নাগরিকদেরও নিতে হবে। কারণ, জনগণের অংশগ্রহণ ও সমর্থনেই সরকার গঠিত হয় এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জনগণের ভোটই নেতৃত্ব নির্বাচনের অন্যতম প্রধান শক্তি।
ভোটের মর্যাদা রক্ষায় সচেতন হওয়ার আহ্বান, ফারিবা চৌধুরী লেমির ফেসবুক বার্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ভোটের বিনিময়ে অর্থ গ্রহণের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান। তিনি ৫০০ টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি না করে প্রয়োজনে নিজের অর্থ ব্যয় করে যোগ্য ও সৎ প্রার্থী বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যের তাৎপর্য হলো, সামান্য আর্থিক লাভের বিনিময়ে ভোটের মতো মূল্যবান নাগরিক অধিকার বিসর্জন না দিয়ে এমন প্রতিনিধি নির্বাচন করা, যিনি ভবিষ্যতে মানুষের ন্যায্য দাবি ও অধিকার আদায়ে ভূমিকা রাখতে পারবেন। রাজনীতিতে অর্থ, প্রভাব কিংবা পেশিশক্তির পরিবর্তে সততা, যোগ্যতা, মানবিকতা ও জনসম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়ার যে বার্তা তিনি দিয়েছেন, তা স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে জনসচেতনতা তৈরির আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
জনপ্রতিনিধি ও জনগণের সম্পর্ক হোক আস্থা ও দায়িত্বের, স্থানীয় সরকারব্যবস্থায় সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলরের দায়িত্ব কেবল একটি পদে অধিষ্ঠিত থাকা নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডগুলোর নারীদের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদের সমস্যা, প্রত্যাশা ও অধিকারসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। এ দায়িত্ব পালনে প্রয়োজন মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, মনোযোগ দিয়ে অভিযোগ শোনা, ন্যায়সংগত বিষয়ে সহযোগিতা করা এবং সবার প্রতি সমান সম্মান প্রদর্শন। ফারিবা চৌধুরী লেমির বক্তব্যে এমন একটি জনপ্রতিনিধিত্বের প্রত্যাশা প্রতিফলিত হয়েছে, যেখানে নাগরিকেরা জনপ্রতিনিধির কাছে যেতে ভয় পাবেন না; বরং নিজেদের কথা বলার সুযোগ ও ন্যায্য সমাধানের প্রত্যাশা নিয়ে তাঁর কাছে যেতে পারবেন।
আসন্ন গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে ৪৬, ৪৭ ও ৪৮ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি এলাকাবাসীর দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করেছেন। তাঁর নির্বাচনী বার্তার কেন্দ্রে রয়েছে সচেতন ভোটাধিকার, পেশিশক্তির প্রভাবমুক্ত পরিবেশ এবং জনকল্যাণমুখী নেতৃত্বের প্রত্যাশা। নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত জনগণ কাকে তাঁদের প্রতিনিধি হিসেবে বেছে নেবেন, তা নির্ধারিত হবে ভোটারদের নিজস্ব বিবেচনা ও গণতান্ত্রিক সিদ্ধান্তে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, ভোটের মর্যাদা রক্ষা, যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন এবং জনপ্রতিনিধিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দায়িত্ব নাগরিকদেরও।




















