ঢাকা ০৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন

সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল

md younus
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৮১ বার পড়া হয়েছে




যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার সময় ইরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং অন্যান্য শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তা।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। শনিবার সকালে কমপ্লেক্সে বৈঠক হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। এর ফলে হামলায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, “আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা করা হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের কমপ্লেক্সে।”
অভিযান ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে শুরু হয়। বিমানসংখ্যা কম হলেও ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল ছিল। তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় খামেনি পাশের ভবনে ছিলেন, অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি আঘাতের শিকার হন। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘমাসের পরিকল্পনা ও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযান চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এ ধরনের হামলা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য গভীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা এবং পরিকল্পনার ফলেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
এই হামলার পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “বিদ্যালয়ে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।”

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

সিআইএ–ইসরায়েল মিলে কীভাবে আয়াতুল্লাহ খামেনির অবস্থান খুঁজে পেল

আপডেট সময় : ১১:১৪:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে হামলায় নিহত হয়েছেন। হামলার সময় ইরানের কেন্দ্রস্থলে একটি কমপ্লেক্সে শীর্ষ কর্মকর্তারা বৈঠক করছিলেন, যেখানে উপস্থিত ছিলেন আইআরজিসির প্রধান কমান্ডার মোহাম্মদ পাকপুর, প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, মিলিটারি কাউন্সিলের প্রধান অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং অন্যান্য শীর্ষ গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তা।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ কয়েক মাস ধরে খামেনির অবস্থান ও চলাফেরা নজরে রেখেছিল। শনিবার সকালে কমপ্লেক্সে বৈঠক হওয়ার তথ্য পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হামলার সময় পরিবর্তন করে। এর ফলে হামলায় শীর্ষ কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে সর্বোচ্চ নেতার অবস্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়। ইসরায়েলের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, “আজ সকালে তেহরানের একাধিক স্থানে একযোগে হামলা চালানো হয়েছে। এর মধ্যে একটি হামলা করা হয়েছে ইরানের রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা নেতৃত্বের কমপ্লেক্সে।”
অভিযান ইসরায়েল সময় ভোর ৬টার দিকে শুরু হয়। বিমানসংখ্যা কম হলেও ব্যবহৃত ক্ষেপণাস্ত্র দীর্ঘপাল্লার ও অত্যন্ত নির্ভুল ছিল। তেহরান সময় সকাল ৯টা ৪০ মিনিটে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো কমপ্লেক্সে আঘাত হানে। হামলার সময় খামেনি পাশের ভবনে ছিলেন, অন্য শীর্ষ কর্মকর্তারা সরাসরি আঘাতের শিকার হন। রোববার (১ মার্চ) ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নিশ্চিত করেছে, হামলায় রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী শামখানি এবং মেজর জেনারেল মোহাম্মদ পাকপুর নিহত হয়েছেন।
নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল দীর্ঘমাসের পরিকল্পনা ও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে এই অভিযান চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “এ ধরনের হামলা ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের জন্য গভীর নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। গোয়েন্দা তথ্যের নির্ভুলতা এবং পরিকল্পনার ফলেই শীর্ষ কর্মকর্তাদের অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।”
এই হামলার পরই ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশের মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয়ও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্তত ১৪৮ জন নিহত এবং বহু আহত হয়েছেন। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, “বিদ্যালয়ে হামলায় ডজনখানেক নিরীহ শিশু নিহত হয়েছে। এই হামলার জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।”