২১ বছরের দ্বীনি খেদমত, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার সঙ্গে পথচলা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির নতুন দায়িত্ব
রাজনীতিতে আদর্শ, জীবনে কুরআনের আলো হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের স্বপ্ন মানুষ গড়ার
- আপডেট সময় : ০১:৫৪:৪৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে

“রাজনীতি কর, বেয়াদবি নয়; নেতা হও, সন্ত্রাস নয়; ত্যাগী হও, কিন্তু স্বার্থপর নয়” কয়েকটি শব্দের মধ্যেই যেন ফুটে উঠেছে নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও সুন্দর সমাজ গঠনের এক অনন্য দর্শন। এমনই চিন্তাধারার কথা তুলে ধরেছেন হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ গাজীপুর মহানগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। তাঁর কাছে রাজনীতি শুধু পদ-পদবি কিংবা পরিচিতি অর্জনের মাধ্যম নয়; বরং ইসলাম, মানবিকতা ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার একটি দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, প্রকৃত নেতা হতে হলে মানুষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, বিনয়ী ও ত্যাগী হতে হবে। নেতৃত্বের নামে বেয়াদবি, সন্ত্রাস কিংবা ব্যক্তিস্বার্থের চর্চা কখনোই কাম্য নয়। নতুন প্রজন্ম এমনভাবে গড়ে উঠুক, যারা নেতৃত্ব দেবে আদর্শ দিয়ে, মানুষের ভালোবাসা অর্জন করবে কর্মের মাধ্যমে। তবে তাঁর পরিচয় শুধু রাজনৈতিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ নয়। প্রায় ২১ বছর ধরে দ্বীনি শিক্ষার খেদমতে যুক্ত থেকে কুরআন শিক্ষার পাশাপাশি শিশুদের নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত রয়েছেন তিনি।

কুরআনের খেদমতে ২১ বছরের পথচলা, টঙ্গীর ইসলামপুর (দত্তপাড়া), হাসান লেনে অবস্থিত মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের পথচলা। এই দীর্ঘ সময়ে অসংখ্য শিক্ষার্থীর কুরআন শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিজ্ঞতা তাঁকে উপলব্ধি করিয়েছে, একজন শিশুকে শুধু হাফেজ বানানোই যথেষ্ট নয়; তাকে উত্তম চরিত্রের মানুষ হিসেবেও গড়ে তুলতে হবে। কারণ কুরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি কুরআনের শিক্ষা নিজের জীবন, আচরণ ও চিন্তায় ধারণ করাই প্রকৃত সার্থকতা। একজন শিক্ষার্থীর মধ্যে ঈমান, তাকওয়া, আদব-আখলাক, শৃঙ্খলা, সততা ও দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
মুসলিহুল উম্মাহ: হিফজের পাশাপাশি মানুষ গড়ার স্বপ্ন, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসার শিক্ষা-দর্শনের অন্যতম ভিত্তি হলো উস্তাদ, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীর সমন্বিত প্রচেষ্টা। হিফজ বিভাগের সবক, আমুখতা, সাবিনা ও পড়াশোনার নিয়ম নির্ধারণে যোগ্য উস্তাদের অভিজ্ঞতা ও সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অন্যদিকে সন্তানের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে অভিভাবকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে একটি সুন্দর নীতি হতে পারে, উস্তাদ পথপ্রদর্শক, অভিভাবক সহযোগী, আর সন্তান আমাদের আমানত। সন্তানের প্রতিটি আবদার পূরণ করাই ভালোবাসা নয়। তাকে নিয়ম মানা, ধৈর্য ধরা, অপেক্ষা করা ও নিজের ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করার শিক্ষাও দিতে হবে। বিশেষ করে হিফজ শিক্ষায় নিয়মিত পড়াশোনা ও পুনরাবৃত্তি অত্যন্ত জরুরি। তাই মাদরাসার নিয়ম মেনে চলা এবং উস্তাদদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব। তবে শৃঙ্খলার পাশাপাশি শিশুর প্রতি ভালোবাসা ও মানবিক আচরণও সমান প্রয়োজন। কোনো শিক্ষার্থী অসুস্থ বা মানসিক সমস্যায় পড়লে তার প্রতি বিশেষ যত্ন নিতে হবে।
শিক্ষার সঙ্গে আনন্দ, দ্বীনের সঙ্গে মানবিকতা, শিশুদের সুন্দর বিকাশে শুধু পড়াশোনা নয়, খেলাধুলা ও আনন্দেরও প্রয়োজন রয়েছে। এ ভাবনা থেকে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ফুটবল প্রতিযোগিতা, পুরস্কার বিতরণী ও বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ফুটবল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের পুরস্কার প্রদান শিক্ষার্থীদের মধ্যে উৎসাহ ও আনন্দ সৃষ্টি করে। অন্যদিকে ইসলাম অসহায়, এতিম, বিধবা ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা দেয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, বিধবা ও মিসকিনের সহযোগিতায় এগিয়ে আসা ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর মতো। (সহিহ বুখারি, হাদিস ৫৩৫৩)। এই শিক্ষা মানুষের প্রতি সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করে। হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের চিন্তায় দ্বীনি শিক্ষা ও মানবকল্যাণের এই সমন্বয় বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
নতুন দায়িত্ব, পুরোনো আদর্শ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহ-সভাপতির দায়িত্ব তাঁর জীবনে নতুন একটি অধ্যায়। এই দায়িত্বের মধ্য দিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড, জনকল্যাণ ও মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ আরও বিস্তৃত হবে বলে প্রত্যাশা করা যায়। তাঁর বক্তব্যে তরুণদের প্রতি বিশেষ আহ্বান রয়েছে, রাজনীতি করুক আদর্শের ভিত্তিতে, নেতৃত্ব দিক শালীনতার সঙ্গে, আর সমাজের জন্য কাজ করুক নিঃস্বার্থভাবে। প্রায় ২১ বছরের দ্বীনি খেদমতের অভিজ্ঞতায় তাঁর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শিক্ষার্থীদের অগ্রগতি এবং কুরআনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গড়ে ওঠা। কোনো প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফিরে এসে যদি বলে, ‘উস্তাদ, আপনার কাছে কুরআন শিখেছিলাম’, সেটিই একজন শিক্ষকের জন্য অনেক বড় সম্মান। তাঁর স্বপ্ন, মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা থেকে এমন একটি প্রজন্ম তৈরি হবে, যারা কুরআন মুখস্থ করার পাশাপাশি কুরআনের আদর্শে জীবন পরিচালনার চেষ্টা করবে, পিতা-মাতাকে সম্মান করবে, উস্তাদের মর্যাদা বুঝবে, সত্যবাদী হবে এবং দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করবে।
একটি প্রার্থনা, একটি প্রত্যাশা, হাফেজ কারী মাইনুদ্দিন সকলের কাছে দোয়া প্রত্যাশা করেন, যেন আল্লাহ তাআলা তাঁর দীর্ঘদিনের দ্বীনি খেদমত কবুল করেন এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত কুরআনের সঙ্গে থাকার ও কুরআন শেখানোর তাওফিক দান করেন। তিনি বিশেষভাবে সকল উস্তাদের সুস্থতা ও নেক হায়াত কামনা করেন। আল্লাহ তাআলা যেন তাঁদের ইলম, আমল ও খেদমতে বরকত দান করেন। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় শুধু পদ-পদবি কিংবা সামাজিক অবস্থানে নয়; বরং তাঁর আদর্শ, ব্যবহার ও মানুষের জন্য করা ভালো কাজের মধ্যেই প্রকাশ পায়। হাফেজ কারী মাইনুদ্দিনের উচ্চারিত সেই বার্তাও তাই নতুন প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর শিক্ষা নেতৃত্ব চাই, কিন্তু ঔদ্ধত্য নয়; রাজনীতি চাই, কিন্তু সন্ত্রাস নয়; সফলতা চাই, কিন্তু স্বার্থপরতা নয়। আল্লাহ তাআলা তাঁর দ্বীনি খেদমত কবুল করুন, সকল উস্তাদ ও শিক্ষার্থীকে উত্তম জীবন দান করুন এবং মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসাকে দ্বীনি শিক্ষা ও আদর্শ মানুষ গড়ার একটি কল্যাণময় প্রতিষ্ঠান হিসেবে কবুল করুন। আমিন।

মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা, ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর। ভর্তির যোগাযোগ: ০১৯১৪-০৩১০৪১, প্রত্যয়: শুধু হাফেজ নয়, কুরআনের আলোয় আলোকিত আদর্শ মানুষ গড়াই আমাদের অঙ্গীকার। মুসলিহুল উম্মাহ হিফজ মাদরাসা। ঠিকানা: হাসান লেন, ইসলামপুর (দত্তপাড়া), টঙ্গী, গাজীপুর।









