ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন

রাজধানীতে তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে দীর্ঘ সারি

md younus
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৪৪ বার পড়া হয়েছে




রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যেসব পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেল নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।
সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মগবাজার, তেজগাঁও, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পে যানবাহনের সারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও লম্বা হচ্ছে। তেল নিতে আসা মানুষ অভিযোগ করেছেন, কিছু পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তারা বলেন, “তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু পাম্পে সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, দেশে কোনো প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই। মন্ত্রী বলেন, “বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছে। এই ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণেই কিছু পাম্পে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকার এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।”
সকাল ১০টার দিকে আসাদগেট এলাকায় দেখা যায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত পৌঁছেছে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে সারি মোহাম্মদপুর টাউন হল ছাড়িয়ে গেছে। মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসা শফিউল্লাহ বলেন, “পাঁচটি পাম্প ঘুরেছি, কিন্তু সবই বন্ধ। তেল না পেলে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে।”
পাম্পের কর্মীরা জানান, রাতের মজুদ শেষ হওয়ায় দুপুর নাগাদ তেল সরবরাহ আসবে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের আবুল কাশেম বলেন, “সকাল ৬টায় সারি ধরেছি। পাম্পে পৌঁছাতে সকাল ৯টা বাজে। এখনও তেল পাইনি। অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।” বিজয় সরণি ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের তাশরিফ হাসান বলেন, “তেল না পেলে আজ অফিসে যাওয়া সম্ভব হবে না। গাজীপুর থেকে এসেছি, কিন্তু কোনো পাম্পে তেল পাইনি।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাস চলাচল কমে গেলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন। তাই দ্রুত বাজার তদারকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি করেছেন নাগরিকরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজধানীতে তেলের তীব্র সংকট, পাম্পে দীর্ঘ সারি

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৪ মার্চ ২০২৬

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল থেকেই তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। সরবরাহ কমে যাওয়ায় অনেক পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে, আর যেসব পাম্প খোলা রয়েছে সেখানে তেল নিতে আসা মানুষের দীর্ঘ সারি চোখে পড়েছে।
সরাসরি পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, মগবাজার, তেজগাঁও, ধানমন্ডিসহ বিভিন্ন এলাকার পাম্পে যানবাহনের সারি বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আরও লম্বা হচ্ছে। তেল নিতে আসা মানুষ অভিযোগ করেছেন, কিছু পাম্প মালিক কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছেন। তারা বলেন, “তেলের মজুদ থাকা সত্ত্বেও কিছু পাম্পে সরবরাহ সীমিত করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছে।”
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী পরিস্থিতি নিয়ে আশ্বস্ত করেছেন। তিনি জানান, দেশে কোনো প্রকৃত জ্বালানি সংকট নেই। মন্ত্রী বলেন, “বাজারে তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কায় মানুষ অতিরিক্ত তেল কিনছে। এই ‘প্যানিক বায়িং’-এর কারণেই কিছু পাম্পে সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। সরকার এই মুহূর্তে তেলের দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা করছে না।”
সকাল ১০টার দিকে আসাদগেট এলাকায় দেখা যায়, তালুকদার ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের সারি লেক রোড পর্যন্ত পৌঁছেছে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে সারি মোহাম্মদপুর টাউন হল ছাড়িয়ে গেছে। মানিকগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেল চালিয়ে আসা শফিউল্লাহ বলেন, “পাঁচটি পাম্প ঘুরেছি, কিন্তু সবই বন্ধ। তেল না পেলে এখানেই অপেক্ষা করতে হবে।”
পাম্পের কর্মীরা জানান, রাতের মজুদ শেষ হওয়ায় দুপুর নাগাদ তেল সরবরাহ আসবে। সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনের আবুল কাশেম বলেন, “সকাল ৬টায় সারি ধরেছি। পাম্পে পৌঁছাতে সকাল ৯টা বাজে। এখনও তেল পাইনি। অপেক্ষা ছাড়া উপায় নেই।” বিজয় সরণি ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের তাশরিফ হাসান বলেন, “তেল না পেলে আজ অফিসে যাওয়া সম্ভব হবে না। গাজীপুর থেকে এসেছি, কিন্তু কোনো পাম্পে তেল পাইনি।”
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই পরিস্থিতি যদি দ্রুত স্বাভাবিক না হয়, রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। বাস চলাচল কমে গেলে সাধারণ কর্মজীবী মানুষ দুর্ভোগে পড়বেন। তাই দ্রুত বাজার তদারকি ও সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি করেছেন নাগরিকরা।