ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদ-পদবীর মোহ নয় মানুষের ভালোবাসাই যার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচির বার্তা দিলেন মোঃ মাসুদ রানা সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে টঙ্গীর রাজপথে বিএনপির বিক্ষোভ মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপই হবে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তি- সোহেল চৌধুরী ময়লা দেখলেই থেমে যান, হাতে তুলে নেন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব টঙ্গীর রাজপথে সুমন-টিপুর নেতৃত্বে যুবদলের বিক্ষোভ ইয়েমেনি বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালালো হুতিরা গরু চুরির অভিযোগ থেকে পাল্টা মামলা সারের জন্য ফুঁসে উঠছে কৃষক সরকারি হাসপাতালে বিকল অবস্থায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার অধিকাংশ যন্ত্রপাতি

মিছিলের রাজপথ থেকে মানুষের সেবায়: মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের নীরব পথচলার এক দীর্ঘ ইতিহাস

পদ-পদবীর মোহ নয় মানুষের ভালোবাসাই যার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি

md younus
  • আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৭৫ বার পড়া হয়েছে




রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নাম পদ-পদবীর কারণে আলোচিত হয়। আবার কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের গল্প লেখা থাকে নীরবে, মিছিলের সারিতে, কর্মীদের পাশে, বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতে এবং মানুষের জন্য নিজের সামর্থ্য বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল তেমনই এক দীর্ঘ পথচলার নাম, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বর্ণনায়, যিনি ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজের ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতা করে আসছেন।
খিলগাঁওয়ের মাটিতে তাঁর শৈশব। বাবা মরহুম নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগমের সন্তান টুটুল ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই মোঃ নুরজ্জামানের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাতায়াত শুরু করেন। সেই সময় রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল না কোনো পদ বা পরিচয়ের সিঁড়ি; ছিল মানুষের সঙ্গে থাকা এবং নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়া। বড় ভাই মোঃ নুরজ্জামান খিলগাঁওয়ের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভাইয়ের প্রতি সম্মান রেখেই টুটুল নিজের জন্য পদ-পদবীর প্রত্যাশাকে কখনো বড় করে দেখেননি।
সময় বদলেছে। জীবন তাঁকে খিলগাঁও থেকে টঙ্গীর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে এসেছে। ব্যবসার প্রয়োজনে নতুন ঠিকানায় সংসার গড়লেও পুরোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাননি। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক তাঁতী দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিকটি কোনো পদ নয়, কর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রয়োজনের সময়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা কোনো কর্মী সমস্যায় পড়লে তার পাশে থাকার চেষ্টা করা, এসব কাজ তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন বলে তাঁর স্বজন ও পরিচিতরা জানান। ব্যবসা তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সেই ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তিনি মানুষের কল্যাণ ও দলীয় কর্মীদের সহযোগিতায় ব্যয় করেন বলেও তাঁর পরিবার জানায়। তাঁর কাছে এটি কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়; বরং নিজের দায়িত্ববোধের অংশ।
একটি পরিবারের গল্প, একটি মূল্যবোধের গল্প, টঙ্গীতে সংসার গড়ার পর স্ত্রী রাহিমা জামানকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন টুটুল। তাঁদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম। পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক কাজে এবং মানুষের সহযোগিতায় তাঁর পাশে থাকেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সংসারজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্ত্রী রাহিমা জামান তাঁর পাশে থেকেছেন। পরিবারকে সামলে স্বামীর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, যা টুটুলের জীবনের নেপথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সন্তানরাও নিজেদের কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবারের সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করে চলার চেষ্টা করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নামাজ, মানবিকতা আর মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা, ব্যক্তিজীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন টুটুল। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতাকে তিনি গুরুত্ব দেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান। তাঁর কাছে মানুষের পরিচয় শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। একজন অসহায় মানুষ, একজন বিপদগ্রস্ত কর্মী কিংবা পরিচিত কোনো পরিবার, যে কেউ প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা চাইলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।
বয়স বাড়ছে, কিন্তু থামেনি পথচলা, জীবনের একটি দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এখন বয়সের ভারও অনুভব করছেন টুটুল। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দিকে ফিরে তাকালে তাঁর নিজের জন্য চাওয়া-পাওয়ার হিসাব খুব বেশি নেই, এমনটাই তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান। তিনি বলেন, দলের কর্মীরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সংগঠনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে এলে তৈরি হবে আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার বন্ধন। এই চিন্তাটিই তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
“আমি যতদিন পারি মানুষের পাশে থাকতে চাই। নিজের জন্য কিছু পাওয়ার চেয়ে একজন মানুষের প্রয়োজনে কাজে আসতে পারাটাই বড়।” টুটুলের এমন বক্তব্য তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায়।
ইতিহাস সবসময় পদ দিয়ে লেখা হয় না, রাজনীতির মাঠে পদ আসে, পদ যায়। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলায়, সংগঠনের কাঠামো বদলায়, মানুষের পরিচয়ও বদলে যায়। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের গল্প তাই শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর গল্প নয়, এটি একজন মানুষের নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্য মানুষের পাশে থাকার গল্প।
খিলগাঁওয়ের শৈশব থেকে টঙ্গীর বর্তমান জীবন, মিছিলের সারি থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসার ব্যস্ততা থেকে কর্মীদের সহযোগিতা, সংসারের দায়িত্ব থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা যেন এক দীর্ঘ অধ্যায়ের মতো।
তিনি হয়তো পদ-পদবীর পেছনে ছোটেননি। হয়তো নিজের জন্য বড় কোনো প্রাপ্তির তালিকাও তৈরি করেননি। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সময়ের স্রোতে তাঁর বয়স বাড়ছে। রাজপথের সেই তরুণ আজ জীবনের পরিণত সময়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। তবুও মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে রয়ে গেছে। ইতিহাসের সব চরিত্রের হাতে পদক থাকে না, সব কর্মীর নাম ব্যানারে লেখা থাকে না। কারও কারও ইতিহাস লেখা হয় মানুষের স্মৃতিতে। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের দীর্ঘ পথচলার গল্পও তেমনই, নীরবে কাজ করে যাওয়া এক মানুষের গল্প; যেখানে প্রাপ্তির চেয়ে দায়িত্ব, পরিচয়ের চেয়ে সম্পর্ক এবং পদ-পদবীর চেয়ে মানুষের পাশে থাকার মূল্যটাই বড়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

মিছিলের রাজপথ থেকে মানুষের সেবায়: মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের নীরব পথচলার এক দীর্ঘ ইতিহাস

পদ-পদবীর মোহ নয় মানুষের ভালোবাসাই যার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি

আপডেট সময় : ০২:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজনীতির ইতিহাসে কিছু নাম পদ-পদবীর কারণে আলোচিত হয়। আবার কিছু মানুষ আছেন, যাঁদের গল্প লেখা থাকে নীরবে, মিছিলের সারিতে, কর্মীদের পাশে, বিপদের দিনে বাড়িয়ে দেওয়া সহযোগিতার হাতে এবং মানুষের জন্য নিজের সামর্থ্য বিলিয়ে দেওয়ার মধ্যে। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুল তেমনই এক দীর্ঘ পথচলার নাম, তাঁর পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের বর্ণনায়, যিনি ছোটবেলা থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশ নিয়েছেন এবং সময়ের সঙ্গে নিজের ব্যবসা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের মধ্যেও দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সহযোগিতা করে আসছেন।
খিলগাঁওয়ের মাটিতে তাঁর শৈশব। বাবা মরহুম নুর ইসলাম ও মা জাহানারা বেগমের সন্তান টুটুল ছোটবেলা থেকেই বড় ভাই মোঃ নুরজ্জামানের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যাতায়াত শুরু করেন। সেই সময় রাজনীতি তাঁর কাছে ছিল না কোনো পদ বা পরিচয়ের সিঁড়ি; ছিল মানুষের সঙ্গে থাকা এবং নিজের বিশ্বাসের জায়গা থেকে কাজ করে যাওয়া। বড় ভাই মোঃ নুরজ্জামান খিলগাঁওয়ের ৭৪ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় ভাইয়ের প্রতি সম্মান রেখেই টুটুল নিজের জন্য পদ-পদবীর প্রত্যাশাকে কখনো বড় করে দেখেননি।
সময় বদলেছে। জীবন তাঁকে খিলগাঁও থেকে টঙ্গীর ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে এসেছে। ব্যবসার প্রয়োজনে নতুন ঠিকানায় সংসার গড়লেও পুরোনো রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক থেকে দূরে সরে যাননি। ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক তাঁতী দলের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে টঙ্গী পূর্ব থানা জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি হিসেবে সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। তবে তাঁর পরিচয়ের সবচেয়ে আলোচিত দিকটি কোনো পদ নয়, কর্মীদের পাশে থাকার মানসিকতা। দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া মানুষদের প্রয়োজনের সময়ে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করা, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কিংবা কোনো কর্মী সমস্যায় পড়লে তার পাশে থাকার চেষ্টা করা, এসব কাজ তিনি দীর্ঘদিন ধরে করে আসছেন বলে তাঁর স্বজন ও পরিচিতরা জানান। ব্যবসা তাঁর জীবিকার প্রধান অবলম্বন। সেই ব্যবসা থেকে উপার্জিত অর্থের একটি অংশ তিনি মানুষের কল্যাণ ও দলীয় কর্মীদের সহযোগিতায় ব্যয় করেন বলেও তাঁর পরিবার জানায়। তাঁর কাছে এটি কোনো প্রদর্শনীর বিষয় নয়; বরং নিজের দায়িত্ববোধের অংশ।
একটি পরিবারের গল্প, একটি মূল্যবোধের গল্প, টঙ্গীতে সংসার গড়ার পর স্ত্রী রাহিমা জামানকে সঙ্গে নিয়ে জীবনের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়েছেন টুটুল। তাঁদের ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ের জন্ম। পরিবারের সদস্যরাও সামাজিক কাজে এবং মানুষের সহযোগিতায় তাঁর পাশে থাকেন বলে জানা যায়। দীর্ঘ সংসারজীবনের নানা ব্যস্ততা ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্ত্রী রাহিমা জামান তাঁর পাশে থেকেছেন। পরিবারকে সামলে স্বামীর সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ডে সহযোগিতা করেছেন, যা টুটুলের জীবনের নেপথ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তাঁর সন্তানরাও নিজেদের কর্মজীবনের পাশাপাশি পরিবারের সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করে চলার চেষ্টা করছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
নামাজ, মানবিকতা আর মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা, ব্যক্তিজীবনে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন টুটুল। ধর্মীয় মূল্যবোধের পাশাপাশি মানুষের প্রতি সহানুভূতি ও সহযোগিতাকে তিনি গুরুত্ব দেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান। তাঁর কাছে মানুষের পরিচয় শুধু রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। একজন অসহায় মানুষ, একজন বিপদগ্রস্ত কর্মী কিংবা পরিচিত কোনো পরিবার, যে কেউ প্রয়োজনের সময়ে সহযোগিতা চাইলে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন তিনি।
বয়স বাড়ছে, কিন্তু থামেনি পথচলা, জীবনের একটি দীর্ঘ সময় পেরিয়ে এখন বয়সের ভারও অনুভব করছেন টুটুল। কিন্তু দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের দিকে ফিরে তাকালে তাঁর নিজের জন্য চাওয়া-পাওয়ার হিসাব খুব বেশি নেই, এমনটাই তাঁর ঘনিষ্ঠজনেরা জানান। তিনি বলেন, দলের কর্মীরা যদি একে অপরের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে সংগঠনের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে। একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে এলে তৈরি হবে আস্থা, ভালোবাসা ও সহযোগিতার বন্ধন। এই চিন্তাটিই তাঁর দীর্ঘ পথচলার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
“আমি যতদিন পারি মানুষের পাশে থাকতে চাই। নিজের জন্য কিছু পাওয়ার চেয়ে একজন মানুষের প্রয়োজনে কাজে আসতে পারাটাই বড়।” টুটুলের এমন বক্তব্য তাঁর ঘনিষ্ঠদের মাধ্যমে জানা যায়।
ইতিহাস সবসময় পদ দিয়ে লেখা হয় না, রাজনীতির মাঠে পদ আসে, পদ যায়। সময়ের সঙ্গে দায়িত্ব বদলায়, সংগঠনের কাঠামো বদলায়, মানুষের পরিচয়ও বদলে যায়। কিন্তু মানুষের প্রয়োজনে পাশে দাঁড়ানোর স্মৃতি সহজে মুছে যায় না। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের গল্প তাই শুধু একজন রাজনৈতিক কর্মীর গল্প নয়, এটি একজন মানুষের নিজের সামর্থ্য দিয়ে অন্য মানুষের পাশে থাকার গল্প।
খিলগাঁওয়ের শৈশব থেকে টঙ্গীর বর্তমান জীবন, মিছিলের সারি থেকে সামাজিক কর্মকাণ্ড, ব্যবসার ব্যস্ততা থেকে কর্মীদের সহযোগিতা, সংসারের দায়িত্ব থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সব মিলিয়ে তাঁর পথচলা যেন এক দীর্ঘ অধ্যায়ের মতো।
তিনি হয়তো পদ-পদবীর পেছনে ছোটেননি। হয়তো নিজের জন্য বড় কোনো প্রাপ্তির তালিকাও তৈরি করেননি। কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সুযোগই সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। সময়ের স্রোতে তাঁর বয়স বাড়ছে। রাজপথের সেই তরুণ আজ জীবনের পরিণত সময়ে এসে দাঁড়িয়েছেন। তবুও মানুষের জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তাঁর মধ্যে রয়ে গেছে। ইতিহাসের সব চরিত্রের হাতে পদক থাকে না, সব কর্মীর নাম ব্যানারে লেখা থাকে না। কারও কারও ইতিহাস লেখা হয় মানুষের স্মৃতিতে। মোঃ কামরুজ্জামান টুটুলের দীর্ঘ পথচলার গল্পও তেমনই, নীরবে কাজ করে যাওয়া এক মানুষের গল্প; যেখানে প্রাপ্তির চেয়ে দায়িত্ব, পরিচয়ের চেয়ে সম্পর্ক এবং পদ-পদবীর চেয়ে মানুষের পাশে থাকার মূল্যটাই বড়।