ডেঙ্গু প্রতিরোধে টঙ্গীর অলিগলি-ড্রেনে মশার ওষুধ, ময়লার স্তূপে নিজ হাতে ব্লিচিং পাউডার
ময়লা দেখলেই থেমে যান, হাতে তুলে নেন পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব
- আপডেট সময় : ০১:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

ডেঙ্গুর মৌসুমে মশার উপদ্রব ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ যখন নগরবাসীর জন্য উদ্বেগের কারণ, তখন সচেতনতা ও পরিচ্ছন্নতার বার্তা নিয়ে মাঠে নেমেছেন গাজীপুর মহানগর যুবদলের ১নং যুগ্ম আহ্বায়ক ও টঙ্গী পূর্ব থানা যুবদলের আহ্বায়ক মোঃ ফারুক হোসেন আকবর (আকবর হোসেন ফারুক)। রাজনীতির পরিচয়ের বাইরে তাঁর কর্মকাণ্ডে উঠে আসছে ভিন্ন এক দিক, ময়লা দেখলে তিনি পাশ কাটিয়ে যান না। কোথাও ময়লার স্তূপ, দুর্গন্ধ কিংবা মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চোখে পড়লে স্থানীয়দের নিয়ে তা পরিষ্কারের উদ্যোগ নেন। কখনো মানুষকে ডেকে ময়লা অপসারণ করান, আবার কখনো নিজ হাতেই ময়লার স্তূপে ব্লিচিং পাউডার ছিটাতে দেখা যায় তাঁকে।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সাম্প্রতিক সময়ে টঙ্গী পূর্ব থানার বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানোর কার্যক্রমেও সরাসরি অংশ নিচ্ছেন তিনি। অলিগলি, ড্রেনের ফাঁকফোকর, ময়লা-আবর্জনা জমে থাকা স্থান এবং বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে মশার ওষুধ ছিটিয়ে মানুষকে সচেতন করছেন। তাঁর উদ্যোগে কোথাও ময়লা জমে থাকলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তা অপসারণের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে।

আকবর হোসেন ফারুক বলেন, “ডেঙ্গু সচেতনতা ও প্রতিরোধের লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে একটি সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাব। পরিচ্ছন্নতা শুধু একজনের দায়িত্ব নয়, এটি আমাদের সবার দায়িত্ব।” পরিচ্ছন্নতা নিয়ে তাঁর এই তৎপরতা অবশ্য নতুন নয়। কাউন্সিলর পদপ্রার্থী হওয়ার আগেও বিভিন্ন সময়ে এলাকার ময়লা-আবর্জনা অপসারণে তিনি স্থানীয়দের নিয়ে কাজ করেছেন বলে জানা যায়। কোনো স্থানে ময়লার স্তূপ জমে থাকলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তা পরিষ্কার করার উদ্যোগ নেওয়ার একাধিক ঘটনাও রয়েছে।
টঙ্গীর চেরাগআলী মেইন রোডে ময়লা ফেলার ডাম্পিংয়ের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেও তিনি বিষয়টি সামনে এনেছিলেন। জনবহুল সড়ক ও আবাসিক এলাকার পাশে ময়লা জমিয়ে রাখার কারণে দুর্গন্ধ, মশার বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়, এমন বিষয় তুলে ধরে পরিচ্ছন্ন পরিবেশের দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। স্থানীয়দের ভাষ্য, তাঁর কর্মকাণ্ডের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো, পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে তিনি শুধু বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেন না; সুযোগ পেলেই নিজেও কাজে অংশ নেন। ময়লা অপসারণ থেকে শুরু করে ব্লিচিং পাউডার ছিটানো কিংবা মশার ওষুধ প্রয়োগ, বিভিন্ন কাজে তাঁকে সরাসরি মাঠে দেখা যায়।
জনসেবার এই মানসিকতার সঙ্গে পারিবারিক একটি ঐতিহ্যের কথাও উঠে আসে। তাঁর বাবা একসময় কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাবার মানুষের পাশে থাকার আদর্শকে ধারণ করেই তিনি জনসম্পৃক্ত কর্মকাণ্ডে নিজেকে যুক্ত রেখেছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান। তাঁদের ভাষ্য, মানুষের জন্য কাজ করাকে তিনি শুধু রাজনৈতিক দায়িত্ব নয়, সামাজিক দায়িত্ব হিসেবেও দেখেন। এদিকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশার ওষুধ ছিটালেই হবে না, বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি অপসারণ, ড্রেন পরিষ্কার রাখা, ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে নাগরিকদেরও এগিয়ে আসতে হবে। প্রশাসনের উদ্যোগের পাশাপাশি মানুষের সচেতনতা ও সম্মিলিত অংশগ্রহণই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যকর টঙ্গী গড়ে তুলতে।
আকবর হোসেন ফারুকের বর্তমান উদ্যোগ সেই সম্মিলিত প্রচেষ্টারই একটি স্থানীয় উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে, যেখানে রাজনৈতিক পরিচয়ের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা, জনস্বাস্থ্য ও মানুষের পাশে থাকার প্রত্যয় গুরুত্ব পাচ্ছে।


















