ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন

দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু, সংসদে প্রধানমন্ত্রী

md younus
  • আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬
  • / ২০৬৩ বার পড়া হয়েছে




দেশে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে যুক্তিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম প্রবেশ।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। সংসদ হবে সব যুক্তিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কখনও আপস করেননি।” একই সঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু দলের নয়, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। “দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য।”
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর সময় স্পিকারের চেয়ার শূন্য ছিল। অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয় লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পায় ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত একাই জয় পায় ৬৮টি আসনে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

দেশে আবারও গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু, সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৫:৩০:৩০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ ২০২৬

দেশে আবারও কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ হবে যুক্তিতর্ক ও জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। অধিবেশনের শুরুতে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি স্বাগত বক্তব্য রাখেন। বেলা ১১টা ৫ মিনিটে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে সংসদের কার্যক্রম শুরু হয়।
সংসদ অধিবেশন শুরুর আগে সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে অধিবেশন কক্ষে প্রবেশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় সরকার ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তাকে অভিনন্দন জানান। জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য হিসেবে এটিই ছিল তার প্রথম প্রবেশ।
বক্তব্যের শুরুতে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আন্দোলন ও সংগ্রামে নিহত সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “দেশে আজ থেকে আবারও সেই কাঙ্ক্ষিত সংসদীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হলো। সংসদ হবে সব যুক্তিতর্ক এবং জাতীয় সমস্যা সমাধানের কেন্দ্র।”
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, “দেশনেত্রী খালেদা জিয়া জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে তিনি কখনও আপস করেননি।” একই সঙ্গে তিনি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি শুধু দলের নয়, পুরো দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। “দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে দেশের জনগণের প্রতিনিধিত্ব করছি। প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করাই আমাদের রাজনীতির লক্ষ্য।”
স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ায় কোনো বিরোধ থাকতে পারে না, বিরোধ নেই।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরুর সময় স্পিকারের চেয়ার শূন্য ছিল। অধিবেশনে সভাপতিত্বের জন্য প্রবীণ সংসদ সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার প্রস্তাবে সমর্থন জানান বিএনপির মহাসচিব ও সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পরে বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও এই প্রস্তাবে সমর্থন জানান।
এর আগে গত ২৩ ফেব্রুয়ারি সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করেন। সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের গেজেট প্রকাশিত হয় ১৩ ফেব্রুয়ারি। নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টি আসনে জয় লাভ করে, যার মধ্যে বিএনপি একাই পায় ২০৯টি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট পায় ৭৬টি আসন, যার মধ্যে জামায়াত একাই জয় পায় ৬৮টি আসনে।