কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোঃ কামরুল ইসলাম কামু বললেন — “আমি ক্ষমতার লোভী নই, আপনাদের সেবক হতে চাই”
তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক — তারেক রহমান
- আপডেট সময় : ১১:৫১:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ অক্টোবর ২০২৫
- / ২৩২৪ বার পড়া হয়েছে

রাষ্ট্র মেরামতের বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও ধানের শীষের বিজয়ের লক্ষ্যে এরশাদনগরে প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা
“তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের জন্য হোক”- দেশনায়ক তারেক রহমানের এই ঐতিহাসিক আহ্বানে সাড়া দিয়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪৯নং ওয়ার্ডের এরশাদনগরের ৪নং ব্লকে আরমান স্কুল মাঠ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় এক প্রাণবন্ত মতবিনিময় সভা। সভাটি ছিল রাষ্ট্র মেরামতের বিএনপি’র ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার অঙ্গীকারে পরিপূর্ণ।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বৃহত্তর টঙ্গী থানা যুবদলের সাবেক ১নং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ৪৯নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম কামু। সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪নং ব্লক বিএনপি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক হামিদ চাকলাদার, এবং অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জাসস কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বাবুল চৌধুরী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৪৯নং ওয়ার্ড বিএনপি’র সাবেক সভাপতি মজিবর মাস্টার, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল মান্নান মনা, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মাহমুদ, যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল মালেক, বিএনপি সহ-সভাপতি মনসুর কন্ট্রাক্টর, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সভাপতি আলাউদ্দিন মিয়া, মোঃ মিরাজ মিয়া, সাধারণ সম্পাদক ১নং বাজার পরিচালনা কমিটি, যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি শাহজাহান মিয়া, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বাবুল কসাই, ৩নং ব্লক বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক জিয়াউদ্দিন জিয়া, মহিলা দল নেত্রী পিয়ারা আক্তার প্রিয়া, লাইলী, মুক্তা, সূর্যবান বেগম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
বক্তব্যে মোঃ কামরুল ইসলাম কামু বলেন, “আমার জীবনের দীর্ঘ ১৭ বছর কেটেছে কারাগারে। আওয়ামী লীগের সময় আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে জেলে পাঠানো হয়েছিল। জেলে থাকা অবস্থায় আমার মা, আমার ছেলে, আত্মীয়স্বজন- সবাই একে একে চলে গেছেন। অথচ আমি একবারও জানাজায় অংশ নিতে পারিনি। এই কষ্ট কেউ বুঝবে না, যদি নিজে না ভোগ করে।”
তিনি আরও বলেন, “আজ কিছু নেতা বলেন, আমি নাকি আন্দোলন করিনি, রাস্তায় নামিনি। আমি তখন জেলে ছিলাম! আমি কোথায় নামব? আমি তখনও দলের প্রতি অবিচল ছিলাম। যখন কেউ ছিল না, তখন আমরা মাঠে ছিলাম, টঙ্গীর রাজনীতির হাল ধরেছিলাম।” কামরুল ইসলাম কামু বলেন, “আমি টঙ্গীর বিধবা ও অসহায় নারীদের পাশে থেকেছি, কাপড়, টাকা, চিকিৎসা, যা পেরেছি দিয়েছি। আমি কাউন্সিলর হতে আসিনি ক্ষমতার লোভে নয়, এসেছি সেবক হিসেবে। আমি হব আপনাদের রক্ষক, বক্ষক নয়-প্রকৃত রক্ষক।”
তিনি আরও বলেন, “এই এলাকায় গ্যাস সংকট নিরসন করে ঘরে ঘরে গ্যাস সংযোগ নিশ্চিত করব, যুবকদের চাকরির ব্যবস্থা করব, মহিলাদের জন্য সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র পুনরুদ্ধার করব, ছিনতাই ও মাদক দমনের জন্য প্রতিটি গলিতে সিসি ক্যামেরা বসাব এবং রাস্তাঘাট-ড্রেন সংস্কার অব্যাহত রাখব।” “আমি জেলে থেকেও এলাকার খবর নিয়েছি। এখনো প্রতিদিন রাস্তায় ঘুরে দেখি কোথায় মানুষ কষ্টে আছে। আমি গরিবের বন্ধু হতে চাই, বড় নেতা নয়।”
“অনেকে বলে ক্লিন ইমেজ দরকার। আমি বলি, আমার চেয়ে ক্লিন ইমেজের মানুষ যদি পান, তাহলে তাকেই ভোট দিন। না পেলে আমাকেই দিন। আমি রাজনীতি করি আল্লাহকে সাক্ষী রেখে, মানুষের দোয়া পাওয়ার আশায়।”
আল্লাহ তায়ালা বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন উৎসর্গ করে, সে আল্লাহর নিকট শ্রেষ্ঠ পুরস্কারের অধিকারী।” (সূরা আল-মায়িদাহ ৫:৩২), এই বার্তাকে ধারণ করে কামরুল ইসলাম কামু বলেন, “আমি নেতা হতে চাই না, সেবক হতে চাই। আল্লাহ যদি তাওফিক দেন, ইনশাআল্লাহ এই এলাকার প্রতিটি দরজায় উন্নয়নের আলো পৌঁছে দেব।”

অনুষ্ঠানের শেষে এলাকার সম্মানিত ইমামদের নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত হয় এক আবেগঘন বিশেষ মোনাজাত। প্রায় আড়াই হাজার মানুষের উপস্থিতিতে সেখানে এলাকার মৃত আত্মীয়স্বজন, শহীদ নেতাকর্মী এবং জাতির শান্তি কামনায় দোয়া করা হয়। পরে সকলকে গরুর মাংসের ভুনা খিচুড়ি তবারক পরিবেশন করা হয়। সভা শেষে মুরুব্বি, তরুণ, নারী ও শিশু সবাই হাত তুলে একসঙ্গে দোয়া করেন, “আল্লাহ, আমাদের এই সেবক কামরুল ইসলাম কামুকে হেদায়েত দাও, শক্তি দাও যেন তিনি আমাদের প্রকৃত অভিভাবক হতে পারেন।”



















