শান্তিপূর্ণ ভোটের পর উত্তেজনা ছড়াল ক্যাম্পাসে, প্রশাসনের সিদ্ধান্তে আজ সব ক্লাস–পরীক্ষা বন্ধ
ঢাবি ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেলের অগ্রগতি, ফল প্রত্যাখ্যানের ঘোষণা একাধিক প্রার্থীর
- আপডেট সময় : ০৯:৩৬:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- / ২১১৮ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে অনুষ্ঠিত হলো বহুল প্রতীক্ষিত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন। মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি কেন্দ্রে ৮১০ বুথে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৩৯ হাজার ৮৭৫ জন শিক্ষার্থী, এর মধ্যে ৭০–৮০ শতাংশ শিক্ষার্থী ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
ভোটগ্রহণ শেষে রাত পৌনে ২টা থেকে কার্জন হলে ফল ঘোষণা শুরু হয় এবং ভোর পর্যন্ত প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশিত হয়। ফলাফলে দেখা যায়, ইসলামী ছাত্রশিবির–সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ভিপি প্রার্থী আবু সাদিক কায়েম, জিএস প্রার্থী এসএম ফরহাদ ও এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান বিপুল ব্যবধানে এগিয়ে আছেন। বিভিন্ন হলে তাদের উল্লেখযোগ্য ভোটব্যবধান লক্ষ্য করা গেছে।
তবে ফলাফল প্রকাশের পরই শুরু হয় বিতর্ক ও উত্তেজনা। ছাত্রদল–সমর্থিত ভিপি প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান এবং স্বতন্ত্র ঐক্য প্যানেলের প্রার্থী উমামা ফাতেমা ফেসবুক পোস্টে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। তারা অভিযোগ করেন, নির্বাচন ছিল ‘কারচুপিপূর্ণ’ ও ‘পরিকল্পিত প্রহসন’।
এদিকে, ফল ঘোষণাকে ঘিরে রাত থেকে ক্যাম্পাসে উত্তেজনা দেখা দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিএনপি, জামায়াতসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হলে পরিস্থিতি জটিল আকার নেয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অতিরিক্ত সতর্ক অবস্থান নেয় এবং ক্যাম্পাসে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরিস্থিতি বিবেচনায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মঙ্গলবার রাতেই এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানায়—আজ বুধবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ক্লাস ও পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডাকসু নির্বাচনে মোট ২৮টি পদে ৪৭১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পাশাপাশি ১৮টি হলে আরও ২৩৪টি পদের জন্য লড়েন ১ হাজার ৩৫ জন প্রার্থী। নারী প্রার্থী ছিলেন ৬২ জন। ভোটারদের ৪১টি পদে ভোট দিতে হয়েছে।
শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণের পরেও ফলাফল ঘিরে বিতর্ক, প্রত্যাখ্যান ও উত্তেজনা পুরো ক্যাম্পাসে ভিন্ন আবহ তৈরি করেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত ডাকসু নির্বাচনে শিবির–সমর্থিত প্যানেলের প্রথমবারের মতো বড় ধরনের অগ্রগতি যেমন আলোচনায় এসেছে, তেমনি নির্বাচন নিয়ে ওঠা অভিযোগ ও প্রশাসনের জরুরি সিদ্ধান্ত শিক্ষাঙ্গনকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে।











