ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মানুষের জন্য বেঁচে থাকা এক মানুষের গল্প প্রাচীন গহনা পরে সমালোচনার মুখে জেনডায়া শক্তিশালী পাসপোর্টের তালিকায় আরও ২ ধাপ পিছাল বাংলাদেশ, শীর্ষে সিঙ্গাপুর ১০ আগস্ট এসএসসির পরীক্ষার ফল প্রকাশের সিদ্ধান্ত আন্তঃশিক্ষা বোর্ডের অভিযোগ, সংগ্রাম ও আত্মপক্ষ সমর্থনের এক আলোচিত অধ্যায় দাঁড়াইলের মনোয়ার হোসেন খোকন: বিচারাধীন মামলার মাঝেও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান, সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের বক্তব্য শ্রদ্ধা, দোয়া ও মানবসেবার অনন্য দৃষ্টান্ত: পিতা লাল মোহাম্মদের মৃত্যুবার্ষিকীতে আলহাজ্ব বছির আহম্মেদ বাবুর ব্যতিক্রমী গণ-দাওয়াত আর-রহমান জামে মসজিদের উন্নয়নে অনুদানের উদ্যোগ দাঁড়াইলের ঘটনা নিয়ে নীরবতা ভাঙলেন মনোয়ার হোসেন খোকন নতুন নৌপ্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‌্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীতে স্বামীকে হত্যার অভিযোগে স্ত্রী গ্রেপ্তার ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৩ টন চাল বিতরণে মানবিক উদ্যোগ: এরশাদনগরে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের পাশে কাউন্সিলর পদপ্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম কামু

অভিযোগের দেড় মাস পেরোলেও মেলেনি সমাধান; ক্ষতিপূরণ বা ভ্যান উদ্ধার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোভ্যান হারিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কুরবান মিয়া

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
  • / ১৫৯৮ বার পড়া হয়েছে




একটি অটোভ্যানগাড়ি কারও কাছে হয়তো সাধারণ একটি যানবাহন। কিন্তু নিম্ন আয়ের একজন মানুষের কাছে সেটিই জীবনের চাকা, পরিবারের অন্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই অটোভ্যান হারিয়ে আজ দেড় মাসের বেশি সময় ধরে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন টঙ্গীর এরশাদনগরের বাসিন্দা মোঃ কুরবান মিয়া। তার অভিযোগ, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে তানভীর (তানজিল) নামে এক ব্যক্তি ভাড়ার কথা বলে তার অটোভ্যানটি নিয়ে যান। নির্ধারিত সময়ে ভাড়া ও গাড়ি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর সেটি ফেরত দেননি। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন কুরবান মিয়া। এ ঘটনায় ৭ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তভার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর ন্যস্ত হয় বলে তিনি জানান।
তিন-চারবার থানায় গিয়েও সমাধান হয়নি বাদীর দাবি, কুরবান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ করার পর তিনি অন্তত তিনবার থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। প্রতিবারই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস পেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে তার দাবি। তার আরও দাবি, ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তাকে জানানো হয় যে অভিযুক্তের বাবা মধু মিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করা হবে।
এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ৬০ হাজার টাকার সম্পদ হারিয়ে অসহায় পরিবার, কুরবান মিয়ার দাবি, তার অটোভ্যানটির বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, যদি ভ্যানটি উদ্ধার সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত তার ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেলেও তিনি নতুন করে জীবিকা শুরু করতে পারবেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচনার সময় তুলনামূলক কম অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে তিনি জানান। এই দাবির বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। “আমি ভ্যান চাই, না হলে ন্যায্য মূল্য চাই” কুরবান মিয়ার কণ্ঠে ক্ষোভের পাশাপাশি রয়েছে অসহায়ত্ব। তার ভাষায়, “আমি কারও ক্ষতি চাই না। আমি শুধু আমার ভ্যানটা ফেরত চাই। যদি সেটা আর পাওয়া না যায়, তাহলে অন্তত এর ন্যায্য মূল্য যেন পাই। এই ভ্যানই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।”
পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হোক। বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে ভুক্তভোগী যেমন উপকৃত হন, তেমনি জনগণের আস্থাও আরও দৃঢ় হয়। প্রকাশের সময় পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
একটি অটোভ্যানের মূল্য হয়তো কাগজে-কলমে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু একজন শ্রমজীবী মানুষের কাছে সেটির মূল্য তার পুরো সংসারের ভবিষ্যৎ। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ঘাটিত হোক, ভ্যান উদ্ধার বা আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত হোক এটাই ভুক্তভোগী কুরবান মিয়ার প্রত্যাশা এবং ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী মানুষেরও প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

অভিযোগের দেড় মাস পেরোলেও মেলেনি সমাধান; ক্ষতিপূরণ বা ভ্যান উদ্ধার চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা

জীবিকার একমাত্র অবলম্বন অটোভ্যান হারিয়ে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় কুরবান মিয়া

আপডেট সময় : ১০:০৭:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

একটি অটোভ্যানগাড়ি কারও কাছে হয়তো সাধারণ একটি যানবাহন। কিন্তু নিম্ন আয়ের একজন মানুষের কাছে সেটিই জীবনের চাকা, পরিবারের অন্ন, সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং বেঁচে থাকার অবলম্বন। সেই অটোভ্যান হারিয়ে আজ দেড় মাসের বেশি সময় ধরে উদ্বেগ, হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন টঙ্গীর এরশাদনগরের বাসিন্দা মোঃ কুরবান মিয়া। তার অভিযোগ, গত ৪ জুন ২০২৬ তারিখে তানভীর (তানজিল) নামে এক ব্যক্তি ভাড়ার কথা বলে তার অটোভ্যানটি নিয়ে যান। নির্ধারিত সময়ে ভাড়া ও গাড়ি ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও পরে আর সেটি ফেরত দেননি। পরবর্তীতে যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনো ফল পাননি বলে অভিযোগ করেন কুরবান মিয়া। এ ঘটনায় ৭ জুন ২০২৬ তারিখে তিনি টঙ্গী পূর্ব থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের তদন্তভার একজন উপপরিদর্শকের (এসআই) ওপর ন্যস্ত হয় বলে তিনি জানান।
তিন-চারবার থানায় গিয়েও সমাধান হয়নি বাদীর দাবি, কুরবান মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযোগ করার পর তিনি অন্তত তিনবার থানায় গিয়ে তদন্তের অগ্রগতি জানতে চান। প্রতিবারই বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তির আশ্বাস পেলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধান হয়নি বলে তার দাবি। তার আরও দাবি, ১৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হলে তাকে জানানো হয় যে অভিযুক্তের বাবা মধু মিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং শিগগিরই উভয় পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করা হবে।
এই বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা এই প্রতিবেদনের পক্ষ থেকে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ৬০ হাজার টাকার সম্পদ হারিয়ে অসহায় পরিবার, কুরবান মিয়ার দাবি, তার অটোভ্যানটির বর্তমান আনুমানিক মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা। তিনি বলেন, যদি ভ্যানটি উদ্ধার সম্ভব না হয়, তাহলে অন্তত তার ন্যায্য বাজারমূল্যের সমপরিমাণ ক্ষতিপূরণ পেলেও তিনি নতুন করে জীবিকা শুরু করতে পারবেন।
তার অভিযোগ অনুযায়ী, আলোচনার সময় তুলনামূলক কম অঙ্কের অর্থ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি বলে তিনি জানান। এই দাবির বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। “আমি ভ্যান চাই, না হলে ন্যায্য মূল্য চাই” কুরবান মিয়ার কণ্ঠে ক্ষোভের পাশাপাশি রয়েছে অসহায়ত্ব। তার ভাষায়, “আমি কারও ক্ষতি চাই না। আমি শুধু আমার ভ্যানটা ফেরত চাই। যদি সেটা আর পাওয়া না যায়, তাহলে অন্তত এর ন্যায্য মূল্য যেন পাই। এই ভ্যানই ছিল আমার পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস।”
পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা আরও শক্তিশালী হোক। বাংলাদেশের সংবিধান এবং প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রতিটি নাগরিক ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রাখেন। পুলিশ জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। তাই অভিযোগের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত হলে ভুক্তভোগী যেমন উপকৃত হন, তেমনি জনগণের আস্থাও আরও দৃঢ় হয়। প্রকাশের সময় পর্যন্ত তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযুক্ত পক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
একটি অটোভ্যানের মূল্য হয়তো কাগজে-কলমে ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু একজন শ্রমজীবী মানুষের কাছে সেটির মূল্য তার পুরো সংসারের ভবিষ্যৎ। অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দ্রুত উদ্ঘাটিত হোক, ভ্যান উদ্ধার বা আইন অনুযায়ী যথাযথ প্রতিকার নিশ্চিত হোক এটাই ভুক্তভোগী কুরবান মিয়ার প্রত্যাশা এবং ন্যায়বিচারে বিশ্বাসী মানুষেরও প্রত্যাশা।