মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপই হবে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ভিত্তি- সোহেল চৌধুরী
- আপডেট সময় : ০২:২৫:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৭৮ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুর মহানগরের ৪৯ নম্বর ওয়ার্ড, এরশাদ নগর আমাদের প্রিয় আবাসভূমি। এই এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ, আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা যারা সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে দায়িত্বশীল, তাদের প্রত্যেকেরই ভাবতে হবে। একটি সুন্দর, নিরাপদ ও বাসযোগ্য এলাকা গড়ে তোলা শুধু কোনো একক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব নয়; এটি আমাদের সবার সম্মিলিত দায়িত্ব।
এরশাদ নগরের অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে মাদক ও সন্ত্রাসের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মাদক শুধু একজন ব্যক্তির জীবন নষ্ট করে না, এটি একটি পরিবারকে বিপর্যস্ত করে, সমাজের শান্তি বিনষ্ট করে এবং আমাদের তরুণ প্রজন্মের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে। অন্যদিকে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মতো কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তাকে বাধাগ্রস্ত করে। আমি বিশ্বাস করি, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে কার্যকর লড়াই করতে হলে শুধু বক্তব্য নয়, প্রয়োজন সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা, দায়িত্বশীল নেতৃত্ব এবং বাস্তব পদক্ষেপ। কোনো অপরাধী যেন রাজনৈতিক পরিচয়, প্রভাব কিংবা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে না পারে, এমন একটি ন্যায়ভিত্তিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। অপরাধের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনানুগ ব্যবস্থা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের যথাযথ গুরুত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
আমাদের তরুণ সমাজকে রক্ষা করা এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। খেলাধুলার মাঠ, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, শিক্ষামূলক আয়োজন ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের ইতিবাচক কাজে সম্পৃক্ত করতে হবে। মাদকাসক্তদের ক্ষেত্রে চিকিৎসা, কাউন্সেলিং ও পুনর্বাসনের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে। কারণ একজন তরুণকে অপরাধের পথ থেকে ফিরিয়ে আনা মানে একটি পরিবার ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করা। আমি মনে করি, মাদক ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক, শিক্ষক, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলা প্রয়োজন। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মতবিনিময়, সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কার্যকরভাবে বিষয়গুলো তুলে ধরতে হবে।
আমার অঙ্গীকার হলো,৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে আমি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করব। ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে জনস্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং এলাকার মানুষের ন্যায্য দাবিগুলো যথাযথভাবে তুলে ধরা আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক দায়িত্ব। আমরা এমন একটি এরশাদ নগর গড়ে তুলতে চাই, যেখানে মানুষ ভয়ভীতিমুক্ত পরিবেশে বসবাস করবেন, তরুণরা মাদকের পরিবর্তে শিক্ষার ও সৃজনশীলতার পথে এগিয়ে যাবে এবং আইনের শাসন সবার জন্য সমানভাবে কার্যকর থাকবে।
আসুন, দল-মত ও ব্যক্তিগত বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটি ঐক্যবদ্ধ সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলি। প্রশাসনের দায়িত্বশীল ভূমিকা, জনগণের সচেতনতা এবং আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডকে আরও নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও সম্ভাবনাময় জনপদে রূপান্তরের পথে এগিয়ে যাই। এরশাদ নগরের মানুষের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণে আমাদের অঙ্গীকার হোক বাস্তব, আমাদের উদ্যোগ হোক কার্যকর এবং আমাদের লক্ষ্য হোক একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠা।
সোহেল চৌধুরী, সাবেক আহবায়ক সদস্য, টঙ্গী পূর্ব থানা বিএনপি, যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক, ৪৯নং ওয়ার্ড বিএনপি।


















