ঢাকা ০৯:৩৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন

পরিশোধনের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নেই

md younus
  • আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • / ২০১৮ বার পড়া হয়েছে




পরিশোধনের জন্য দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র মাত্র ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত রয়েছে। যা দিয়ে কারখানাটি ১০ থেকে ১২ দিন চলবে। প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন। যদিও বর্তমানে ওই কারখানায় বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। পরিশোধিত ওসব তেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ভোক্তার হাতে যাচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬৮ সালে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) প্রতিষ্ঠানটিতে পরিশোধন করা হয়। অপরিশোধিত তেল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন। তবে অকটেন এই প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় না। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ওই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইধারএল রিসিভ করে। সেগুলো পরিশোধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে কারাখানায় অপরিশোধিত তেলের সংকট আছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানির এক লাখ টন তেল ভর্তি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। ২ মার্চ সকালে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে সেটি আটকা পড়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। তাছাড়া আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ অপরিশোধিত তেল নিয়ে ২১ মার্চ দেশের উদ্দেশে আরো একটি জাহাজ রওনা দেয়ার কথা ছিল। সেটির শিডিউল বাতিল করা হয়। নতুন করে আরো একটি জাহাজে আগামী ২১ এপ্রিল তেল লোড করার শিডিউল আছে। সেটি নির্দিষ্ট সময়ে তেল লোড করলে আগামী ১ অথবা ২ মে দেশে পৌঁছাবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ দিন লেগে যায়।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল অর্থাৎ অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত আছে। যা দিয়ে ১০-১২ দিন চলবে। তারপর অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়াসহ বিকল্প দেশ থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার চেষ্টা চলছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ ক্রুড অয়েলের নমুনা পাঠিয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করে কয়েকটি থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো কিনলেও আসতে একটু সময় লাগবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

পরিশোধনের জন্য ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নেই

আপডেট সময় : ১০:২৪:৫৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

পরিশোধনের জন্য দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের মজুত নেই। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির হাতে মাত্র মাত্র ৪০ হাজার টন অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত রয়েছে। যা দিয়ে কারখানাটি ১০ থেকে ১২ দিন চলবে। প্রতিষ্ঠানটি দৈনিক সাড়ে ৪ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন। যদিও বর্তমানে ওই কারখানায় বর্তমানে দৈনিক ৩ হাজার ৮০০ টন করে তেল পরিশোধন করা হচ্ছে। পরিশোধিত ওসব তেল বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) মাধ্যমে ভোক্তার হাতে যাচ্ছে। ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, ১৯৬৮ সালে দেশের একমাত্র সরকারি জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড (ইআরএল) প্রতিষ্ঠিত হয় চট্টগ্রামের পতেঙ্গায়। অপরিশোধিত তেল (ক্রুড অয়েল) প্রতিষ্ঠানটিতে পরিশোধন করা হয়। অপরিশোধিত তেল থেকে পরিশোধনের মাধ্যমে উৎপাদন করা হয় ডিজেল, পেট্রল, ফার্নেস অয়েল, এলপিজি, জেট ফুয়েল ও বিটুমিন। তবে অকটেন এই প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন করা হয় না। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার প্রেক্ষিতে চলমান যুদ্ধে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে পড়েছে। তাতে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ওই প্রণালি দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিবহন করা হয়। ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে তার প্রভাব আমদানিনির্ভর বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। যদিও হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশসহ পাঁচটি দেশের জাহাজ চলাচলে অভয় দেয়া হয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল ইধারএল রিসিভ করে। সেগুলো পরিশোধন করা হচ্ছে। প্রতিদিন ৩ হাজার ৮০০ থেকে চার হাজার মেট্রিক টন তেল পরিশোধ করা হচ্ছে। বর্তমানে কারাখানায় অপরিশোধিত তেলের সংকট আছে। ইস্টার্ন রিফাইনারির জন্য আমদানির এক লাখ টন তেল ভর্তি জাহাজ সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে অপেক্ষা করছে। ২ মার্চ সকালে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও হরমুজ প্রণালি বন্ধের কারণে সেটি আটকা পড়েছে। পরিস্থিতি ভালো হলে জাহাজটি দেশের উদ্দেশে রওনা দেবে। তাছাড়া আরব আমিরাত থেকে আরও এক লাখ অপরিশোধিত তেল নিয়ে ২১ মার্চ দেশের উদ্দেশে আরো একটি জাহাজ রওনা দেয়ার কথা ছিল। সেটির শিডিউল বাতিল করা হয়। নতুন করে আরো একটি জাহাজে আগামী ২১ এপ্রিল তেল লোড করার শিডিউল আছে। সেটি নির্দিষ্ট সময়ে তেল লোড করলে আগামী ১ অথবা ২ মে দেশে পৌঁছাবে। সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে জাহাজ পৌঁছাতে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ দিন লেগে যায়।
সূত্র আরো জানায়, বর্তমানে ইস্টার্ন রিফাইনারিতে মাত্র ৪০ হাজার মেট্রিক টন কাঁচামাল অর্থাৎ অপরিশোধিত (ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল) তেলের মজুত আছে। যা দিয়ে ১০-১২ দিন চলবে। তারপর অপরিশোধিত তেলের সংকটে দেশের একমাত্র পরিশোধনাগার বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মুহাম্মদ মামুনুর রশীদ খান জানান, মালয়েশিয়া, নাইজেরিয়াসহ বিকল্প দেশ থেকে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েল কেনার চেষ্টা চলছে। সরকার বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে দেখছে। ইতিমধ্যে কয়েকটি দেশ ক্রুড অয়েলের নমুনা পাঠিয়েছে। সেগুলো পরীক্ষা করে কয়েকটি থেকে কেনার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো কিনলেও আসতে একটু সময় লাগবে।