ঢাকা ০৮:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা ও সমাজসেবায় নিবেদিত কামাল উদ্দিন খাইলকুর বাদশাহ মিয়া অগ্রণী উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত গ্রীষ্মের আগেই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে ৪ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসক-কর্মকর্তাদের পেলেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই নার্সকে বদলির নির্দেশ সততাকে ভিত্তি, জনতাকে শক্তি করে জনসেবায় আব্দুল আউয়াল সরকার গার্মেন্টস শিল্পে নৈরাজ্যের প্রতিবাদে টঙ্গীতে বিএনপির আলোচনা সভা আত্মসমর্পণের শর্তে আগাম জামিন পেলেন শাহজালাল রুমী শ্রমিক আন্দোলন ঘিরে নাশকতা প্রতিরোধে মাঠে বিএনপি, শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নেতৃত্বে নয়ন এমপি ও শওকত হোসেন সরকার রিফাত-জুম্মনকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে উত্তাল এরশাদনগর রাজপথের পরীক্ষিত কর্মী বেনজীর রহমান খান পিন্টু পদ-পদবির অহংকার নয়, মানুষের সেবাই কাজী হুমায়ূন কবিরের রাজনীতির মূল দর্শন

‘হ্যাঁ’ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, ‘না’ ভোটে পরাজয়: জামায়াত আমির

md younus
  • আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • / ২১৪৪ বার পড়া হয়েছে




গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই বাংলাদেশের বিজয়ের পথ, আর ‘না’ ভোট মানেই পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতার লড়াই নয়, পুরো জাতিকে বিজয়ী করতেই জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করছে। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত একাধিক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থনে এই জনসভাগুলোর আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বাস্তবে এতে আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী না হলে সরকার গঠন কোনো কাজে আসবে না।” তাঁর ভাষায়, গণভোটে জনগণের রায়ই ঠিক করবে ফ্যাসিবাদ ও দখলদার রাজনীতির ভবিষ্যৎ।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, যেসব দল একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়, অন্যদিকে তাদের কর্মীরাই নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করছে। তিনি বলেন, “যারা এখন মা বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই বোঝা যায়।” এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে। নারীদের হাতে শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে। আমরা এ ধরনের রাজনীতি চাই না, দেখতেও চাই না।” তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পর মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। এসব থেকে মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজে পাঁচশ শয্যার হাসপাতাল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এই পাল্লায় কোনো কমবেশি হবে না। ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ। বস্তাপচা রাজনীতি নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা বেকার ভাতা দিয়ে নয়, সম্মানের কাজ দিয়ে যুবসমাজকে গড়ে তুলতে চাই।”
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সভার শেষ পর্যায়ে যশোরের বিভিন্ন আসনের জামায়াত ও জোটপ্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

‘হ্যাঁ’ ভোটে বাংলাদেশ জিতবে, ‘না’ ভোটে পরাজয়: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ০১:৫৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটই বাংলাদেশের বিজয়ের পথ, আর ‘না’ ভোট মানেই পরাজয় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ক্ষমতার লড়াই নয়, পুরো জাতিকে বিজয়ী করতেই জামায়াতে ইসলামী রাজনীতি করছে। তাই গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং পরবর্তী সময়ে দলীয় প্রতীক দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত একাধিক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন জামায়াত আমির। জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও আসন্ন গণভোটকে সামনে রেখে ১০ দলীয় জোটের প্রার্থীদের সমর্থনে এই জনসভাগুলোর আয়োজন করা হয়।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও কোনো কোনো রাজনৈতিক দল বাস্তবে এতে আন্তরিক নয়। তিনি বলেন, “গণভোটে হ্যাঁ মানে আজাদি, আর না মানে গোলামি। হ্যাঁ ভোট বিজয়ী না হলে সরকার গঠন কোনো কাজে আসবে না।” তাঁর ভাষায়, গণভোটে জনগণের রায়ই ঠিক করবে ফ্যাসিবাদ ও দখলদার রাজনীতির ভবিষ্যৎ।
নারীদের নিরাপত্তা ও মর্যাদার প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, যেসব দল একদিকে ফ্যামিলি কার্ডের প্রতিশ্রুতি দেয়, অন্যদিকে তাদের কর্মীরাই নির্বাচনী মাঠে নারী কর্মীদের লাঞ্ছিত করছে। তিনি বলেন, “যারা এখন মা বোনদের সম্মান দিতে পারে না, তারা ক্ষমতায় গেলে কী করবে, তা সহজেই বোঝা যায়।” এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে সংগঠিত প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলে বেকারত্ব দূরীকরণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে জনসম্পদে রূপান্তর করা হবে। নারীদের হাতে শুধু ফ্যামিলি কার্ড নয়, কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। একই সঙ্গে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও যোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা ও রাষ্ট্রীয় সম্মান নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মামলা বাণিজ্যের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “দুর্নীতি রাষ্ট্রকে ভেতর থেকে ক্ষয় করে। আমরা এ ধরনের রাজনীতি চাই না, দেখতেও চাই না।” তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই আন্দোলনের পর মামলা বাণিজ্যের মাধ্যমে মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে। এসব থেকে মুক্তির জন্য দাঁড়িপাল্লায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
যশোরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে যশোর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা হবে। পাশাপাশি মেডিকেল কলেজে পাঁচশ শয্যার হাসপাতাল, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা ও নাগরিক সেবা উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রতীক দাঁড়িপাল্লা। এই পাল্লায় কোনো কমবেশি হবে না। ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে প্রত্যেককে তার প্রাপ্য বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”
যুবসমাজের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, আগামীর বাংলাদেশ হবে তরুণদের বাংলাদেশ। বস্তাপচা রাজনীতি নয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা বেকার ভাতা দিয়ে নয়, সম্মানের কাজ দিয়ে যুবসমাজকে গড়ে তুলতে চাই।”
যশোর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক গোলাম রসুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এসব জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম সাদ্দামসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা। সভার শেষ পর্যায়ে যশোরের বিভিন্ন আসনের জামায়াত ও জোটপ্রার্থীদের জনগণের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।